Singur: শিল্পের দাবিকেও কি ছাপিয়ে গেল গুরু- শিষ্যের লড়াই? ভোটের আগে শান্তই সিঙ্গুর

Singur: শিল্পের দাবিকেও কি ছাপিয়ে গেল গুরু- শিষ্যের লড়াই? ভোটের আগে শান্তই সিঙ্গুর

শনিবার ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় সিঙ্গুর৷

নন্দীগ্রামে বামেদের চমক যদি হন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, তাহলে সিঙ্গুরের সৃজন ভট্টাচার্যকে নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে কম আলোচনা হচ্ছে না৷

  • Share this:

    #সিঙ্গুর: দশ বছর আগে নন্দীগ্রামের সঙ্গেই সমস্বরে উচ্চারিত হত সিঙ্গুরের নাম৷ কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে যেন যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধুই নন্দীগ্রাম৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই যেন সব প্রচারের আলো শুষে নিয়েছে৷ সিঙ্গুর যেন কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছে৷

    শনিবার সেই সিঙ্গুরেই নির্বাচন৷ সিঙ্গুর মানেই জমি আন্দোলন, শিল্প না হওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক৷ এবারের নির্বাচনেও সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর আশ্বাস দিচ্ছে সব পক্ষই৷ কিন্তু সাহানাপাড়া, দলুইগাছা, গোপালনগরে জমি আন্দোলন, শিল্প ফেরা না ফেরার থেকেও বেশি করে চর্চায় পরিবর্তন বনাম প্রত্যাবর্তনের লড়াই৷ তৃণমূল ত্যাগী রবীন্দ্রনাথ বনাম তাঁরই প্রাক্তন অনুগামী বেচারাম মান্নার টক্করে কে জিতবেন, তাই নিয়েই যেন সরগরম সিঙ্গুর৷

    নন্দীগ্রামে বামেদের চমক যদি হন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, তাহলে সিঙ্গুরের সৃজন ভট্টাচার্যকে নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে কম আলোচনা হচ্ছে না৷ অনেকেই বলছেন, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য পঞ্চম বারের জন্য বিধায়ক হবেন, নাকি হরিপাল থেকে সিঙ্গুরে এসেও বাজিমাত করবেন, সেখানে বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন সৃজন৷ বামেরা অবশ্য দাবি করছেন, শিল্প ফেরানোর প্রতিশ্রুতিতে সিঙ্গুরে জায়ান্ট কিলার হবেন সৃজনই৷

    ২০০১ সাল থেকে তৃণমূলের টিকিটে পর পর চারবার সিঙ্গুরের বিধায়ক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য৷ বিধায়কের থেকেও বেশি করে এলাকার মাস্টারমশাই ছিলেন তিনি৷ ৯০ ছুঁই ছুঁই সেই মাস্টারমশাই এবার টিকিট পাবেন না বুঝতে পেরে দলবদল করেছেন৷ আর পঞ্চমবার মাস্টারমশাইয়ের বিধানসভা যাত্রা আটকাতে তৃণমূলের বাজি সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন থেকে উঠে এসে মন্ত্রী হওয়া বেচারাম মান্না৷ হরিপালের বিধায়ককে এবার সিঙ্গুরে থেকে টিকিট দিয়েছে দল৷ গুরু- শিষ্যের এই লড়াইতেই তাই মজেছে সিঙ্গুর৷ তবে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিজেপি-তে যোগদানে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন সিঙ্গুরে বিজেপি-র পুরনো কর্মীরা৷ বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন তাঁরা৷ দলবদল ঘিরে যে ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্যের অন্যত্রও৷ বিজেপি-র অন্দরে এই ক্ষোভ তৃণমূলের পথ মসৃণ করবে কি না, তা নিয়েও চর্চা চলছে সিঙ্গুরের পাড়া পাড়ায়৷ এর পর শিল্প এল কি এল না, তা যেন নেহাতই বাড়তি পাওনার মতো সিঙ্গুরবাসীর কাছে৷ কারণ শিল্প-কৃষির ভারসাম্যের প্রতিশ্রুতি আর টাটাদের পরিত্যক্ত কারখানার কঙ্কাল দেখে দেখে তাঁরাও যেন ক্লান্ত৷ তবে তা ভোটের ইস্যু, জোর গলায় তা বলা যাচ্ছে না৷ শিল্প, কারখানা এসব নিয়ে যেন সিঙ্গুরকে যাঁরা সংবাদমাধ্যমে দেখেন, তাঁদেরই কি যত মাথাব্যথা? উত্তর পাওয়া যাবে ২ মে৷

    ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফল বলছে, সিঙ্গুর থেকে প্রায় সাড়ে দশ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি৷ ২০১৬ সালে প্রতিশ্রুতি মতো অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার পরেও কেন এই বিপর্যয়? অনেকেই বলেন, রবীন্দ্রনাথ- বেচারামের কাজিয়ারই সুফল ঘরে তুলেছিল গেরুয়া শিবির৷ সঙ্গে রাজ্যের বাকি অংশের মতো সিঙ্গুরেও বিজেপি-র পক্ষে হাওয়া ছিলই৷ তলানিতে এসে ঠেকেছিল বামেদের ভোট৷ ২০১৬ সালেও যেখানে সিঙ্গুরে ৭৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল সিপিএম, সেখানে ২০১৯-এর লোকসভায় বামেদের ভোট কমে হয়েছিল সাড়ে সতেরো হাজার মতো৷ আর এক ধাক্কায় প্রায় ৭৯ হাজারের বেশি ভোট বেড়েছিল বিজেপি-র৷ বামেদের ভোট সৃজনের ঝুলিতে ফেরে কি না, মাস্টারমশাইয়ের দলবদলকে মানুষ কতটা সমর্থন করেন, এই সমস্ত অঙ্কের উপরই নির্ভর করছে সিঙ্গুরের ভাগ্য৷

    ভোট প্রচারে সিঙ্গুরে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও৷ তবু সিঙ্গুর যেন অনেকটাই শান্ত৷ নন্দীগ্রামের মতো ভোটের আগের উত্তেজনা সেখানে নেই৷ নির্বাচন কমিশনকে ১৪৪ ধারাও জারি করতে হয়নি৷ নীরবেই হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি হচ্ছেন সিঙ্গুরবাসী৷

    Rana Karmakar
    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: