corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে কাজ হারিয়েও, হেরে যাননি তারা! সংসারের হাল ধরতে যা করছেন...

লকডাউনে কাজ হারিয়েও, হেরে যাননি তারা! সংসারের হাল ধরতে যা করছেন...

গলি -মহল্লা, গাড়ি, টাকার বিনিময়ে স্যানিটাইজ করে দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা অকপটে জানাচ্ছেন তাঁরা সামাজিক দায়বদ্ধতা বা মহৎ আদর্শ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে পেশা বদল করেননি।

  • Share this:

#উত্তর ২৪পরগনা: পেট বড় বালাই, তাই  লকডাউনের সময় চরিত্র বদলে যাচ্ছে বিভিন্ন পেশায় থাকা মানুষের। কোভিড মোকাবিলায় দফায় দফায় লকডাউন। মাথায় হাত দিন আনি দিন খাই মানুষের। কাজে যেতে পারছেন না বহু মানুষ। আয়ের উৎস বন্ধ। তাই  অনেকেরই কাজের চরিত্র রাতারাতি বদলে যাচ্ছে।  এই ক্রান্তিকালে কিছু মানুষ স্যানিটাইজ করার কাজ বেছে নিচ্ছেন। গলি -মহল্লা, গাড়ি, টাকার বিনিময়ে স্যানিটাইজ করে দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা অকপটে জানাচ্ছেন তাঁরা সামাজিক দায়বদ্ধতা বা মহৎ আদর্শ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে পেশা বদল করেননি। এরকম দুজন মানুষ হলেন বিভাস চক্রবর্তী ও বিশ্বজিৎ ঘোষ। দুজনেই উত্তর চব্বিশ পরগনার  হালিশহরের বাসিন্দা। দুজনেই বাইক ও চার চাকার গাড়িকে ঝাঁ চকচকে করতে পালিশের কাজ করতেন। এখন করছেন স্যানিটাইসিংয়ের কাজ ।

বিশ্বজিত ঘোষ বা বিভাস চক্রবর্তীর আগে ছিল নো ওয়ার্ক নো পে-র চাকরি। ফলশ্রুতি মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে তিনমাস কার্যত গ্রাসাচ্ছদনের সংকট। জুন মাস থেকে তাঁরা রাস্তায় নামলেন, কাঁধে স্যানিটাইজার।সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইডের জার কাঁধে ও হাতে স্প্রে মেশিন নিয়ে গলি মহল্লা, শহর, মফস্বলে তাঁরা সকাল থেকে রাত অর্থোপার্জনের জন্য পাড়ি জমাতে শুরু করলেন। মারণ ভাইরাস রুখতে সংকটকালে জীবন বাজি রেখে বাড়ি, গাড়ি, দোকান, স্ট্রিট কর্নার স্যানিটাইস করতে কোনও স্থানই  তাঁদের অগম্য রইল না।

উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, কলকাতা যখন যেখানে ডাক পড়ছে ছুটছেন তাঁরা। পালিশের কাজের থেকে নতুন পেশায় আয় কমেছে। দাবি বিভাস চক্রবর্তী। প্রথম দিকে শ’দুয়েক আয় হত৷ এখন ভাগ্যসদয় হলে পাঁচশো টাকা দিনান্তে পকেটে আসছে বলে জানান বিভাস চক্রবর্ত্তী। আর তাতেই চলছে সংসার । লক ডাউনের প্রথমদিন বাইকে দশ কুড়ি টাকা , ফোর হুইলার পঞ্চাশ টাকা, বাড়ি পিছু দেড়শো দুশো স্যানিটাইস করার জন্য নিচ্ছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সুদূর হালিশহর থেকে নদীয়ার জাগুলিয়াতে ডাক পেয়েছিলেন। বেরোলেন যখন উত্তর চব্বিশ পরগনার সদর শহর বারাসাত এসে ঘুরে কিছু টুকরো কাজ আর খুচরো আয় করলেন তাঁরা।

বিভাস চক্রবর্তী পরিষ্কার জানালেন, দুটো পয়সা হাতে আসছে। বিশ্বজিত ঘোষ  এও জানালেন ভয় আশঙ্কা যতই থাক, বাঁচার জন্য দরকার টাকা। তাই বাধ্য হয়ে ভ্রাম্যমান স্যানিটাইজার হয়ে উঠেছেন তাঁরা। দুজনেই জানাতে ভুললেন না, লকডাউনে বড্ড দুঃসময়ে আছেন তাঁরা। কোনও মহত ব্রত নয়, স্রেফ এই পেশা অবলম্বন করে বাড়ির লোকের মুখে দুটো অন্ন তুলে দিতে এই কাজ করছেন তাঁরা। তাঁদের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী নয়। বর্তমান নিয়ে বাঁচেন তাঁরা। আজ কাল পরশু কী ভাবে চলবে সেদিকে তাকিয়েই তাঁদের জীবন সংগ্রাম। মানুষ তাঁদের কাজে উপকৃত হচ্ছেন, জীবাণুমুক্ত হচ্ছেন আর যাদের মাধ্যমে এতসব হচ্ছে তাঁদের জুটছে জীবনযুদ্ধের রসদ। জীবন হাতের মুঠোয় রেখে তাঁরা পার করছেন লকডাউনের জীবনসংগ্রামের একেকটি চরম মুহুর্ত।

Published by: Pooja Basu
First published: July 29, 2020, 6:36 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर