প্রেমের কারণেই মা-মেয়েকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, হলদিয়া কাণ্ডের কিনারা

প্রেমের কারণেই মা-মেয়েকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, হলদিয়া কাণ্ডের কিনারা

মৃত দু’জন মহিলা সম্পর্কে মা ও মেয়ে এবং তাঁদের বাড়ি নিউ ব্যারাকপুরে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

  • Share this:

Sujit Bhowmik

#হলদিয়া: শিল্পাঞ্চল হলদিয়ায় নদীর পাড়ে দু’জনের জলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের পাঁচ দিনের মাথায় ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। খুনের ঘটনার সঙ্গে  জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত নেমে প্রথমে দ্বন্দ্বে পড়েছিল পুলিশ। শেষমেশ গতকাল রাতে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় আরও অনেক জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ধৃত দু’জন  সাদ্দাম হোসেন ও মঞ্জুর আলম মল্লিক। রবিবার দু’জনকেই হলদিয়া মহাকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হলদিয়া পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুরখালির নির্জন নদী তীরবর্তী এলাকায় দু’টি দেহ জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই দূর্গাচক থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে জল ঢেলে আগুন নেভায়। দেখা যায় দু’জন মহিলারই শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে। পাশে দু’টি গর্তও খোলা ছিল। পরিচয় জানতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। দেহ দু’টির ময়নাতদন্তের জন্য পশ্চিম মেদিনীপুরে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল  পরিদর্শন করতে এসেছিলেন  ফরেনসিক টিম। দূর্গাচক থানার পুলিশকে নিয়ে তাঁরা পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। তারপরই সেখানকার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুই মহিলার পরিচয় উদ্ধারের জন্য সংবাদ মধ্যামে সাহায্য চাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, দু’জন মহিলার বাড়ি কলকাতার নিউ ব্যারাকপুর এলাকায়। দু’জন সম্পর্কে মা ও মেয়ে।

এই ঘটনা নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, "কোনও প্রেমঘটিত কারণেই এই খুনের ঘটনা। আমরা জানতে পারছি, ওঁদের দু’জনকে জ্যান্ত অবস্থাতেই পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।" মৃত দু’জন মহিলা সম্পর্কে মা ও মেয়ে এবং তাঁদের বাড়ি নিউ ব্যারাকপুরে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মেয়ের সঙ্গে হলদিয়ার এক যুবকের প্রেমে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে মনোমালিন্য থেকেই এই জোড়া খুনের ঘটনা বলে পুলিশের দাবি। দু’জনকে খুন করে পরিচয় গোপন করার জন্যই দু’জনকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখার্জি জানান।

First published: February 23, 2020, 11:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर