দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভয়াবহ! সারারাত গল্প করে স্ত্রী-ছেলে সহ গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী বাংলার আরপিএফ কর্মী

ভয়াবহ! সারারাত গল্প করে স্ত্রী-ছেলে সহ গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী বাংলার আরপিএফ কর্মী

পুলিশ মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে। ওই কিশোরীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • Share this:

#বর্ধমান: ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউই। পরিবারের সকলের সঙ্গে গল্পগুজব পর ছেলেমেয়েকে নিয়ে দোতলার ঘরে শুতে গিয়েছিলেন দম্পতি। কাকভোরে সেই ঘর থেকেই ফোন মেয়ের। ঘরে আগুন লেগেছে। আমরা সবাই পুড়ে গিয়েছি।সেই ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ওপরে যান পরিবারের অন্যান্যরা। দরজা ফাঁক করে কোনও রকমে উদ্ধার করা হয় দশ বছরের রিমঝিমকে। ততক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার বাবা-মা ও ভাইয়ের। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে। ওই কিশোরীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মন্তেশ্বরের বাঘাসন গ্রামে এমনই ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের নাম সুদেব চন্দ্র দে (৩৯),তাঁর স্ত্রী রেখা দে (২৮),ও ছেলে স্নেহাংশু দে (৮)। সুদেব কাটোয়ায় আর পিএফএ কর্মরত ছিলেন। গতকালই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। এরপর ছেলেকে নিয়ে গ্রামেই এক পিকনিকে যোগ দেন। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন। এরপর স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে দোতলার ঘরে শুতে যান তিনি।

কাকভোর তিনটে নাগাদ সুদেব বাবুর মেয়ে রিমঝিম নিচের তলায় তার এক কাকাকে ফোন করে। সে জানায় আগুনের সকলেই পুড়ে গেছে। সেই খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্যরা দোতলা গিয়ে সকলকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। দরজার ওপর আলমারি রাখা হয়েছিল। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। কোনও রকমে দরজা ফাঁক করে দশ বছরের ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকিদের মৃত অবস্থায় ঘর থেকে পাওয়া যায়। কেরোসিন দিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে সুদেব নিজে ও স্ত্রী ছেলে মেয়ে কে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করছে পুলিশ।যদিও এই আত্মহত্যার কারণ কি তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের অন্যান্যরা।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন,সুদেবের ব্যবহারে কোনঽও রকম অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। বাড়িতে কালীপুজো হয়। সে ব্যাপারে দাদার সঙ্গে অনেকক্ষণ আলোচনা করেন। কি কি কিনতে হবে তার তালিকা তৈরি হয়।এরপর সবাইকে নিয়ে শুতে যান তিনি। ঘরের ভেতর কেরোসিনের পাত্র পাওয়া গেছে। দরজায় আলমারি, তোষক ঠেকানো ছিল যাতে কেউ বের হতে না পারে। তাই কোনও দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনা করে ঘরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কেন এই পথ বেছে নেওয়া তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও বিবাদ ছিল বলেও জানা নেই এই পরিবারের অন্যান্যদের। সব মিলিয়ে এই আত্মহত্যা পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই।

Published by: Arka Deb
First published: November 3, 2020, 5:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर