ভোট নিয়ে কোনও কথা নয়! বোলপুরের বনেরডাঙা গ্রামে এখন শুধুই মৌনতা!

ভোট নিয়ে কোনও কথা নয়! বোলপুরের বনেরডাঙা গ্রামে এখন শুধুই মৌনতা!
photo source collected
  • Share this:

#বোলপুর:  লোকসভা ভোটে এখন চারিদিকে সাজো সাজো রব। আগামী ২৯ এপ্রিল চতুর্থদফার ভোট। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত এখন সব রাজনৈতিক দল। এই একই দৃশ্য চোখে পড়ে বোলপুরেও। বোলপুরে এবার লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অসিত মাল আর বিজেপি থেকে দাঁড়িয়েছেন রামপ্রসাদ দাস। এই দুই দলেই এবার জোরদার লড়াই। বাকি দলেদের দেখা যাচ্ছে বটে, তবে তাঁদের প্রচার বোলপুরে চোখে পড়ার মতো নয়। এখানকার প্রান্তিক মানুষদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নজর দেন নেতারা। কিন্তু সেই প্রান্তিক মানুষরাই লুকিয়ে ফেলতে চান নিজেদের মুখ। বলতে চান না কথা।

সোনাঝুরি বোলপুরের প্রাণ কেন্দ্র। এই সোনাঝুরিতেই আছে 'বনেরডাঙা' গ্রাম। বোলপুর বেড়াতে গেলে মানুষ এই গ্রামে যাবেনই। তবে ভোটের আগে একে বারে অন্য চিত্র চোখে পড়ল এই গ্রামে। গ্রামে ঢুকতেই কলতলায় বসেছিলেন কয়েকজন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে যেতেই তাঁরা মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। কেউ কথা বললেন না। কি আর করা! তাঁদেরকে বাদ দিয়েই গ্রামে ঢুকতে হল। বাচ্চারা তখন কড়া রোদ মাথায় নিয়েই মাটিতে বসে খেলছে। একজন বয়স্ক ভদ্র মহিলা এগিয়ে আসছিলেন। তাঁকে ডাক দিতেই একটা খড়ের চালের ঘরে দৌড়ে ঢুকে পড়লেন। বাচ্চারা খেলা ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গে ছুঁটে পালাল। মাটির দাওয়ায় ধান বাঁছ ছিলেন দুই মহিলা। তাঁদেরকে বললাম, 'দিদি আপনারা ২ টাকা কিলো চাল পান?' সঙ্গে সঙ্গে বললেন,' আপনার কি দরকার? বলবো কেন আপনাকে? আমি চাল না পেলে আপনি দিবেন? যান যান এখান থেকে। আমরা কোনও কথা বলবো না।' বলেই ঘরে ঢুকে পড়লেন। মনে হচ্ছিল, 'শোলে' সিনেমার শ্যুটিং হচ্ছে। আর নিজেকে তখন গব্বর সিং মনে হচ্ছে। যেন গ্রামে ডাকাত পড়েছে। সবাই প্রাণ বাঁচিয়ে পালাচ্ছেন। আরও কয়েকটি বাড়ি পার করে একটা মাঠের ধারে কয়েকজনকে সাঁওতাল পুরুষকে দেখা গেল। একজন মধ্য বয়স্ক লোক মন দিয়ে বাঁশ কাটছেন। তাঁকে নাম জানতে চাইতেই তিনি বললেন, 'আমার নাম জানি না। আমার নাম নেই।' একবারও মুখের দিকে না তাঁকিয়ে নিজের কাজ করে গেলেন। তখনই একজন ভদ্রলোক বললেন, 'শুনুন আমাদের নাম হয় না। আমরা সাঁওতাল। আমরা কোনও দলের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। কোনও দলের হয়েও কথা বলতে চাই না।' তারপর নিজেই বললেন, 'ভোট আমরা দিব। কারণ না দিলে আমাদের কথা কেউ ভাববে না। এমনিতেও এখানে বাবুরা বেড়াতেই আসেন। আমাদের জল নেই, খাবার নেই, কাজ নেই তাই আমাদের আর কিছু বলারও নেই। আমরা যেমন আছি তেমনই থাকব। আমাদের গ্রামে কেউ কথা বলবে না।'' কথা শেষ করে ভদ্রলোক চলে গেলেন, কাজ আছে বলে।

ভোটের আগে মৌনতা বাসা বেঁধেছে বোলপুরের 'বনেরডাঙা' গ্রামে। এই গ্রামের মানুষ কি চান সেটাও জানাতে চান না। তাঁদের অভিযোগ আজ মৌনতায় বদলে গিয়েছে। তাঁরা বিধানসভা লোকসভা কোনও কিছুই বোঝে না। শুধু বোঝে দুমুঠো চালের কথা। তৃণমূল বা বিজেপির জেতাতে তাঁদের কিছু এসে যায় না। তাঁরা ভোট দেবে। কারণ এই একটা অধিকার যা তাঁরা ছাড়তে চান না। তবে তাঁরা এটাও মনে করেন, যে এই ভোটে তাঁদের কোনও পরিবর্তন হবে না। জংলা শাক খেয়েই কাটবে তাঁদের জীবন। এই গ্রাম ধার ধারে না কোনও রঙের। তাঁরা চলে নিজের ছন্দে। বনের ডাঙা গ্রামে ঢুকলে কোথাও একটাও পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সামান্য একটা ফ্ল্যাগও চোখে পড়বে না। এই গ্রামে প্রচারের আঁচ লাগেনি। কিংবা হয়তো গ্রামের মানুষদের মৌনতার কাছে হার মেনেছেন রাজনৈতিক নেতারাও। নিজেদেরকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছেন 'বনেরডাঙা' গ্রামের মানুষ।

First published: 06:09:44 PM Apr 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर