শাঁকালুর মেলা! এ মেলায় পেট ভরে শাঁকালু খেয়ে বাড়ি ফেরেন বাসিন্দারা

শাঁকালুর মেলা! এ মেলায় পেট ভরে শাঁকালু খেয়ে বাড়ি ফেরেন বাসিন্দারা

আপনি হয়তো বলবেন তাই আবার হয় নাকি! হয়। বর্ধমানের সদরঘাটে এলেই দেখা মিলবে সেই মেলার।

  • Share this:

Saradindu Ghosh 

#বর্ধমান: সারা বছর মেলা তো কতই হয়। বিশেষ করে এই শীতকালে মেলার ছড়াছড়ি। বই মেলা, কৃষি মেলা, শিশু মেলা সহ হরেক মেলা শহরে গ্রামে।  কিন্তু যদি বলি শাঁকালুর মেলা? আপনি হয়তো বলবেন তাই আবার হয় নাকি! হয়। বর্ধমানের সদরঘাটে এলেই দেখা মিলবে সেই মেলার।

পৌষ সংক্রান্তির পরদিন পয়লা মাঘ মেলা বসে বর্ধমানের সদরঘাটে দামোদরের চরে। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ শাঁকালু। লরি লরি শাঁকালু আসে এই মেলায়। সেই শাঁকালুর টানেই মেলায় ভিড় করের আশপাশের গ্রামের মানুষ। কেজি কেজি শাঁকালু কিনে নিয়ে যান মেলায় আসা বাসিন্দারা। অনেকে পেট ভরে শাঁকালু খেয়ে বাড়ি ফেরেন।

বর্ধমান শহরে ঢোকার মুখেই সদরঘাট। সেই সদরঘাটে দামোদরের চরে বসে এই মেলা। এই মেলা তিনশো বছরেরও বেশি প্রাচীন। আগে পৌষ সংক্রান্তিতে দামোদরের তীরে কাঞ্চননগরের কাঠগোলা ঘাটে এই মেলা হতো। তাতে তখন মূল আকর্ষণ ছিল ময়ূরপঙ্খী নাচ। গোরুর গাড়িকে ময়ূরের মতো সাজিয়ে তাতে রাধা কৃষ্ণ বসানো হতো। সবচেয়ে সুন্দর ময়ূরপঙ্খীকে পুরস্কৃত করতেন রাজা। পরে কাঞ্চননগর থেকে রাজবাড়ি বর্ধমানে সরে এলে ময়ূরপঙ্খী মেলা সদরঘাটে সরে যায়। পঞ্চাশ বছর আগেই সেই ময়ূরপঙ্খী নাচ বন্ধ হয়ে যায়। তার বদলে পৌষ সংক্রান্তির পরদিন সদরঘাটে ঘুড়ির মেলা হয়।

শুরু থেকেই এই মেলায় ছিল গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের প্রাধান্য। এখনও বর্ধমান, রায়না, খন্ডঘোষের বাসিন্দারা দলে দলে এই গ্রামীণ মেলায় যোগ দেন। শাঁকালু ছাড়াও প্রাচীন গ্রামীন মেলার যাবতীয় উপকরণ রয়েছে এই মেলায়। ঘুড়ি ওড়ানো তো রয়েছেই, আছে  মুরগি লড়াই, পুতুল নাচ, বাদাম ভাজা, পাঁপড় নাগরদোলা সবই। ভিড়ের কারণে সদরঘাটে কৃষক সেতুতে বাস ও অন্যান্য যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ।

অনেকে মাঘ মাসের প্রথম দিনটিতে দামোদরে পুণ্য স্নান করেন। ঘুড়ি ওড়ানো চলে দামোদরের বালির চরে। এই মেলায় শালপাতায় ঘুঘনি খাওয়ার স্বাদ আজও ফিরে পাওয়া যায়। ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়া এ রকম টুকরো টুকরো  অনেক স্মৃতি ফিরে পাওয়া যাবে এই মেলায় প্রবেশ করলে।

First published: 04:00:42 PM Jan 16, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर