নদী ভাঙ্গন কেড়ে নিয়েছে ভিটে-জমি, জীবিকা বদলে কেউ ক্ষেতমজুর, কেউ পরিযায়ী শ্রমিক

নদী ভাঙ্গন কেড়ে নিয়েছে ভিটে-জমি, জীবিকা বদলে কেউ ক্ষেতমজুর, কেউ পরিযায়ী শ্রমিক
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবটাই এখন জলের তলায়। আরও স্পষ্ট করে বললে, নদীর গ্রাসে।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবটাই এখন জলের তলায়। আরও স্পষ্ট করে বললে, নদীর গ্রাসে।

  • Share this:

# নদীয়া : যত দূর চোখ যাচ্ছে শুধু জল আর জল। বলে না দিলে বোঝার উপায় নেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও সেখানেই ছিল আস্ত একটা জনপদ। বসত-বাড়ি, পাকা রাস্তা, স্কুল, ডাক্তারখানা! আরও কত কী! সম্পূর্ণ একটা জনবসতি।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবটাই এখন জলের তলায়। আরও স্পষ্ট করে বললে, নদীর গ্রাসে। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব‍্যবধানে ভিটে-মাটি, কৃষি-জমি সব ইতিহাসের পাতায়। নদী ভাঙ্গনে মুছে গিয়েছে গোটা গ্রামের অস্তিত্ব। এমন উদাহরণ কম নেই। নদীয়ার কল্যাণী ব্লকের অন্তর্গত সরাটি গ্রাম যেমন।

ভাঙতে ভাঙতে গঙ্গা এখানে গিলে নিয়েছে গোটা সরাটিকেই। স্থানীয় বাসিন্দা আনসার মন্ডল আফসোস করছিলেন,"আট বিঘা জমি ছিল। সবই গিয়েছে। এখন অন্যের জমিতে ক্ষেতমজুরী করে পেট চলে। গঙ্গা যে ভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে ভিটে টুকুও কত দিন থাকবে জানি না।" কথা বলতে বলতেই চোখ ভিজে যায় চোখ সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আনসারের। একা আনসার নন। কল‍্যাণী ব্লকের বর্ধিষ্ণু গ্রাম হিসেবে পরিচিত সরাটির ঘরে ঘরে এমন ছবি।


আনসারের প্রতিবেশী রুপজান মন্ডল যেমন বলছিলেন,"নিজের বিঘা চারেক জমি ছিল। সারা বছর চাষ-বাস চলত জমিতে। এবারের ভাঙ্গনে শেষ অবলম্বনটুকু বাকি ছিল, সেই  জমিটাও চলে গেল। অন্য রাজ্যে মজুরের কাজ করতে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নেই।" কৃষিজীবী থেকে পরিযায়ী শ্রমিক।

 নদী ভাঙ্গন বদলে দিয়েছে জীবন ও জীবিকা। এক রাতেই চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় সারা জীবনের উপার্জন। নদী ভাঙ্গন কেড়ে নেয় শেষ অবলম্বন টুকু। শেষ হয়য়না নদী পাড়ে বসবাসকারী মানুষগুলোর দুর্দশার কাহিনী।

PARADIP GHOSH

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর