'নো অ্যাকশন- নো রিয়্যাকশন', অপারেশন থিয়েটার থেকে হাসতে হাসতেই জবাব শিশিরের

তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে শিশির অধিকারীর৷ Photo-File

  • Share this:

#কাঁথি: বয়স প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই৷ মঙ্গলবারও চোখের অস্ত্রোপচার করার জন্য হাসপাতালে ছিলেন৷ তার মধ্যেই খবর এল, দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁকে অপসারিত করা হয়েছে৷ যে খবর শুনে নিউজ ১৮ বাংলাকে শিশির অধিকারীর প্রতিক্রিয়া, 'নো অ্যাকশন- নো রিঅ্যাকশন৷ '

শিশির অধিকারী- দিব্যেন্দু অধিকারীর উপরেও যে খাঁড়া নেমে আসবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল৷ কয়েকদিন আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অধিকারী পরিবারের এই দুই সদস্যকে ঘুরিয়ে উপসর্গহীন বেইমান বলে কটাক্ষ করেছিলেন৷ তার পর শিশির-দিব্যেন্দুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ছিল সময়ের অপেক্ষা৷ অবশেষে মঙ্গলবার দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে শিশিরকে সরিয়ে কঠিন বার্তাটা শিশিরকে দিয়েই দেওয়া হল৷ সরকারি সিদ্ধান্ত হলেও যার নেপথ্যে রাজনীতির সমীকরণ স্পষ্ট৷

অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রবীণ সাংসদ হাসতে হাসতে বললেন, 'চোখের অপারেশন করাতে এসেছি৷ এখন অপারেশন থিয়েটারে রয়েছি৷ আমার কোনও রিঅ্যাকশন নেই৷ নো অ্যাকশন, নো রিঅ্যাকশন৷ সবাই সব জানে৷ এই বয়সে আমার কিছু বলা উচিত হবে না৷ আইনি না বেআইনি পদক্ষেপ, আমি কিছুই বলছি না৷' হাসির আড়ালেই যেন প্রবীন সাংসদের অনেক যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল৷ 

চোখের অস্ত্রোপচারের আগে শিশির অধিকারী৷ 

বয়স জনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে শিশির অধিকারীকে অব্যাহতি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেও আসল কারণটা হয়তো বলেই ফেলেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷ তিনি বলেন, 'শুভেন্দু এবং সৌমেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগদানের পরেও শিশিরদার কোনও কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি৷ যেটা তৃণমূলকে দুঃখ দিয়েছে৷ যদিও তার সঙ্গে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই৷'

শিশির অধিকারীকে বরাবরই আলাদা সম্মান দিতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ করোনার সময় শিশিরবাবু যাতে বাড়ি থেকে না বেরোন, ফোন করে প্রবীন সাংসদেক সেই পরামর্শও দিয়েছিলেন দলনেত্রী৷ শিশির অধিকারীর স্ত্রীর অসুস্থ থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরও নিয়েছেন ফোন করে৷ কিন্তু শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপি-র ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই কালীঘাটের সঙ্গে অধিকারী পরিবারের সম্পর্কের রাশ আলগা হয়েছে৷ শুভেন্দু- সৌমেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলে থেকে প্রকাশ্যে তাঁদের বিরোধিতা করাও শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারীর পক্ষে অস্বস্তির হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ অথচ দল চাইছিল উল্টোটা৷ ফলে শিশির-দিব্যেন্দু কার্যত এখন তৃণমূলের কাছে বোঝার মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছেন৷ শিশিরকে অপসারণের মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মোড়কেই হয়তো বিচ্ছেদের বার্তাটাই দিয়ে রাখল শাসক দল৷

Sujit Bhowmik
Published by:Debamoy Ghosh
First published: