স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম পৌষ মেলাহীন শান্তিনিকেতন, যদিও প্রথা মেনে হচ্ছে পৌষ উৎসব

মেলা না হওয়ায়, ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বোলপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও।

মেলা না হওয়ায়, ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বোলপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও।

  • Share this:

    #বীরভূম: সকাল ৭ থেকে ৭.৩০ মিনিটে বিশ্বভারতী ছাতিমতলা বৈদিক মন্ত্র পাঠ ও রবীন্দ্র সংগীত গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল পৌষ উৎসব। বিশ্বভারতীর তরফ থেকে তারা জানিয়েছেন যে, করোনাভাইরাসের জন্য এবছর পৌষ মেলা করতে পারবে না তাঁরা৷ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্বভারতী করতে পারলো না পৌষ মেলা। এর আগে দু'বার পৌষ মেলা বন্ধ হয়ে গেছিল। একবছর মন্বন্তরের কারণে আর অন্য বছর দেশভাগের সময়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে বছর মৃত্যু হয়, সে বছরও বন্ধ হয়নি মেলা, যদিও ছিল প্রাণহীন৷  এই নিয়ে তিন বার হল না শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা।

    এবছর হচ্ছে না বিশ্বভারতীর পৌষ মেলা , কার্যত শ্মশানের রূপ নিয়েছে পূর্ব পল্লী মেলার মাঠ। মন খারাপ শান্তিনিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীদের। কারণ দুর্গাপুজোর মতো শান্তিনিকেতনের বাসিন্দারা পৌষ মেলায় চারদিন আনন্দ করেন। কিন্তু এবছর করনা ভাইরাসের মহামারীর ফলে পৌষ মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পৌষ মেলা বন্ধ হলেও হবে পৌষ উৎসব। যা ৬ পৌষ থেকেই শুরু হয়ে যাবে৷ সন্ধ্যায় বৈতালিকের মাধ্যমে শুরু হবে এ বছরের পৌষ উৎসব৷ ৭ পৌষ শান্তিনিকেতনে ছাতিমতলা উপাসনা, ৮ পৌষ বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান এবং ৯ পৌষ সন্ধ্যায় বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরে খ্রীষ্ট উৎসব ও আলোকসজ্জা মাধ্যমে এ বছরের মতন শেষ হবে পৌষ উৎসব। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পৌষ উৎসব এর সমস্ত কিছু উপাচার পালন হবে ।

    পৌষ মেলা শুধু এবছর বন্ধ হয়নি পৌষ মেলা এর আগে দু'বার বন্ধ হয়ে গেছিল যার ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষের কারণে পৌষ মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয় আর ১৯৪৬-এ দেশভাগের সময় এই পৌষ মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়৷ এই নিয়ে ৩ বার পৌষমেলা বন্ধ হল শান্তিনিকেতনে৷ দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্ম ধর্মের দীক্ষার দিনকে স্মরণ রাখতে এই পৌষ মেলা করা হয়। এই পৌষ মেলায় সূচনা হয় ১৮৯১ সালের ৭ই পৌষ, সেই বছর বিশ্বভারতীর উপাসনা মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠেই বসেছিল পৌষ মেলা। আস্তে আস্তে পৌষ মেলা শ্রী বৃদ্ধি ঘটে৷ পৌষ মেলাকে স্থানান্তরিত করা হয় ১৯৬১-এ পূর্ব পল্লী মেলার মাঠে৷ সেই বছর থেকেই বৃহৎ আকারে আস্তে আস্তে পৌষ মেলা রূপ নেয় শান্তিনিকেতনের দুর্গাপুজোর। ১৯৪১ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে বন্ধ হয়নি মেলা৷

    মেলা না হওয়ায়, ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বোলপুরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও। মন খারাপ শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীদেরও৷ ১২৫ বছরের মেলা এবছর বন্ধ। এবছর বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর৷ আর এবছরই ফের বন্ধ মেলা৷ তাই আরও বেশি মন খারাপ শান্তিনিকেতনের কারণ ১০০ বছরের বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার বছরেই করা গেল না পৌষ মেলা। অনেকের দাবি রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ হচ্ছে শুধু পৌষ মেলার ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের কারণ দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হল৷ এই নিয়ে অনেকে প্রশ্নও তুলেছেন৷

    (Reporter-Indrajit Ruj)
    Published by:Pooja Basu
    First published: