সিঙ্গুরের মতো জমি ফেরতের দাবি বর্ধমানেও, আন্দোলনে বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দারা

সিঙ্গুর পেরেছে। সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক রায়ে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বর্ধমান বৈকুণ্ঠপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮০ জন মালিক।

সিঙ্গুর পেরেছে। সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক রায়ে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বর্ধমান বৈকুণ্ঠপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮০ জন মালিক।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #বর্ধমান: সিঙ্গুর পেরেছে। সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক রায়ে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বর্ধমান বৈকুণ্ঠপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮০ জন মালিক। তাদের অভিযোগ, ২০০৫ সালে প্রায় সাড়ে দশ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন বাম সরকার। এরপরে ওই জমিতে কোনও কাজ হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেই ঘোষণা করেছিলেন বর্ধমানে মিষ্টি বাংলা হাব তৈরি করবেন। সেই মতো বর্ধমান জেলা প্রশাসন ওই সাড়ে দশ একর জমিতে তা করার প্রস্তাব দেন। বুধবারই সেখানে হাব তৈরির কাজ শুরু হয়। তবে মালিকদের অভিযোগ, জমি নেওয়া হলেও, কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাই তারা জমি ফেরত চেয়ে আজ থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে রয়েছে, বর্ধমান থানার পুলিশ।

    পুজোর আগেই উৎসবের মেজাজে সিঙ্গুরবাসী। ১০ বছরের অপেক্ষা শেষে জমি ফেরত পাচ্ছেন সিঙ্গুরের জমি মালিকরা। সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ রায দেওয়ার পরেই খুশির জোয়ারে ভেসে যায় সিঙ্গুরের মানুষ। শাঁখ বাজিয়ে এই রায়কে স্বাগত জানান তাঁরা। সকাল থেকেই রায শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল বেড়াবেড়ি, বাজেমেলিয়া, সিংহেরভেড়ি এলাকার মানুষ। রায় শোনার পরে মুহূর্তের অপেক্ষা। তারপর শুধুই উৎসব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি হাতে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন কয়েকশো মানুষ।মুখ্যমন্ত্রী ছবি নিয়ে সেই উৎসবে সিঙ্গুরের আকাশের রঙ যেন ছিল আজ শুধুই সবুজ।

    কোলে আড়াই বছরের শিশুকে নিয়ে জমি বাঁচাও আন্দোলনে নেমে জেল খাটা কৃষ্ণা বাগ। তার সেই কোলের শিশু আজ কিশোরী। সবাই স্মৃতিকাতর। সবুজ আবীর মাখিয়ে এই রায়কে স্বাগত জানান।শীর্ষ আদালত আরও রায় দিয়েছেন, রাজ্য সরকার থেকে যারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, তাদের সেই টাকা ফেরত দিতে হবে না। আন্দোলনের আগুন কেড়ে নিয়েছিল মেয়ের প্রাণ।তাই আবেগমথিত তাপসী মালিকের বাবাও। এর মাঝেই বিষাদ কঙ্কাল টাটাদের ফেলে যাওয়া কারখানা।

    এই জয়ের পর সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘২০০৬ এর দিনগুলি মনে পড়ছে ৷ ভোলা যায় না সেই দিনগুলির কথা ৷ সিঙ্গুর রায় সমগ্র কৃষকসমাজের জয় ৷ আমরা অধিকার পেয়েছি ৷’ একইসঙ্গে অধিগৃহীত জমির বর্তমান অবস্থা নিয়ে দ্বিধান্বিত বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘সেই জমিতে চাষ করা যাবে কিনা চিন্তা করব ৷ যে জমি চাষের অযোগ্য ৷ সেখানে শিল্প গড়তে টাটাদের স্বাগত ৷’

    অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর রায় শোনার পর সাংবাদিক বৈঠকে নিজের খুশি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি খুবই খুশি হয়েছি ৷ এটা আমার কাছে আনন্দাশ্রুর জয় ৷’ ১৪ তারিখ কেন্দ্রীয়ভাবে সিঙ্গুরে বিজয়োৎসবের পালনের কথা ঘোষণা করেন তিনি ৷

    First published: