কাঁথি কোনও পরিবারের জমিদারি নয়, মীরজাফর-জগৎ শেঠদের মানুষ মেনে নেয় না, শুভেন্দুকে তোপ সৌগতর

আর কত শুভেন্দুর চাই? এটাই আমার প্রশ্ন, জানালেন সৌগত

আর কত শুভেন্দুর চাই? এটাই আমার প্রশ্ন, জানালেন সৌগত

  • Share this:

    #কাঁথি: রাজ্য রাজনীতির হটস্পট আজ কাঁথি ৷ প্রথমবার শুভেন্দুকে ছাড়া অধিকারী গড় বলে পরিচিত কাঁথিতে জোড়াফুলের মিটিং ৷ শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি যোগদানের পরে কাঁথিতে তৃণমূলের প্রথম সভা থেকেই চড়া সুরে শুভেন্দুকে আক্রমণ সৌগত রায়ের ৷ বলেন, ‘বিশ্বাস ঘাতকদের কখনও মেনে নেয় না বাংলা ৷ কাঁথি কোনও পরিবারের জমিদারি নয় ৷ শ্রীমান শুভেন্দু মীরজাফরদের দলে নাম লিখিয়েছেন ৷’ শুভেন্দুকে আক্রমণের পাশাপাশি এদিন অধিকারীদের বিরোধী শিবির অখিল গিরির ভূয়সী প্রশংসা করেন ৷

    শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া কাঁথিতে তৃণমূলের প্রথম সভা ৷ জনসমাগম দেখে সৌগত রায়ের দাবি, ‘কাঁথিতে এত বড় মিছিল আগে হয়নি ৷ কাঁথির মানুষ মমতাকে ভালবাসেন ৷ মিছিল দেখাচ্ছে মমতার সঙ্গেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ৷ মিছিলের লোক সমাগমেই প্রমাণিত,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প নেই ৷ লড়াই করে উঠে এসেছেন মমতা ৷ তিনি না থাকলে নন্দীগ্রাম থেকে সিপিএম যেত না ৷ কে তৃণমূল ছেড়ে চলে গেল তাতে কিছু যায় আসে না ৷ সমুদ্র থেকে ২ ঘটি জল তুললে কি সমুদ্রের কিছু হয়?’

    দল বদলের পর থেকে নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ককে কোনও রাখঢাক না করেই আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন যারা তাদের মধ্যে অন্যতম সৌগত রায় ৷ দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কেই শুভেন্দুর সঙ্গে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বার দুয়ের মুখোমুখি বৈঠক হলেও স্পষ্ট সমাধান বেরোয়নি ৷ ২১-এর ভোট যুদ্ধের চুড়ান্ত মুহূর্তে দল বদলে বিরোধী দলে শুভেন্দু ৷ সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন সৌগত রায় বলেন, ‘মমতার প্রিয় ছিলেন শুভেন্দু ৷ ২০০১, ২০০৬ ভোট দাঁড়িয়েও জিততে পারেননি শুভেন্দু ৷ প্রথম দুবার জিততে না পারলেও লোকসভায় টিকিট দিয়েছিলেন মমতা ৷ নন্দীগ্রাম শহীদের মাকে ফিরোজা বিবিকে পাঁশকুড়া সিটে সরিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড় করিয়েছিলেন শুভেন্দুকে ৷ নন্দীগ্রামের আন্দোলন সুফিয়ানের মতো স্থানীয়রা করেছেন। মমতা নেতৃত্ব দিয়েছেন। কোনও সরস্বতীর পরমপুত্র এসে সুন্দর চেহারা নিয়ে আন্দোলন করেননি৷ ২০১৬-তে মন্ত্রী করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব ওর হাতে তুলে দিয়েছিলেন নেত্রী ৷ পরে তো তিনটে দফতরের দায়িত্ব ছিল ওর হাতে ৷ এছাড়া আরও কত পদ ছিল ওর ৷ মধ্যস্থতার শেষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোয় বারবার বলেছিলাম দুটো দফতরের মন্ত্রী তুমি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে কী করবে৷ বলতে লজ্জা লাগে ৷ আমার প্রশ্ন তোমার আর কত চাই শুভেন্দু ৷ ’

    এখানেই শেষ নয়, বিজেপির মঞ্চ থেকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ ও তৃণমূলের যুব মোর্চার সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানাতে দেখা যায় সৌগত রায়কে ৷ বলেন, ‘ শুভেন্দু অভিষেকের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল আমি মুখোমুখি বসিয়ে দিয়েছিলাম ৷ সেখানে পিকে-ও ছিল ৷ সেই বৈঠকে অভিষেকের হাত ধরে শুভেন্দু বলেছিল ওর কোনও অভিযোগ নেই ৷ তারপর এখন বিজেপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে তোলাবাজ ভাইপো বলে আক্রমণ! ছিঃ শুভেন্দু একটুও লজ্জা করল না?’

    শুভেন্দুকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ সৌগতর ৷ বলেন, ‘কিছু সুবিধেবাদী গান্ধী হত্যাকারীদের দলে যোগদান করেছেন ৷ যাঁরা সতীশ সামন্তের কথা বলেন,তাঁরাই শ্যামাপ্রসাদের দলে ৷ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ৷ মেদিনীপুরের মানুষ তাঁদের ক্ষমা করবে না ৷’ এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের অন্যতম দুঁদে এই নেতার দাবি, ‘মীরজাফর, জগৎ শেঠদের মেনে নেয় না মানুষ ৷মানুষ মীরজাফরকে ঘৃণা করে। ছেলের নাম রাখে সিরাজ। কেউ মীরজাফর রাখে না। শ্রীমাণ শুভেন্দু মীরজাফরদের দলে।  শুভেন্দু এমন কোনও বড় পালোয়ান নন ৷ শুভেন্দুর থেকে বড় পালোয়ান অখিল গিরি ৷ শুভেন্দু বিশ্বাসঘাতকদের দলে নাম লিখিয়েছেন ৷ বাংলার রাজনীতির মান নামিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু ৷ বিশ্বাসঘাতকদের কখনও মেনে নেয় না বাংলা ৷ ’

    একথায় বলতে গেলে একুশের লক্ষে ক্রমশই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ ৷ পৌষ হাড়ে কাঁপুনি ধরালেও রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বড় জার্সিবদল অধ্যায়ের পর ভোট ময়দানের উষ্ণতা ক্রমশই উর্ধ্বগামী ৷

    Published by:Elina Datta
    First published: