মেঘলা আকাশের দোসর বৃষ্টি, ঠাণ্ডার দাপটে হু হু কম্প বর্ধমানবাসীর

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনই শীত বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস নেই, বরং আকাশের মেঘ কাটলেই তাপমান যন্ত্র পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে যেতে পারে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনই শীত বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস নেই, বরং আকাশের মেঘ কাটলেই তাপমান যন্ত্র পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে যেতে পারে।

  • Share this:

#বর্ধমান: জাঁকিয়ে পড়া ঠান্ডার দোসর হলো মেঘলা আকাশ। শুক্রবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি বললেই চলে। সকালের দিকে হালকা মেঘ থাকলেও বেলা যত বেড়েছে ততই আকাশের মুখ ভার হয়েছে। দুপুরের পর দু এক ফোঁটা করে বৃষ্টিও শুরু হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে। সব মিলিয়ে শুক্রবার দিনের বেলাতেও শীতের দাপটে জবুথবু বর্ধমানের বাসিন্দারা। যদিও আকাশ মেঘলা থাকায় এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ওপরের দিকেই। এদিন বর্ধমানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনই শীত বিদায় নেওয়ার পূর্বাভাস নেই, বরং আকাশের মেঘ কাটলেই তাপমান যন্ত্র পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্ধমান ও তার আশপাশ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। সেই শীত আগামী কয়েক দিন স্থায়ীও হবে। এমনটাই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাই কনকনে ঠান্ডা থেকে এখনই অব্যাহতি মিলছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারির শুরুতে কয়েক দিনের জন্য শীত উধাও হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। শীত এবার অনেকটাই ক্ষণস্থায়ী বলে মনে করছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে মাঘ মাসের জাঁকিয়ে শীত ভালোই টের পাওয়া যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে। তার ওপর মেঘলা আকাশ শীতের সঙ্গে সঙ্গত শুরু করায় ঠান্ডারও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার দিনের বেলাতেও গরম পোশাকে শরীর ঢাকতে দেখা গেছে বেশির ভাগ পথচলতি বাসিন্দাকেই। সকালের দিকে রাস্তার ধারে আগুন জ্বেলে উষ্ণতা খুঁজছেন অনেকেই।

শীত স্থায়ী হওয়ায় খুশি রাজ্যের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষকরা। জানুয়ারির প্রথম দিকে গরম ভাব অনুভূত হওয়ায় আলু চাষ কিভাবে বাঁচানো যাবে তা নিয়ে আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন কৃষকরা। কিন্তু তারপর থেকে একটানা ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা। কৃষকরা বলছেন, জমি থেকে আলু তুলতে এখনও একমাস দেরি রয়েছে। আগে গরম পড়ে গেলে ধসা রোগের আশঙ্কা থেকে যায়। শীত যত বেশি স্থায়ী হয় আলু সহ শীতকালীন সবজির ফলন তত বেশি হয়। কুয়াশামুক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া আলু সহ শীতকালীন ফসলের পক্ষে অনুকূল। তাই শীত দীর্ঘস্থায়ী হোক চাইছেন কৃষকরা।

Saradindu Ghosh

Published by:Debalina Datta
First published: