Home /News /south-bengal /
Murshidabad News: সিরাজউদ্দৌলা তৈরি হিরাঝিল প্রাসাদ, পুনরুদ্ধারে যাদবপুরের প্রাক্তনী

Murshidabad News: সিরাজউদ্দৌলা তৈরি হিরাঝিল প্রাসাদ, পুনরুদ্ধারে যাদবপুরের প্রাক্তনী

২৩জুন পলাশির যুদ্ধে শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের শিলান্যাস, এগিয়ে এসেছে ওপার বাংলায় থাকা সিরাজের বংশধর

  • Share this:

    #মুর্শিদাবাদ: ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। যতদিন মনসুরগঞ্জের কাহিনি থাকবে, ততদিন এই ‘বিশ্বাসঘাতক’ শব্দটি বহন করে যেতে হবে। যত বার মনসুরগঞ্জের নাম মনে আসবে তত বার মনে আসবে এক ‘বিশ্বাসঘাতকতা’-র কাহিনি । যত দিন ভাগীরথীর ভাঙা গড়ার খেলা, তত দিন মেনে নিতে হবে একটা বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। ইতিহাসই বদলে ফেলতে পারত সিরাজদৌল্লার মুর্শিদাবাদের ভাগ্য। হত্যার প্রায় ৩০০ বছর পরেও যাঁর নামে একটা জেলার পরিচয়, অর্থনীতি চলে, তাঁরই ইতিহাস অস্তাচলে, অভিযোগ এমনই।

    আরও পড়ুন Cyclone Asani effect on Bengal: অশনির জেরে কতটা বিপাকে বাংলা? কেমন থাকবে আবহাওয়া? সর্বশেষ খবর

    ভাগীরথীর পূর্বপার মানেই হাজারদুয়ারি। ট্যুরিস্ট গাইডের কথায় সিরাজের প্যালেসের আদলে তৈরি এই প্যালেস। কিন্তু সিরাজের প্যালেস জানতে চাইলেই এক রাস অন্ধকার, না বলা ইতিহাস ভিড় করতে চায় ভাগীরথীর পশ্চিম পারে। বর্তমানে মুকুন্দবাগের বাগানপাড়া। ভাগীরথীর পশ্চিম পার।যেখানেই বাংলার নবাব আলিবর্দি তাঁর নাতি সিরাজের জন্য তৈরি করেছিলেন প্রাসাদ। সেই প্রাসাদই পরে বাংলা-বিহার-ওডিশার শেষ স্বাধীন নবাবের সাধের হীরাঝিল প্যালেস।তিনটি গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাসাদটিতে রংমহল, এনতাজমহল, দরবার মহল। পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পরে মুর্শিদাবাদে ফিরে হীরাঝিল থেকেই নৌকায় রাজমহলের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন সিরাজ। কিন্তু ইতিহাসে রয়েছে ভগবানগোলায় মীরজাফর বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান সিরাজ। ইতিহাসে সেই পলাশির এই যুদ্ধকাহিনী বহন করছে এক বিশ্বাসঘাতকতার গল্পই। যে গল্পেই চর্চিত আছে শুধু সিরাজকে সরিয়ে ফেলা নয়, মনসুরগঞ্জের ইতিহাস থেকে সিরাজের অস্বিত্ব মিটিয়ে ফেলতেই কয়েকশ বছর আগে গোপনে হীরাঝিল প্রাসাদের নিচের মাটি সুকৌশলে কেটে কেটে সরিয়ে ফেলেছিলেন মির্জাফরের অনুগামীরা। আর তারপর ভাগীরথীর ভয়ালগ্রাসে ভগ্নাবশেষ সিরাজের সাধের প্রাসাদ নদীগর্ভে। জল সরতেই দেখা মেলে প্রাচীর। আর সেই ইতিহাস বাঁচাতেই এখন লড়াইয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। 

    সমর্পিতা দত্ত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায়ের তুলনামূলক সাহিত্যের ছাত্রী। বাড়ি কলকাতা শহর লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর হতেই পারত তাঁর বিলাসিতার জীবন। কিন্তু ছোটবেলার ‘আইকন’ সিরাজদৌল্লা তাঁর শেষ কথা।শুরুটা হয়েছিল বাবার কাছে পলাশির যুদ্ধের গল্প শুনে। সিরাজকে কৌশলে হারিয়ে দেওয়া। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেশ দখল ও পরে ইংরেজ আমলের নানান কাহিনী শোনা ও ইতিহাসে পড়া। আর ইতিহাস থেকেই সিরাজ কখন যেন সমর্পিতার কাছে আত্মিক যোগ হয়ে ওঠে। সেই টানেই এখন সমর্পিতার ঠিকানা লালবাগ। আর তাঁর কথায় ‘বিকৃত’ ইতিহাস বদলে সিরাজের সম্মান ফেরানোর লড়াইয়ে নিজেকে সোপেছেন।

    বছর পাঁচ আগে প্রথম যান সিরাজের সমাধিক্ষেত্র খোশবাগ। যেখানে শায়িত বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব। সিরাজের টানে যাতায়াত লেগেই ছিল। এরপর গত আড়াই বছর হল স্থায়ী ভাবেই থাকতে শুরু করেছেন লালবাগে। আর নিজের হাতেই সমাধিক্ষেত্র পরিস্কার করা, যত্ন নেওয়া দৈনন্দিন কাজের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এখানেই শেষ নয়। এখন সমর্পিতার লক্ষ্য বাংলা তথা দেশের কাছে সিরাজের প্রাসাদ হীরাঝিল পুনরুদ্ধার করা। তিনি জানিয়েছেন, ফি বছর ভাগীরথীর ভাঙন ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে পশ্চিম পারের বাগানপাড়া গ্রামে নবাব সিরাজের সাধের হীরাঝিল। তাই স্থানীয়দের নিয়েই তৈরি করেছে ‘হীরাঝিল’ প্রাসাদ বাঁচাও কমিটি। লড়াইয়ের পথ মসৃন নয়, জেনেও স্থানীয়দের নিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়িয়ে ওঠা আগাছার জঙ্গল সাফ করেছেন নিজেরাই। দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশাসনের।চিঠি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেও।

    ২০২১ সাল থেকে নিজেদের উদ্যোগেই জঙ্গল পরিস্কার করে সেই প্রাসাদ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে| সংগঠিত করা হয়েছে স্থানীয় মানুষকে। যার ফসল বলা গত শীতে পর্যটকরা এসেছিলেন এই বাগানপাড়া এলাকায়। ইতিমধ্যে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া সেই জমি দেখে গিয়েছে। সমর্পিতার দাবি, খুব শীঘ্রই প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের উচিত জমিটি সংরক্ষণ করে খনন কাজ শুরু করা। তাহলে সিরাজের সাধের প্রাসাদ পুনরুদ্ধার করে তুলে দেওয়া যাবে সকলের সামনে। আগামী ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধে নিহত শহিদ ও সিরাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওই মাটিতেই একটি শহিদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের শিলান্যাস করা হবে। এই শহিদ মিনার তৈরিতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে থাকা সিরাজের বংশধরেরা। তাঁর দাবি, ওপার বাংলাতে বসেও নিজেদের পূর্বসুরীর প্রাসাদ পুনরুদ্ধারে এগিয়ে এসেছেন সিরাজের বংশধর। ইতিমধ্যে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক যোগাযোগ করেছেন সমর্পিতাদের সাথে।

    আরও পড়ুন Cyclone Asani Updates | শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত অশনি, কোথায় কোথায় ভারি বৃষ্টি? Asani কোথায়?

    নদীগর্ভে চলে যাওয়া হীরাঝিলের ভাঙা ইটের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা সিরাজের স্মৃতির খোঁজে এখনও প্রতি বছর আসেন বেশ কিছু পর্যটক। সমর্পিতা জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ হীরাঝিল সংরক্ষণের দাবি জনমত গঠনের চেষ্টা শুরু করেছিলেন। গত বর্ষায় ভগ্নস্তূপের কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ে। এর পর তৈরি করেন ‘হীরাঝিল বাঁচাও কমিটি’। শুধু তাই নয়, ওই এলাকার শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে তৈরি করেছেন নবাব সিরাজদৌল্লা মুক্ত বিদ্যালয়। যেখানে পড়াশুনোর পাশাপাশি সিরাজ নিয়েও অবগত করা হয় পড়ুয়াদের। চলে নানান সামাজিক কাজ। তাদের, নিজেদের ইতিহাস বাঁচিয়ে তোলার পাঠ দিচ্ছেন সমর্পিতা। তাঁর কথায়, একটি জেলার সমস্ত কিছুতেই যখন সিরাজ জড়িয়ে, তাহলে কেন সিরাজের অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হবে না? কেনই বা মুর্শিদাবাদের মানুষ সিরাজকে স্মরণ করে বাঁচবেন না? কেনই বা ভাগীরথীর তীর বেঁধে সংরক্ষণ হবে না বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের প্রাসাদ?

    Published by:Pooja Basu
    First published:

    Tags: South bengal news

    পরবর্তী খবর