ফ্ল্যাট থেকে আসছে পোড়া গন্ধ, দরজা ভেঙে উদ্ধার মা-ছেলের অগ্নিদগ্ধ দেহ, তদন্তে হাওড়া পুলিশ

ফ্ল্যাট থেকে আসছে পোড়া গন্ধ, দরজা ভেঙে উদ্ধার মা-ছেলের অগ্নিদগ্ধ দেহ, তদন্তে হাওড়া পুলিশ
ফ্ল্যাট থেকে আসছে পোড়া গন্ধ, দরজা ভেঙে উদ্ধার মা-ছেলের অগ্নিদগ্ধ দেহ, তদন্তে হাওড়া পুলিশ। প্রতীকী ছবি।

শারীরিক ভাবে অক্ষম ছেলে কীভাবে এই ঘটনা ঘটাবে? তাহলে কী সন্তানকে খুন করেই আত্মঘাতী হল মা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

  • Share this:

#হাওড়া: ছোট থেকেই ছেলে বিশেষভাবে সক্ষম, সময়ের সাথে সাথে বয়েস বাড়ছে মা বাবারও। ২৮ বছর ধরে শারীরিক ভাবে অক্ষম ছেলে কীভাবে চলে তার বাবা মা-হীন সন্তানের, কে খাইয়ে দেবে কে স্নান করিয়ে দেবে? সারাদিন এক চিন্তায় চিন্তায় কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। অবশেষ চাপ রাখতে পরেই ছেলে নিয়ে এক সাথে না ফেরার দেশে পারি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মায়ের। ছেলের ঘরে বসেই সন্ধ্যায় জোরে টিভি চালিয়ে আত্মঘাতী হল মা ও ছেলে।

শারীরিক ভাবে অক্ষম ছেলে কীভাবে এই ঘটনা ঘটাবে? তাহলে কী সন্তানকে খুন করেই আত্মঘাতী হল মা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনা হাওড়ার ১১০/১, নরসিংহ দত্ত রোডের যোগমায়া এলাকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতেই ছেলে ও মা-কে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করেন স্থনীয়রা। মৃতা মৌমিতা কুন্ডু (৫৫) ও ছেলে আবীর কুন্ডু (২৮)। যে ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে মা ও ছেলের দেহ তার পাশের ঘরেই ছিল আবীরের বাবা। পাশের ঘরে থাকলেও ঘুণাক্ষরে স্ত্রীর এই কীর্তি বুঝতে পারেননি বলে দাবি। তাঁর দাবি, পাশের ঘরে মা আর ছেলে বেশিরভাগ সময়েই টিভি দেখে, আজও তাই করছিল, তবে টিভির সাউন্ড মারাত্মক  জোরে ছিল। মনে করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করেই ছেলেকে খুন করেই আত্মঘাতী হয়েছেন মা। ছেলেকে খুন করার আওয়াজ যাতে বাইরে না বেরিয়ে যায়, তা রুখতেই টিভির সাউন্ড বাড়িয়ে রেখেছিলেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাঁরা বাইরে থেকে ধোঁয়া দেখে দৌড়ে আসেন। দরজা ভেঙে দেখতে পান খাটে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন জল দিয়ে আগুন নেভাতেই দেখা যায়  বিছানায় ওপরে রয়েছে মা ও ছেলের নিথর অগ্নিদগ্ধ দেহ। ছেলেকে নিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মা মৃত মৌমিতা কুন্ডু। প্রাথমিকভাবে, আত্মহত্যার ঘটনা মনে হলেও পুলিশ অস্বাভাবিক মামলা রুজু করে হাওড়ার ব্যাটারা থানার পুলিশ দেহ দু'টি ময়না তদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মনে করা হচ্ছে, ছেলেকে যদি জীবিত আগুন দিত তাহলে ছেলেটি বাঁচার জন্য চেষ্টা করত। পুলিশ মনে করছে ছেলেকে শ্বাসরোধ করে বা কিছু খাইয়ে অচৈতন্য করেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


Debasish Chakraborty

Published by:Shubhagata Dey
First published: