কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, আলু পেঁয়াজ ওঠার সময়ে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বৃষ্টি

কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, আলু পেঁয়াজ ওঠার সময়ে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বৃষ্টি

কৃষি দফতরও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি না হলেও বেশি বৃষ্টি হলে আলু পেঁয়াজে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছেই।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

আলু পেঁয়াজ ওঠার সময় বারবার বৃষ্টি। তাতেই চিন্তিত দক্ষিণবঙ্গের কৃষকরা। মঙ্গল ও বুধবার সন্ধ্যার পর দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। তার জেরেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকদের। কৃষি দফতরও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি না হলেও বেশি বৃষ্টি হলে আলু পেঁয়াজে ক্ষতির আশঙ্কা থাকছেই।

দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় মাঠ থেকে আলু তোলার মরশুম শুরু হয়ে গিয়েছে। ভাল দাম থাকায় এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় আলু তোলার কাজ দ্রুত শেষ করতে চাইছেন কৃষকরা। ভারি বৃষ্টিতে মালদহে আলু নষ্ট হওয়ার পর আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কৃষকরা। আরও সাতদিন আলু গাছ রাখা যেত। কিন্তু শিলাবৃষ্টি হলে সব আলু মাঠে পচে নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কা থাকছে। ভারি বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেলেও আলু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আলু তোলার কাজ শুরু করে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওয়া, বাঁকুড়া জেলার কৃষকরা। জ্যোতি, চন্দ্রমুখী আলু উঠছে। অনেক কৃষক মাঠ থেকেই সেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেকে পরে বাড়তি দাম মিলবে এই আশায় আলু হিমঘরে পাঠাচ্ছেন।

আলু ওঠার ভরা মরশুম শুরু হওয়ার মুখেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অকাল বর্ষণ। কৃষকরা বলছেন, জমিতে কাদা হয়ে যাচ্ছে। মাটি জল টেনে না নেওয়া পর্যন্ত মাঠে নামা যাচ্ছে না। আবার বাড়তি বৃষ্টি হলেও আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতবার বাঁকুড়া ও হুগলির অনেক জায়গায় অতি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আলু চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছেন না কেউই। তাই আপাতত কয়েকদিন মেঘমুক্ত আবহাওয়াই চাইছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টির সঙ্গে কালবৈশাখীও হতে পারে। তাই আবহাওয়া নিয়ে কৃষকদের চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।

বর্ধমানের মেমারি, জামালপুর, রায়নার দামোদর নদ তীরবর্তী এলাকায় বিস্তৃর্ণ জমিতে আলু চাষ হয়। কৃষকরা বলছেন, প্রকৃতি বিরূপ হলে সব শেষ হয়ে যাবে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তাই আবহাওয়া নিয়ে চিন্তিত সকলেই।

চিন্তিত পূর্ব বর্ধমানের পেঁয়াজ চাষিরাও। এই জেলার কালনা, মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলীতে পেঁয়াজ তোলার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। বর্ধমানের উপ কৃষি অধিকর্তা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এখন পর্যন্ত যা বৃষ্টি হয়েছে তাতে বিশেষ ক্ষতি না হলেও এরপর ভারি বর্ষণ হলে আলু ও পেঁয়াজ চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।

First published: March 5, 2020, 6:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर