মর্মান্তিক! ঘরের উপর উল্টে গেল বালির লরি, টিভি দেখতে দেখতে মৃত্যু একই পরিবারের ৩ জনের

মর্মান্তিক! ঘরের উপর উল্টে গেল বালির লরি, টিভি দেখতে দেখতে মৃত্যু একই পরিবারের ৩ জনের

ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। তাঁর নবম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে রিঙ্কু ও বারো বছরের ছেলে রাহুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে সময় বাড়িতে টিভি দেখছিলেন সকলেই।

ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয় এক মহিলার। তাঁর নবম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে রিঙ্কু ও বারো বছরের ছেলে রাহুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে সময় বাড়িতে টিভি দেখছিলেন সকলেই।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: বাঁধ থেকে হুড়মুড়িয়ে ঘরের ওপর উলটৈ পড়লো বালি বোঝাই ট্রাক। সেই বালির তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের তিন জনের।পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। বালি বোঝাই ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবিতে মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। তাঁদের ক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

হুগলি জেলা লাগোয়া পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার গ্রাম মুইদিপুর। গ্রামের একদিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর। অন্য দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে মুন্ডেশ্বরী নদী। মাধবডিহি, থানা এলাকায় মুণ্ডেশ্বরী বুক থেকে তোলা বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল মুইদিপুরের বাঁধ দিয়ে। সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বালি বোঝাই ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চালক। বালি সহ ট্রাকটি উল্টে পড়ে বাঁধের গায়ে থাকা এসবেসটসের চালের ঘরের ওপর। সেই বালি ও ঘরের ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মৃত্যু হয় সন্ধ্যা বাউড়ি নামে এক মহিলার। তাঁর নবম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে রিঙ্কু ও বারো বছরের ছেলে রাহুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সে সময় বাড়িতে টিভি দেখছিলেন সকলেই।

মৃত সন্ধ্যা বাউড়ির স্বামী প্রশান্ত বাউড়ি শোকে নিথর হয়ে গিয়েছেন। স্ত্রী পুত্র-কন্যাকে হারিয়েছেন তিনি। জানালেন, বাড়ির কাছে মন্দিরের দালানে বসে অন্যান্যদের সঙ্গে গল্প করছিলেন তিনি। সেসময় হঠাৎ বিকট শব্দে উল্টে পড়ে ট্রাকটি। অন্যান্যদের সঙ্গে বাড়ির দিকে ছুটে যান প্রশান্ত। গ্রামবাসীরা হাত লাগিয়ে চাপা পড়া তিন জনকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালায়।সন্ধ্যা বাউড়িকে উদ্ধার করে জামালপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাহুল ও রিঙ্কু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ গেলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বালি ঘাটের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। সকালে পুলিশ গিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, বাঁধের ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

Published by:Simli Raha
First published: