corona virus btn
corona virus btn
Loading

৫০-তম বিবাহবার্ষিকীর দিনে পার্টি না করে সেই টাকায় গরীবদের খাওয়ালেন অবসরপ্রাপ্ত দম্পতি

৫০-তম বিবাহবার্ষিকীর দিনে পার্টি না করে সেই টাকায় গরীবদের খাওয়ালেন অবসরপ্রাপ্ত দম্পতি

করোনার কারণে লকডাউন চালু হওয়ায় মানুষের কষ্ট প্রবল হয়েছে। যা দেখে বাবা মা চাননি তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নিয়ে আড়ম্বর উদযাপন।

  • Share this:

SUJIT BHOWMIK

#গোপালপুর: আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে পুর্ব মেদিনীপুরের গোপালপুর গ্রামের প্রকৃতিরঞ্জন অধিকারী, তাঁর  সহধর্মিণী ভারতীদেবীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। একসঙ্গে পথচলার সেই শুরু। তারপর এক,  দুই, তিন করে তাঁদের বিবাহিত জীবন আজ পা রেখেছে ৫০- এ। সেই স্পেশ্যাল পঞ্চাশ পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ উদযাপনের ভাবনা করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের পুত্রকন্যারা। ভাবনাটা সেই লকডাউনের আগে থেকেই করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু করোনা লকডাউনের কারনে সন্তানদের সেই বিশেষ উদযাপন পরিকল্পনা বাতিল করে দেন সত্তরোর্ধ প্রাক্তন শিক্ষক প্রকৃতিবাবু এবং তাঁর সহধর্মিণী। লকডাউনে কষ্টে থাকা এলাকার মানুষদের পাশে তাঁরা তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী থাকতে  চান,  আজকের বিশেষ দিনে নিজেদের সেই মনের কথা সন্তানদের জানিয়েছিলেন তাঁরা।

বাবা মায়ের সেই ইচ্ছে মেনেই আজ তাঁদের পঞ্চাশ বছরের বিবাহিত জীবনের পূর্তি উদযাপনের দিনে কেক কেটে ছোটোখাটো উৎসব পরিকল্পনা বাতিল করে দিয়ে এলাকার মানুষজনদের হাতে হাতে চাল, ডাল, আলু, তেল, বিস্কুট সহ ১৩ রকমের খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে আজ নিজের বাড়ির উঠোন থেকেই ৬০টি পরিবারের শতাধিক মানুষজনের জন্য দৈনিন্দন প্রয়োজনের নানা রকম জিনিসপত্র তুলে দেন ৭২ বছর বয়সের প্রকৃতি রঞ্জন অধিকারী। বিজ্ঞান বিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রকৃতি রঞ্জন অধিকারীর কথায়, এ এক কঠিন সময়। যখন সবারই উচিৎ সবার জন্য হাত প্রসারিত করা। আজ আমি আমার সঞ্চয় থেকে মানুষের জন্য স্বল্প কিছু করার চেষ্টা করলাম। আমি চাই, সবাই এগিয়ে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াক। কারন, মানুষ আজ সত্যিই বিপদে।

বাবা মায়ের এমন ভাবনায় খুশি তাঁদের পুত্র কন্যারা। এক পুত্র সুভাষ অধিকারীর কথায়, অনেক আগে থেকে ভাবনা ছিল আজকের দিনটা আমরা  আলাদাভাবে উদযাপন করব। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন চালু হওয়ায় মানুষের কষ্ট প্রবল হয়েছে। যা দেখে বাবা মা চাননি তাঁদের বিবাহবার্ষিকী নিয়ে আড়ম্বর উদযাপন। তাঁদের ইচ্ছের সঙ্গে আমরা চার ভাই বোনও সহমত হই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের জন্য সামান্য কিছু করলাম।

First published: April 29, 2020, 9:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर