corona virus btn
corona virus btn
Loading

স্বামীর ফেলে যাওয়া কাজ শেষ করাই লক্ষ্য, রানাঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নিহত বিধায়কের স্ত্রী রূপালি বিশ্বাস

স্বামীর ফেলে যাওয়া কাজ শেষ করাই লক্ষ্য, রানাঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নিহত বিধায়কের স্ত্রী রূপালি বিশ্বাস
  • Share this:

#রানাঘাট: মাসখানেক আগেও জীবনটা অন্যরকম ছিল। স্বপ্ন ছিল ঘরকন্যা করা আর সাতটি সাধারণ মেয়ের মতই। কিন্তু সরস্বতী পুজোর আগের রাত বদলে দিল সব। নিহত হলেন স্বামী, বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। বাস্তবের সঙ্গে যুঝে ওঠার আগেই এখন নতুন লড়াইয়ে পঁচিশ বছর ছুঁই ছুঁই রূপালি বিশ্বাস। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। নদিয়ার ফুলবাড়িতে বাড়ির কাছেই সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন। অনুষ্ঠান চলাকালীন খুব কাছ থেকে কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে লক্ষ করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। কোলে বছর দেড়েকের ছেলে। ভবিষ্যৎ নিয়ে সেদিন ভাববারও ক্ষমতা ছিল না সত্যজিতের স্ত্রী, রূপালি বিশ্বাসের। রাজনীতির সঙ্গে ঘর করা চব্বিশ বছরের মেয়েটি সেদিন দেখেছিলেন রাজনীতির অন্য রং।

এক মাস কাটতে না কাটতে চিনেছেন কঠিন বাস্তবকে। জীবন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নতুন লড়াইয়ের সামনে। এমাসেই পঁচিশ বছরে পা দেবেন। স্বামীর কাজকেই শেষে সম্বল করে এগিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিলেন রূপালি। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন তিনি।
রানাঘাট লোকসভার মধ্যে রয়েছে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র। নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণগঞ্জ, চাকদহ। ১৭ লক্ষের বেশি ভোটার এই কেন্দ্রে। এর চল্লিশ শতাংশের বেশি তফশিলি। তার বড় অংশ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। গতবছর এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তাপস মণ্ডল। এবছর তাঁকে সরিয়ে আনা হল রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ রূপালিকে। যদিও কঠিন সময় দলকে পাশে পেয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রূপালি। রূপালি বিশ্বাস বললেন, ‘‘আমি আশাবাদী। ওনাকে সবাই ভালবাসত। আমিও সেই ভালবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’’ এই কেন্দ্রে মতুয়াদের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়াদের সমর্থন পান সত্যজিৎ। তবে বিজেপির দাবি, সহানুভুতির ভোট কুড়োতেই রূপালিকে ভোটে দাঁড় করানো হয়েছে। নদিয়ায় প্রভাব বাড়িয়েছে বিজেপি। মতুয়াদের একাংশ ঝুঁকে বিজেপির দিকে। তবু এলাকায় কাজের নিরিখে এগিয়ে তৃণমূলই। এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। ২০১৯-এর শুরুতেও এত রাজনৈতিক অঙ্ক বুঝতেন না রূপালি। আজ সব অঙ্ক বদলে গিয়েছে গ্র্যাজুয়েট এই মেয়েটির। বছর দেড়েকের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নতুন লড়াইয়ে পা বাড়ালেন পঁচিশে পা দিতে চলা রূপালির। অস্ত্র লোকসভা আসনের তৃণমূলের টিকিট ও স্বামীর ফেলে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ।

First published: March 14, 2019, 2:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर