• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • POLICE DELIVERS FOOD AFTER A ZOMATO DELIVERY BOY GOT SERIOUSLY INJURED IN NIMTA DMG

Zomato Delivery Boy: ঘুড়ির সুতোয় রক্তাক্ত ডেলিভারি বয়, বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে এলো পুলিশ

বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ (বাঁদিকে)৷ আহত ডেলিভারি বয় সন্দীপ রায়৷

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জোম্যাটোর ওই ডেলিভারি বয়ের গলায় মোট এগারোটি সেলাই পড়ে৷ চিকিৎসার পর ওই যুবককে বাড়িতেও পৌঁছে দেয় পুলিশ (Zomato Delivery Boy)৷

  • Share this:

#নিমতা: খাবার নিয়ে ডেলিভারির জন্য বাইক চালিয়ে ছুটছিলেন জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়৷ মাঝরাস্তায় আচমকা ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে গুরুতর আহত হলেন তিনি৷ কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা শুধু এগিয়ে এসে আহত ডেলিভারি বয়কে হাসপাতালে পাঠালেন তাই নয়, কাজে ক্ষতি হতে পারে ভেবে নিজেই খাবার নিয়ে গ্রাহকের বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়ে এল পুলিশ!

পুলিশের এমনই মানবিক মুখের সাক্ষী থাকল উত্তর চব্বিশ পরগণার নিমতা এলাকা৷ এ দিন বিকেলে দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে খাবার নিয়ে নিমতা মাঝেরহাট এলাকার এক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন জোম্যাটোর ডেলিভারি বয় সন্দীপ রায়৷ বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর দিয়ে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই ঘুড়ির মাঞ্জা সুতোয় গলা চিড়ে গলগল করে রক্ত পড়তে থাকে তাঁর৷ পাশ দিয়ে যাওয়া অন্য বাইক আরোহীরাই বিষয়টি দেখে সামনে নিমতা ট্রাফিক গার্ডের কর্তব্যরত কনস্টেবল সুজয় বিশ্বাসকে বিষয়টি জানান৷ সুজয় সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে দেখেন, জোম্যাটোর ওই ডেলিভারির গলার কাছে গুরুতর আঘাত লেগেছে৷ রক্তে ভিজে গিয়েছে তাঁর পোশাকও৷

সঙ্গে সঙ্গে নিজের আরও দুই সহকর্মীকে ডেকে নেন সুজয়৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিমতা ট্রাফিক গার্ডের ওসি সঞ্জীব নস্করও৷ সন্দীপ রায় নামে ওই ডেলিভারি বয়কে চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দমদম পৌর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা৷ কিন্তু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতেও নিজের কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সন্দীপ রায় নামে ওই ডেলিভারি বয়৷ কারণ সময়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় খাবার পৌঁছে দিতে না পারলে কাজ চলে যাওয়ার আশঙ্কাও করছিলেন ওই যুবক৷

বিষয়টি বুঝতে পেরে ফের সাহায্যে এগিয়ে আসেন সুজয় বিশ্বাস নামে ওই কনস্টেবলই৷ সন্দীপের থেকে ঠিকানা নিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একটি বাড়িতে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে আসেন৷ পুলিশকে খাবার পৌঁছে দিতে দেখে প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ওই বাড়ির বাসিন্দারাও!

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জোম্যাটোর ওই ডেলিভারি বয়ের গলায় মোট এগারোটি সেলাই পড়ে৷ চিকিৎসার পর ওই যুবককে বাড়িতেও পৌঁছে দেয় পুলিশ৷ যে কনস্টেবল প্রথম সন্দীপ নামে ওই ডেলিভারি বয়কে সাহায্যে এগিয়ে যান, সেই সুজয় বিশ্বাসের কথায়, 'আমাদের ঊর্ধ্বতন অফিসাররা সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন৷ আর সবার উপরে আমি তো একজন মানুষ৷ ওই ছেলেটির গলায় গুরুতর আঘাত ছিল৷ তার মধ্যেও কাজ চলে যাওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন উনি৷ তাই আমিই নিজে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই৷ খাবার পৌঁছতে যে একটু দেরি হবে, যিনি অর্ডার দিয়েছিলেন তাঁকে ফোন করে জানিয়েও দিয়েছিলাম৷'

সন্দীপ রায় নামে জোম্যাটোর যে ডেলিভারি বয় দুর্ঘটনায় আহত হন, মাত্র ১৫-২০ দিন আগে তিনি এই কাজে যোগ দিয়েছিলেন৷ আদতে বিহারের মধুপুরের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি ওই যুবক মাসখানেক আগে কাজের খোঁজে কলকাতায় আসেন৷ উঠেছেন নিমতা আলিপুর এলাকায় নিজের দিদির বাড়িতে৷ শুরুতেই অন্যকিছু কাজের খোঁজ না পেয়ে জোম্যাটোর ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি৷ তার মধ্যেই এই বিপত্তি৷ তার মধ্যেও নতুন জায়গায় পুলিশকে এই ভূমিকায় দেখে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা পাচ্ছেন না সন্দীপ৷ বিশেষত কনস্টেবল সুজয় বিশ্বাসের কথা মনে আছে তাঁর৷ সন্দীপের কথায়, 'পুলিশ আমাকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো থেকে শুরু করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্ব নিয়েছে৷ এমন কি, খাবারটাও ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে৷ যাতে আমার কাজের ক্ষতি না হয়৷ সুজয় ববাবুর নামটা আমার মনে আছে৷ কিন্তু বাকি সবাইও একই ভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন৷'

ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত নিমতা ট্রাফিক গার্ডের ওসি সঞ্জীব নস্কর বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী দুয়ারে সরকার পরিষেবা শুরু করেছেন৷ আমরাও সবসময় চেষ্টা করি সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে৷ আহত ওই যুবককে সাহায্য করাটা আমাদের কর্তব্য৷ কিন্তু অতিমারির মধ্যে অনেকের এমনিতেই কাজ চলে যাচ্ছে বা গিয়েছে৷ তাই চাইনি ওই যুবকের কাজের কোনও ক্ষতি হোক৷ কারণ খাবার পৌঁছে না দিতে পারলে ওঁদের পারিশ্রমিকের একটি অংশও কাটা যায়৷ সেই কারণেই ওই খাবার পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷'

Published by:Debamoy Ghosh
First published: