বর্ধমানে গেলে কোথায় থাকতেন ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ? জেনে নিন...

বর্ধমানে গেলে কোথায় থাকতেন ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ? জেনে নিন...

রেল স্টেশন থেকে অতিথি নিবাস যাওয়ার রাস্তার একাংশের নাম হয়েছে রামকৃষ্ণ রোড।

  • Share this:

#বর্ধমান: ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বারবার বর্ধমান শহরে এসেছেন। বেশ কয়েকবার বর্ধমান হয়ে গোরুর গাড়িতে চড়ে কামারপুকুরে গিয়েছেন। বর্ধমান রাজবাড়িতেও  এসেছিলেন।  ঠাকুরের আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ধমানে তাঁর নামে রাস্তা রয়েছে। তিনি যেখানে বিশ্রাম নিতেন সেই স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে আশ্রম। সেই রামকৃষ্ণ আশ্রমে বসেছেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি।

ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এক সময় বর্ধমান হয়ে কামারপুকুরে যাতায়াত করতেন। সেই যাতায়াত শুরু হয়েছিল হাওড়া থেকে বর্ধমান পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা হওয়ার পর। বর্ধমান রেল স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে বর্ধমান শহরে স্টেশন থেকে কিছু দূরে ঈশানেশ্বর শিব মন্দিরের কাছে পানশালায় বিশ্রাম নিতেন। এরপর আজ যার নাম গৌরাঙ্গ সেতু, বাঁকা নদীর উপর সেই সেতু দিয়ে আলমগঞ্জ হয়ে গোরুর গাড়িতে কামারপুকুর যেতেন। আরামবাগ হয়ে সেই পথেই বর্ধমান স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে দক্ষিণেশ্বর যেতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৬২ সাল থেকে ১৮৬৫ সালের মধ্যে তিনি বর্ধমানে আসতেন।

এই অতিথি নিবাসের কাছেই ছিল শিবের প্রিয় কাঁটাবন। সেই কাঁটাবন থেকে কাঁটা তুলে ঈশানেশ্বরের পুজো করতেন ঠাকুর। এই অতিথি নিবাসেই বর্তমানে তৈরি হয়েছে বর্ধমান রামকৃষ্ণ মিশন। রেল স্টেশন থেকে অতিথি নিবাস যাওয়ার রাস্তার একাংশের নাম হয়েছে রামকৃষ্ণ রোড। ঠাকুরের যাত্রাপথ স্মরণীয় করে রাখতেই এই নামকরণ। ঠাকুরের প্রত্যক্ষ শিষ্য স্বামী শিবানন্দজী, শিষ্য ও ভক্তদের নিয়ে আশ্রমের শুভসূচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বর্ধমানের মহারাজধিরাজ উদয়চাঁদ মহাতাবের দান করা ৩০ কাটা জমিতে আশ্রমটি গড়ে ওঠে।

জানা যায়, যাতায়াতের পথে বর্ধমানে অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরেও এসেছিলেন রামকৃষ্ণদেব। মা কালীর পুজোও করেন তিনি। ১৮৬৩ সালের পরবর্তী সময়ে তিনি কয়েকবার বর্ধমান রাজবাড়িতে গিয়েছিলেন। বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ মহাতাব চাঁদের সভাপন্ডিত ছিলেন পদ্মলোচন ন্যায়রত্ন ভট্টাচার্য। পদ্মলোচনের সঙ্গে রাজবাড়িতে দেখা করতে আসতেন রামকৃষ্ণ পরমহংস। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজবাড়িতে এলে রাজা মহাতাব চাঁদ সঙ্গে মিলিত হতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব।

First published: February 25, 2020, 4:57 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर