corona virus btn
corona virus btn
Loading

পুলিশের মানবিক মুখ দেখে অবাক পরিযায়ী শ্রমিকরা

পুলিশের মানবিক মুখ দেখে অবাক পরিযায়ী শ্রমিকরা

মেমারি থানা ৩ টি জায়গায় মোট ৮৭ জন আটক রয়েছেন। বাগিলা প্রাইমারি স্কুল থাকা ৩৭ জন শ্রমিকের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি বীরভূমের নলহাটি, মুর্শিদাবাদ এলাকায়।

  • Share this:

#বর্ধমান: পুলিশ সম্পর্কে ধারনটাই বদলে গেল ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের। পুলিশ মানেই রুক্ষ মুখ, খাঁকি উর্দি আর লাঠিপেটা করার যন্ত্র নয়, পুলিশের কঠোর বহিরঙ্গের আড়ালে নরম একটা মন আছে সেই ধারনা শাখা প্রশাখা ছড়াতে শুরু করেছে এই শ্রমিকদের মনে। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, মেমারি, বর্ধমানে বিভিন্ন স্কুলে রয়েছেন এই শ্রমিকরা। লক ডাউন শুরু হওয়ায় কাজ হারিয়ে পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরছিলেন তাঁরা। তাদের আটকে বিভিন্ন স্কুলে রেখেছে পুলিশ। সেখানেই দিনে রাতে পুলিশ কর্মী অফিসারদের দেখে অবাক এই শ্রমিকরা।

তাদের বাড়ি কারও রামপুরহাটে। কেউ থাকেন মুর্শিদাবাদে। কাউকে যেতে হবে বিহার কিংবা ঝাড়খণ্ডে। সেই শ্রমিকরাই এখন আটকে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্কুলে। তারা এতোদিন পূলিশকে এড়িয়েই চলেছেন।এলাকায় বড় গোলমাল হলে দেখেছেন পুলিশের বুটের দাপাদাপি। দেখেছন লাঠিপেটা, বন্দুক উঁচিয়ে গুলি ছোঁড়ার দৃশ্য। শুনেছেন পুলিশে ছুঁলেই আঠারো ঘা। সেই পুলিশই যে মানবিক হতে পারে বুঝছেন এতো দিনে

মেমারি থানা ৩ টি জায়গায় মোট ৮৭ জন আটক রয়েছেন। বাগিলা প্রাইমারি স্কুল থাকা ৩৭ জন শ্রমিকের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি বীরভূমের নলহাটি, মুর্শিদাবাদ এলাকায়। তাঁরা বললেন, পুলিশ যখন আমাদের ধরেছিল, তখন খুব ভয় হয়েছিল। ভেবেছিলাম মারধরের পর আমাদের জেলে পাঠিয়ে দেবে। পরে থানার বড়বাবু এসে যখন আমাদের সব বুঝিয়ে বলল তখন কিছুটা ভয় কেটেছে। আট আটদিন ধরে আমাদের তিনবেলা খাবার দিচ্ছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে আমাদের কাপড়, জামাও দিয়েছে নতুন। পুলিশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিয়েছে।

বীরহাটা এলাকার বিদ্যার্থীভবন বয়েজ স্কুলে আটকে থাকা শ্রমিকরা বললেন, পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলাম। পুলিশ আমাদের আটকালো। কি হয় কি হয় ভাবছি। আমাদের এই স্কুলে নিয়ে আসা হল। রাতে খাবার দিল। এভাবে দু’দিন চলার পরে বর্ধমান থানার বড়বাবু এসে একদিন দেখি আমাদের লুঙ্গি, গেঞ্জি দিলেন।পুলিশ এভাবেও খেয়াল রাখতে পারে ভেবে অবাক হয়ে গেছি। এক পোশাকে থাকতে আমাদের সত্যিই অসুবিধা হচ্ছিল।

জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, ওনারাও আমাদের মতোই এ দেশের নাগরিক। লক ডাউনে অসুবিধায় পড়েছেন। হেঁটে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারতেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি। পুলিশ কর্মী অফিসাররা তাদের দেখভাল করছেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে এর পিছনে। পুলিশ নিজেও উদ্যোগ নিয়েছে। সবাই ভালো থাকলে তবেই আমি ভালো থাকব।

Published by: Dolon Chattopadhyay
First published: April 8, 2020, 7:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर