'এগিয়ে বিজেপি, আক্রমণ হলে প্রতিহত করবই', শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক শিশির

'এগিয়ে বিজেপি, আক্রমণ হলে প্রতিহত করবই', শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক শিশির

তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব শিশির৷

বিজেপি-তে যোগ দিলেও এ দিন ছেলে শুভেন্দুর পাশেই দাঁড়িয়েছেন শিশিরবাবু৷ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলে থাকতেই শুভেন্দুকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে৷

  • Share this:

#কাঁথি: দলের সঙ্গে অনেকদিনই দূরত্ব তৈরি হয়েছে৷ কিন্তু এতদিন তিনি মুখ খোলেননি৷ এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে বিস্ফোরক কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী৷ প্রবীণ সাংসদের অভিযোগ, নিজের দলই তাঁকে নিকৃষ্ট আক্রমণ করছে৷ যা কোনওদিন তিনি ভাবতেও পারেননি৷ এমন কি, নিজের ছেলে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হয়েও সওয়াল করেছেন শিশির৷ প্রবীণ সাংসদ অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ ভাবে আক্রমণ চলতে থাকলে তিনি তা প্রতিহত করবেন৷

গত ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে শুধুমাত্র খাতায় কলমেই যুক্ত রয়েছেন শিশির অধিকারী৷ তাঁর এক ছেলে সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দলের দূরত্ব বেড়েছে৷ এই দু' জনও বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন শাসক দলে জল্পনা চলছে৷ শুভেন্দুর দলত্যাগের পর পরই শিশির অধিকারী দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ যদিও শিশিরকে জেলায় দলের চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়৷ কিন্তু প্রকাশ্য জনসভা থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নাম না করেই শিশির অধিকারী ও দিব্যেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শাসক দলের একাধিক নেতা৷

এ দিন এই সমস্ত অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন শিশির অধিকারী৷ তিনি বলেন, 'আমার ছেলে, পরিবারের উপরে আক্রমণ হয়েছে৷ আক্রমণ হলে তো আমাকে প্রতিহত করতেই হবে৷ অবর্ণনীয় আক্রমণ হচ্ছে, যা জীবনে কোনও শত্রু আমার বিরুদ্ধে বলতে পারেনি৷ সিপিএম কংগ্রেসের লোকেরাও যা বলতে পারেনি আমার নিজের দলই নিকৃষ্টমানের লোক পাঠিয়ে সেসব বলেছে৷ যাঁদেরকে উপরতলা র নেতা বলে মনে করা হয়, তাঁরাও আক্রমণ করছেন৷'

বিজেপি-তে যোগ দিলেও এ দিন ছেলে শুভেন্দুর পাশেই দাঁড়িয়েছেন শিশিরবাবু৷ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলে থাকতেই শুভেন্দুকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে৷ শিশিরবাবুর বলেন, 'শুভেন্দুকে আক্রমণ করতে বাকি কী রেখেছে? শুধু নন্দীগ্রামেই শুভেন্দুর উপরে এগারোবার আক্রমণ হয়েছে৷ দলে থাকতেই সারদা- নারদা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, যার সব মিথ্যে৷' আক্ষেপের সুরেই প্রবীণ সাংসদ আরও বলেছেন, 'এখন তো বাপ-মা তুলে গালাগালি করছে৷ কোনওদিন ভাবতে পারিনি এসব শুনতে হবে৷ যাঁরা আমাদের দ্বারা উপকৃত হয়েছে দীর্ঘদিন, তাঁরাই এসব বলছে৷ এঁদের মধ্যে তৃণমূলের লোকজনও থাকতে পারে৷'

কিন্তু যাঁরা আক্রমণ করছেন তাঁদের উদ্দেশে কী বলবেন তিনি? কীভাবেই বা প্রতিহত করবেন? শিশিরের মুখে অবশ্য দলবদলের কোনও কথা শোনা যায়নি৷ বরং তাঁর দাবি, তাঁকে যাঁরা ভালবাসেন তাঁদেরকেই বলবেন যে সব অভিযোগ মিথ্যে৷ কাঁথির সাংসদ বলেন, 'রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করব৷ আমাকে বহু মানুষ ভালবাসেন, তাঁরা জিজ্ঞেস করলে বলব এগুলো মিথ্যে কথা৷ আর যাঁরা আক্রমণ করছেন, তাঁদের উদ্দেশে শিশির অধিকারী বলেন, 'রাজনীতির কথা বলুন, অরাজনীতির কথা বলে তো লাভ নেই৷ ' তাহলে বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কি? ক্ষুব্ধ শিশির অধিকারী বলছেন, তিনি তৃণমূলে আছেন কি না তা দলের নেতারাই বলতে পারবেন৷ আর বিজেপি-তে যোগদান নিয়ে তাঁর বক্তব্য, 'এখনও তো সেরকম কোনও নির্দেশ পাইনি৷'

এবারই নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শোনা যাচ্ছে সেই আসনেই বিজেপি-র প্রার্থী হবেন শুভেন্দু অধিকারী৷ শিশির অধিকারী অবশ্য নন্দীগ্রাম আসনের ফল নিয়ে কোনও পূর্বাভাস করতে চাইছেন না৷ তবে গোটা রাজ্যে বিজেপিকেই 'মাঠে বেশি দেখা যাচ্ছে' বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ৷

শিশিরবাবুকে অবশ্য পাল্টা আক্রমণ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷ তিনি বলেন, 'শিশিরবাবুর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তিনি যে কথাগুলো বলছেন সেগুলো ভিত্তিহীন এবং কিছু অসঙ্গতি আছে৷ বিজেপি এগিয়ে আছে এটা ভুল৷ ওনার দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের উপরে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়৷ কষ্ট হয়েছে বলেই হয়তো পরিবারের উপরে আক্রমণের কথা বলছেন৷ কিন্তু উনি কি ভেবে দেখেছেন ওনার পরিবারের সদস্য কোনও কোনও যুবনেতার পরিবারের বিরুদ্ধে কী কী বলেছেন? জেলা সভাপতি হিসেবে উনি কি একটাও বিবৃতি দিয়েছেন? তাঁর কথা তিনি বলতেই পারেন কিন্তু যুক্তি এবং তথ্যে তাঁর কথা খাটছে না৷ '

পাল্টা শিশিরবাবুর জবাব, 'কুণালের কথার কোনও জবাব দিতে চাই না৷ যাঁদের আমাদের ধারে কাছে আসার যোগ্য়তা নেই, তাঁরা অযাচিত জ্ঞান দিচ্ছে৷ দলের কাঠামোটা ভেঙে গেল৷ প্রাণের যন্ত্রণাটা তো বাইরে বলা যাবে না৷ আমাদের বাড়ির ছেলে অন্য দলে গিয়েছে, তাতে আমার আনন্দ, দুঃখ যা খুশি হতে পারে৷ কিন্তু দলে থেকেই তো অনেকে দলের ক্ষতি করছে৷ মিটিংয়ে এসে নিকৃষ্টমানের কথা বলছে৷ '

Sujit Bhowmik

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

লেটেস্ট খবর