১০০ দিনের কাজ বন্ধ, অধিকাংশই পান না ২ টাকা কিলো চাল... ক্ষোভ বীরভূমের দূর্গাপুর, কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের

১০০ দিনের কাজ বন্ধ, অধিকাংশই পান না ২ টাকা কিলো চাল... ক্ষোভ বীরভূমের দূর্গাপুর, কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের
  • Share this:

#বীরভূম: বোলপুর থেকে সোজা রাস্তা ধরে নীমতলা মোড়। প্রধান সড়ক থেকে ডানদিকে ঢুকে গিয়েছে লাল মাটির রাস্তা! দু'ধারে কুড়ে ঘরের সারি... নিকোনো উঠোন, দেওয়ালে পুড়ছে ঘুটে! কয়েকটা বাড়ির চাল থেকে ঝুলছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা!

দাওয়ায় বসে রান্না করছিলেন বছর আষির এক বৃদ্ধা! রুগ্ন শরীর, গায়ে হলুদের ছোপ লাগা থান, উনুনের তাঁতে চোখে মুখ লাল!

'' কেমন আছেন?''

ঘাড় ফিরে তাকালেন বৃদ্ধা ! মুখের ভঙ্গিতে স্পষ্ট--আচমকা প্রশ্নে অপ্রস্তুত, খানিক ভ্যাবাচ্যাকা, খানিক থতমত...!

''ভোট দেবেন?''

Loading...

মুখের ভ্যাবাচ্যাকা ভাব তখনও কাটেনি...তারমধ্যেই ডানদিকে ঈষৎ ঘাড় হেলালেন!

''আগেরবার ভোট দিয়েছিলেন?''

ততোধিক ভ্যাবাচ্যাকা মুখে ফের ঘাড় হেলালেন...

'' যে পার্টিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের কাছে এই পাঁচ বছর যা যা চেয়েছেন, পেয়েছেন?''

কড়াইতে ছ্যাঁৎ করে আওয়াজ হল! এতক্ষণের শান্ত, ভ্যাবাচ্যাকা মুখটাও আচমকা জ্বলে উঠল...ঝাঁঝিয়ে উঠলেন বৃদ্ধা, '' কিচ্ছু পাইনি!''

''বিধবা ভাতা পান না?''

''না! 'ছোট রেশন কার্ড'-ও নেই! ১২টাকা কিলো চাল কিনি। বাড়িতে পায়খানাও নেই!''

শহুরে পোশাক, ডিকটাফোন, ক্যামেরা, ট্রাইপড...সরল চোখগুলোর কাছে এগুলো অনেকটা বাঙালির কাছে 'লাতিন'-এর মতো! কাজেই, ততক্ষণে আসপাশে কৌতূহলী মানুষের ছোটখাট একটা জটলা তৈরি হয়েছে ! ভীড়ের মধ্যে থেকে গলা তুললেন গতবছর এই গ্রামে বিয়ে করে আসা মণিকা মেটে, '' ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে! খাব কী? আমরা কাজ চাই! ''

জানা গেল, এই গ্রামের মাত্র চারটে পরিবারের 'ছোট রেশন কার্ড' রয়েছে! তাঁরাই একমাত্র ২ টাকা কিলো চাল পান! প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কিছু মানুষ বাড়ি পেয়েছেন! উজ্জ্বল যোজনায় বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-ও পাননি সবাই! অনেক বিধবা মহিলাই পাননি বিধবা ভাতা। অধিকাংশই শৌচালয় বানানোর জন্য সরকার থেকে ধার্য্য করা অর্থ পাননি! বাধ্য হয়ে নিজের টাকায় শৌচালয় বানিয়েছেন, বাকিদের ভরসা এখনও মাঠঘাট!

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, গ্রামে জলের খুব কষ্ট! পাইপ লাইনের ব্যবস্থা নেই। পরিবহণ ব্যবস্থাও অনুন্নত! বাস ধরতে হলে গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে বা সাইকেল চড়ে অনেকটা দূর যেতে হয়। প্রয়োজনের সময় টোটো ভরসা, কিন্তু সেক্ষেত্রে অনেক টাকা ভাড়া লাগে। সরকারের স্বাস্থ্যবীমা 'স্বাস্থসাথী'-র কার্ড রয়েছে প্রায় সবার! কিন্তু তাঁদের অযিভোগ, '' এখানে বড় হাসপাতাল বলতে একমাত্র বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল। কিন্তু নামেই সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। কোনও ডাক্তারই থাকে না! বড়সড় অসুখের ক্ষেত্রে রোগিকে বর্ধমান নিয়ে যেতে হয়। ''

তবে গ্রামবাসীরা খুশি, মেয়েরা সাইকেল পেয়েছে! পেয়েছে রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রীর টাকাও! গ্রামে স্কুল রয়েছে, রয়েছে খেলার স্টেডিয়াম।

একই ছবি বীরভূমের কামারডাঙা গ্রামের! অনেকেই যেমন সরকারের শুরু করা ৭৩-টা প্রকল্পর সুবিধা পাচ্ছেন তেমনি না পাওয়ার দলেও রয়েছেন অনেকেই! তবে হাজার অভাব-অভিযোগের মধ্যেও তাঁরা আশাবাদী লোকসভা ভোট নিয়ে। তাঁদের বিশ্বাস, সমস্যার সমাধান হবেই!

First published: 05:42:52 PM Apr 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर