দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'কর্মীদের চাকর ভাবেন দলের নেতারা!' শুভেন্দুর পথে হেঁটেই কি সুর চড়াচ্ছেন রাজীব?

'কর্মীদের চাকর ভাবেন দলের নেতারা!' শুভেন্দুর পথে হেঁটেই কি সুর চড়াচ্ছেন রাজীব?
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷
  • Share this:

#ডোমজুড়: দলের কিছু নেতা কর্মীদের 'চাকর-বাকর' ভাবেন বলে রবিবার নিজের বিধানসভা এলাকা ডোমজুড়ের একটি সভা থেকে তোপ দেগেছেন ডোমজুড়ের বিধায়ক৷ ফলে আলোচনা চালিয়ে গেলেও রাজীবও শুভেন্দুর পথেই হাঁটছেন বলে মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব৷

ডোমজুড়ের সভায় রাজীব বলেন, 'আমার এক এক সময় খুব খারাপ লাগে৷ দলে অনেক নেতা আছেন যাঁরা শুধু কর্মীদের ব্যবহার করার জন্য তাঁদের কথা বলেন৷ আর কাছে গেলে সেই নেতারাই কী রকম দুর্ব্যবহার করেন তা কর্মীরাই জানেন৷ যাঁরা কর্মীদের ভাবাবেগ নিয়ে খেলেন, কর্মীদের নিজেদের চাকর- বাকর বলে ভাবেন, তাঁদের আমি আজকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছি৷ একদিন এই কর্মীদের হাতেই আপনারা ক্ষমতাচ্যুত হবেন৷' শুধু তাই নয়, দলের কিছু নেতা মানুষকে বোকা ভেবে আমিত্ব আর অহংকারে ভুগছেন বলেও মন্তব্য করেন রাজীব৷ এই নেতাদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার জন্য কর্মীদের আহ্বান করেন তিনি৷

শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার সময় থেকেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও বেসুরো গাইতে শুরু করেন৷ স্তাবকরাই দলে প্রাধান্য পায় বলে প্রথমে সরব হন তিনি৷ এর পর ধীরে ধীরে দলের কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেন বনমন্ত্রী৷ শুভেন্দু অধিকারীর মতোই তাঁর সমর্থনে রাজ্যের একাধিক জায়গায় দাদার অনুগামী লেখা পোস্টার, ব্যানার চোখে পড়তে শুরু করে৷ প্রায় দু' মাস ধরে রাজীব রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাচ্ছেন না৷ গত দু' মাসে একাধিকবার দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন রাজীব৷ তাঁর ক্ষোভ মেটাতে দু' বার বৈঠক করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু সমস্যার যে সমাধান হয়নি, তা ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করেছে দু' পক্ষই৷ বঙ্গ ধ্বনির মতো দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যাচ্ছিল না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ রবিবার রাজীবের মন্তব্যে ফের একবার স্পষ্ট হল, নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন ডোমজুড়ের বিধায়ক৷

এই পরিস্থিতিতে রাজীবকেও ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ক্রমশই জল্পনা বাড়ছে শাসক দলের অন্দরে৷ সেই মতো প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে তৃণমূল৷ কারণ দলনেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা দল ছেড়ে চলে যেতে চান, তাঁরা যেতেই পারেন৷ তবে এখনও প্রকাশ্যে রাজীবের প্রতি কোনও কড়া মনোভাব দেখায়নি তৃণমূল৷ এ দিনও হাওড়ায় যার বিরুদ্ধে রাজীবের মূল অভিযোগ সেই মন্ত্রী অরূর রায় বলেন, 'সত্যিই যদি কোনও নেতা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তা অন্যায়৷ উনি তো সেই নামগুলি খুলে বললে পারতেন৷ তবে এ ভাবে প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য আমি সমর্থন করি না৷ আর যতদিন উনি বিজেপি-তে যাচ্ছেন না, ততদিন আমরা সেটা ধরব কেন?'

ইতিমধ্যেই রাজীবকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব না দেওয়া নিয়ে বিজেপি-তে গিয়ে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ হাওড়া জেলাকে বঞ্চনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি৷ বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে স্বাগত জানিয়ে রেখেছেন৷ ফলে বনমন্ত্রীকে নিয়ে শাসক দলে শুভেন্দু অধিকারী পর্বের পুনরাবৃত্তিই যেন শুরু হয়েছে৷ তবে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছাড়লে যে শুভেন্দুর পরে তা যথেষ্ট বড় ধাক্কা হবে, তা ভালই বুঝতে পারছে রাজ্যের শাসক দল৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: January 4, 2021, 11:28 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर