ভাল দাম মেলায় আগাম তোলা হচ্ছে নতুন আলু, আগামী দিনে দাম কমার সম্ভাবনা কম

ভাল দাম মেলায় আগাম তোলা হচ্ছে নতুন আলু, আগামী দিনে দাম কমার সম্ভাবনা কম

পেঁয়াজের সঙ্গে আলুর দামে এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: প্রতিদিনই বাড়ছে আলুর দাম। এখনই পুরনো আলুর দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকা। বাজারে এখনও নতুন আলুর সেভাবে দেখা নেই। যেটুকু আসছে তারও দাম আকাশছোঁয়া। নতুন আলু বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ২৮ টাকা দরে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে আলুর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা। পেঁয়াজের সঙ্গে আলুর দামে এখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের।

বাজারে জোগান না থাকায় আলুর দাম দিনে দিনে বাড়ছে। অন্যান্য বছর ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করে। এ রাজ্যের বর্ধমান, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূমে জলদি জাতের পোখরাজ আলু অন্যান্য বার ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাজারে আসে। এছাড়াও পঞ্জাব, হোশিয়ারপুর, জলন্ধর, ফারুক্কাবাদ, রাঁচি থেকেও নতুন আলু আসে। পুরনো আলুর সঙ্গে সেই আলুর ভালো জোগান থাকায় কেজি প্রতি আলুর দাম সাত আট টাকার মধ্যেই থাকে। কিন্তু এবার পুজোর আগে পরে বৃষ্টির কারণে সেই জলদি জাতের আলু চাষ শুরু করতে দেরি হয়। আবার বুলবুলের প্রভাবে অনেক চাষ নষ্টও হয়ে যায়। ফলে এখনও সেভাবে নতুন আলু বাজারে আসেনি।

অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের গোড়া থেকে নতুন ও পুরনো আলু যৌথভাবে চাহিদা মেটায়। কিন্তু এবার নতুন আলু না থাকায় শুধুমাত্র পুরনো আলুই সব চাহিদা মিটিয়েছে। ফলে পুরনো আলুর ভান্ডার অন্যান্য বছরের তুলনা এবার কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছে। জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়েছে। দাম বেড়েছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। ডিসেম্বরের গোড়ায় ১৬ টাকা কেজিতে আলু মিললেও এখন তার দাম ৩০ টাকা।

বেশিরভাগ হিমঘরেই আলু নেই। বাজারে আলুর তীব্র চাহিদা। ভাল দাম মেলায় পরিণত হওয়ার আগেই নতুন আলু বাজারে পাঠাচ্ছেন কৃষকরা। যে আলু পরিনত হতে এখনও পনের দিন লাগার কথা সেই আলুই বাজারে পাঠাচ্ছেন কৃষকরা। বস্তা প্রতি হাজার টাকা দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। পঞ্চাশ কেজির দাম হাজার টাকা। কৃষক দাম পাচ্ছেন কুড়ি টাকা কেজি। হাত ঘুরে বর্ধমানের পাইকারি বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা কুইন্টাল। অর্থাৎ ২২ টাকা কেজি। খুচরো বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা কেজি দরে। পরিণত হওয়ার আগেই নতুন আলু বাজারে আসছে বলেই তার দেখা মিলতে শুরু করেছে। সেজন্যই সেই আলু আকারে ছোট।

বুলবুলের প্রভাবে এবারে আলু চাষ দেরিতে শুরু হয়েছে। বেশ কিছু জমির আলু নষ্ট হয়ে গেছে। পুরনো আলু নেই। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বাইরের রাজ্যেও আলুর ফলন মার খেয়েছে। সেখান থেকেও তাই নতুন আলু অনেক কম আসছে। তার উপর দুদফায় বৃষ্টি হওয়ায় জ্যোতি চন্দ্রমুখী আলু চাষে ক্ষতি হবে।সেখানেও ফলন কমের আশঙ্কা। পুরনো আলুর জোগান তুলনামূলক আগে শেষ হয়েছে।এমনিতেই বৃষ্টি ও বুলবুলের কারনে নতুন আলুর মোট ফলন মার খাবে। তার ওপর আগাম আলু তুলে নেওয়ায় ফলন কমছে। এক বিঘা জমিতে একশো বস্তা আলু হলে আগাম তুলে নেওয়ায় ফলন মিলছে চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বস্তা। ফলে আগামী সাড়ে তিনমাস অর্থাৎ জ্যোতি আলু না ওঠা পর্যন্ত পোখরাজ আলু এবার রাজ্যের সার্বিক চাহিদা মেটাতে পারবে না - এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। চাহিদা থাকবেই। সে কারনে গতবছরগুলির তুলনায় অনেক বেশি দামেই আলু কিনতে হবে রাজ্যবাসীকে।

First published: 04:22:03 PM Jan 04, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर