লড়াইকে কুর্নিশ! পরিবার নেয়নি, নিজের দায়িত্বে ৬৫ করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকার করেছেন সেমন্তী

লড়াইকে কুর্নিশ! পরিবার নেয়নি, নিজের দায়িত্বে ৬৫ করোনা রোগীর মৃতদেহ সৎকার করেছেন সেমন্তী
সেমন্তী মুখোপাধ্যায়।

মানুষের স্মৃতিপটে যতদিন এই রোগের ক্ষতটা থাকবে, ততদিন মানুষের চেয়েও দীর্ঘতর ছায়া থাকবে সেমন্তীদের।

  • Share this:

#মুর্শিদাবাদ: নিজে দায়িত্বে  ৬৫টি মৃতদেহ সৎকার করেছেন। পরিবারের লোকেরা আতঙ্কে বা ভয়ে মৃতদেহ গ্রহণ করেননি সেই রোগীদের দেহ।  কিন্তু কর্তব্যে অবিচল দায়িত্ব থেকে তিনি গত ৮ মাস ধরে এই দায়িত্ব পালন করে এসেছেন নীরবে। অবশেষে শনিবারের দিনটা যেন তাঁর কাছে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এসেছে। তিনি মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সেমন্তী মুখোপাধ্যায়, আজ অবশেষে হাসছেন।

মুর্শিদাবাদে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০,৮০০। মারা গিয়েছেন প্রায় ১১৫ জন। অনেকের মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গ নিয়ে। আজ মানুষ অনেকটাই সড়গড় কিন্তু একটা সময় করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ সৎকার করতে ভয় পেত পরিবারের লোকেরা।  হাসপাতালেই দেহ না নেওয়ার জন্য মুচলেকা দিয়ে দিতেন ওঁরা। আর সেই সমস্ত মৃতদেহগুলো নিজের দায়িত্বে রীতি মেনে সৎকার করতেন সেমন্তী।

শনিবার যখন টিকাকরণ চলছে জোর কদমে, সেমন্তী বললেন, "ভালো লাগছে। বেশকিছু মৃতদেহের মুখাগ্নি করতে হয়েছে আমাকে। আজ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলো। আশা করি সেই বিভীষিকা দিন শেষ হবে।"


করোনা যুদ্ধের অন্যতম সৈনিক মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার  সেমন্তীর কথায়,  "বহরমপুরের কাছেই উচ্চশিক্ষিত এক পরিবারের এক বৃদ্ধ মৃত্যু হয় করণা উপসর্গ নিয়ে। পরিবারের লোকেরা তালা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। প্রতিবেশীরা দুর্গন্ধে থানায় খবর দিলে পুলিশ আমাদেরকে জানাই মৃত্যুর খবর। পচা গলা সেই মৃতদেহ রাতেই দেহ সৎকার করি। কষ্ট লাগতো। দায়িত্ব ভেবে করে গিয়েছি। শুধু তাই নয় পরিবারের লোকেরা কেউ মুখাগ্নির না করতে চাওয়াই ছটি দেহের মুখাগ্নি করেছি। শুধু ভেবেছি আমাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করছি।ঠ

সেমন্তী  নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতাল কোয়ার্টারের মধ্যে নিজেকে একঘরে করেছিলেন। সেরে উঠতেই ফের লড়াই। সেমন্তীর কথায়, "আমফানের রাতে ওই দুর্যোগের মধ্যে দুটো দেহ সৎকার করেছি।ঠ জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ঠসকলের সহযোগিতায় এই কাজ হয়েছে। একটা সময় মানুষ ভয়ে দেহ নিয়ে  যেতে ভয় পেত। সেই সময় আমরা পরিবারের অনুমতি নিয়েই সৎকার করেছি।"

করোনা মুক্তির আয়ুধ আমাদের হাতের মুঠোয়।ফলে এই দুঃসময় আজ আমরা পেরিয়ে যাব। কিন্তু মানুষের স্মৃতিপটে যতদিন এই রোগের ক্ষতটা থাকবে, ততদিন মানুষের চেয়েও দীর্ঘতর ছায়া থাকবে সেমন্তীদের।

Published by:Arka Deb
First published:

লেটেস্ট খবর