Shrimp Farming Effected for Yaas: শুধু পূর্ব মেদিনীপুরেই চিংড়ি চাষে ক্ষতি ১ হাজার কোটি! ইয়াস-প্রভাব বাঙালি পাতেও

বাড়বে চিংড়ির দাম?

Shrimp Farming: মৎস্যমন্ত্রী যা হিসেব দিয়েছেন, তা শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই চিংড়ি চাষে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সব ভেড়িতেই বৃষ্টির মিষ্টি জল ও সমুদের নোনা জল এমনভাবে ঢুকেছে যে সব চিংড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

  • Share this:
#কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের (Cyclone Yaas) জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চিংড়ি চাষের। ফলে এই রাজ্যের চিংড়ি শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রফতানির ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, ভাগ্যক্রমে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে চিংড়ির চারা উৎপাদন কেন্দ্রগুলি। তবে চাষীরাই যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত। তাই বিপুল পরিমাণ চিংড়ির চারা কিনবে কে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে হ্যাচারির সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন তাঁরা মানুষের পাশে আছেন। প্রয়োজনে এখন সব লাভ-ক্ষতি ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তারা। সাহায্য করতে চান রাজ্যের মৎস্য দফতরকে। ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি আগামী মাসেই ভেড়ি থেকে তুলে বিদেশে বিক্রি করার কথা ছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন রাজ্যেও রফতানি হয় এই সব চিংড়ি। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশে। প্রভাব পড়েছে উত্তর ২৪ পরগণাতেও। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা ও পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে বিঘের পর বিঘে চিংড়ি চাষের ভেড়ির ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের মৎস্য দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে।পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৯ টি ব্লকে সমুদ্র তীরবর্তী ভেড়িতে চিংড়ির চাষ হয়। সমুদ্র লাগোয়া ভেড়িতে বিভিন্ন খালের মাধ্যমে নোনা জল ঢোকে। এই জল চিংড়ি চাষে আদর্শ। চিংড়ির ওজন ২০ গ্রাম হলেই জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে তা তুলে বিক্রি করে দেওয়া হয়। মৎস্যমন্ত্রী যা হিসেব দিয়েছেন, তা শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই চিংড়ি চাষে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সব ভেড়িতেই বৃষ্টির মিষ্টি জল ও সমুদের নোনা জল এমনভাবে ঢুকেছে যে সব চিংড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে এই রাজ্যে মাত্র তিনটি জায়গাতেই চিংড়ির হ্যাচারি আছে। দুটি আছে নিউ দীঘায়, একটি আছে তাজপুরে। সাধারণত এই রাজ্য চিংড়ির চারা উৎপাদনের আদর্শ নয়। কারণ সমুদ্র দীঘা থেকে শঙ্করপুর অবধি মেলে চিংড়ির চারার জন্যে। ইয়াসের প্রভাবে তাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটলেও সমস্যা হয়েছে চারা আদৌ বিক্রি হবে তো? কারণ যারা চারা কিনবেন তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। এরকমই এক হ্যাচারির মালিক শুভেন্দু মন্ডল জানাচ্ছেন, "আমরা এখন সরকারের পাশে দাঁড়াতে চাই। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের আমরা বিনামূল্যে চারা দেব। সরকার সাহায্য করুক।" বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের জল হ্যাচারিতে নিয়ে আসা হয়৷ তারপর সেই জল ফিল্টার করে লার্ভা থেকে চারা করা হয়। সেই চারা বড় করার জন্যে রয়েছে ল্যাবরেটরি ও একাধিক প্রক্রিয়া৷ কিছু জায়গায় দেখা গিয়েছে হ্যাচারির শেড উড়ে গেলেও তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ হ্যাচারির মালিকরা। তারা এই সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন। স্টেট ফিশারি অফিসার্স সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ হালদার জানিয়েছেন, "প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে রাজ্যের তিন জেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর চিংড়ি চাষের পুকুর ভেসে গেছে। ফলে এই চাষে যুক্ত কয়েক লাখ চাষি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে।"
Published by:Suman Biswas
First published: