হাসপাতালে নেই পরিকাঠামো, বাঁ পায়ের গোড়ালি সহ পচে দগদগে ঘা মানসিক ভারসাম্যহিন রোগীর

হাসপাতালে নেই পরিকাঠামো, বাঁ পায়ের গোড়ালি সহ পচে দগদগে ঘা মানসিক ভারসাম্যহিন রোগীর

সকাল থেকে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে মানুষটি। বাঁ পায়ের গোড়ালি সহ পচে দগদগে ঘা, ভনভন করছে মাছি...

  • Share this:

#মেদিনীপুর: সকাল থেকে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে মানুষটি। বাঁ পায়ের গোড়ালি সহ পচে দগদগে ঘা, ভনভন করছে মাছি। অসম্ভব যন্ত্রনাই বোধহয় বাস্তবের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছে মানুষটিকে। যদিও বাস্তবতা বলতে শুধুই যন্ত্রনা বোধ টুকুই। বাকি একই রকম, মাছি তাড়ানোর বোধ বুদ্ধি নেই, কাউকে ডেকে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা নেই, মানুষটি মানসিক ভারসাম্যহীন। সোমবার এমনই এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে দেখা যায় খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পা জুড়ে দগদগে ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকতে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই সাইকেল স্ট্যান্ডের মধ্যেই পড়ে ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি। এই মর্মান্তিক দৃশ্যের পরই প্রশ্ন ওঠে, এই ধরনের রোগীর চিকিৎসার জায়গা কোথায়?

ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই রোগীকে পড়ে থাকতে দেখেও টনক নড়েনি হাসপাতাল কর্মীদের। টনক নড়েনি হাসপাতালের মধ্যে থাকা অন্য রোগীদের আত্মীয় স্মজনদেরও। কারও একবারও মনে হয়নি মানুষটির চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের মধ্যে বিশেষ কাজে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ছুটে আসেন হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর উদ্যোগ ট্রলি আনিয়ে অসুস্থ মানুষটিকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এই ধরনের রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই হাসপাতালে । প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুই শুধুমাত্র হতে পারে, কিন্তু তারপর?

সুপার বলেন, 'এই ধরনের রোগীরা যেহেতু নিজেদের সম্পর্কে সচেতন নন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অক্ষম তাই সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা যাবে না, অন্য রোগীরা আপত্তি করবেন। এই ধরনের রোগীদের জন্য কোনও পৃথক ওয়ার্ড নেই, ওয়ার্ড তৈরির কোনও পরিকল্পনাও নেই। তাহলে এই ব্যাক্তিকে কোথায় রাখব?' হাসপাতাল সূত্রে এও জানানো হয়েছে, প্রথম দিকে এই ধরনের রোগীদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হত। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে বিরক্ত হত এবং পরবর্তী কালে হুমকির স্বরে জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের রোগী স্থানান্তরিত করলে যে রোগী নিয়ে আসবে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে আভিযোগ জানানো হবে। এরপর থেকেই এই ধরনের মানসিক ভারসাম্যহীন আহত রুগীদের কার্যত চিকিৎসাই করা হয় না। কাজেই প্রশ্ন উঠছে, এই ধরনের রোগীদের কী হবে ?

First published: March 2, 2020, 9:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर