• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • পেটের দায়ে বাঘের মুখে সুন্দরবনের মানুষ ! নেই কোনও সাহায্য ! উঠে এল আক্ষেপের সুর !

পেটের দায়ে বাঘের মুখে সুন্দরবনের মানুষ ! নেই কোনও সাহায্য ! উঠে এল আক্ষেপের সুর !

এমনও মানুষকে পাওয়া গেছে যিনি বাঘের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচেছেন।তবে পেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা খুব ক্লান্ত।এতটাই হতাশ এবং আশাহত হয়েছেন বারে বারে,তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, 'আর বলে কি হবে! ওরা কি কিছু দেবে? '

এমনও মানুষকে পাওয়া গেছে যিনি বাঘের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচেছেন।তবে পেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা খুব ক্লান্ত।এতটাই হতাশ এবং আশাহত হয়েছেন বারে বারে,তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, 'আর বলে কি হবে! ওরা কি কিছু দেবে? '

এমনও মানুষকে পাওয়া গেছে যিনি বাঘের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচেছেন।তবে পেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা খুব ক্লান্ত।এতটাই হতাশ এবং আশাহত হয়েছেন বারে বারে,তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, 'আর বলে কি হবে! ওরা কি কিছু দেবে? '

  • Share this:

#সুন্দরবন: বিষ্টু মন্ডল বয়স ৭৭বছর। বাড়ি গোসাবা ব্লকের সত্যনারায়ন পুর গ্রামে। ২০০৯ সালে গ্রামের ধান জমিতে ধান কাটতে যান। সেই সময় একটি বাড়িতে বাঘ লুকিয়েছিল। সেই বাঘ আক্রমণ করেছিল বিষ্টুকে। তিনটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করেন বিষ্টু বাবু। তিনটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বিষ্টু বাবু কোনও ভাবে বেঁচে যান। তখন ওনার বয়স ছিল ৬৩ বছর। গুরুতর আহত হয়ে গোসাবা হাসপাতালে ভর্তি হন।সেই সময় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছিল বনদফতর। তারপর থেকে ডান হাত একেবারে অকেজো ,ডান কানে শুনতে পান না। বলা যায় বিষ্টু বাবু এখনও অসুস্থ। তাকে কোনওভাবে আর সরকারি সাহায্য করেনি বন দফতর।  বিষ্টু বাবুর ছেলে ব্রজেন। ৪০ বছর বয়স। ব্রজেন গ্রামেও যেরকম খাটাখাটনি করে, জীবিকার তাগিদে কখনও অন্ধপ্রদেশ, বা অন্য রাজ্যে চলে যান শ্রমিকের কাজ করতে।লক ডাউন এ ফিরে আসার পর আবার জঙ্গলে যাচ্ছে,মাছ কাঁকড়া ধরতে। ইনি মধুও ভাঙতে যান।তবে এরা সবাই চুরি করে । পাস ছাড়া যায়। বিষ্টু বাবুর স্ত্রীর একই দাবি,তারা কোনওভাবে সরকারি কোনও অনুদান পাননি কখনও।

শুধু এই বিষ্টু বাবু নন ।এলাকায় ঘুরলে প্রচুর মানুষ রয়েছেন যারা জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া কিংবা মধু ভাঙতে গিয়ে বাঘের আক্রমণকে প্রতিহত করে বেঁচে ফিরেছেন। তবে তাঁরা কেউ সুস্থ নন। তাদের সংসার খুব খারাপ ভাবে চলে।এছাড়াও তো প্রচুর পরিবার রয়েছে যাদের বাড়ির মানুষ বাঘের পেটে গেছে। এরকম বহু পরিবার আছে যারা চুরি করে জঙ্গলে গিয়েছিল ,বাঘে খেয়ে গেছে । তারা আইনের ভয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেনি।  এদের জন্য দায়ী কারা? কেন শিক্ষার বদলে জীবন বাজি রেখে জঙ্গলে যেতেই হয় ওদের? সরকারি অনুদান কিংবা সরকারি প্রকল্পের অভাব রয়েছে এখানে। প্রত্যেকের একই কথা,এদের জীবন-জীবিকা শূন্যের খাতায়।  ওই সত্য নারায়ন পুর গ্রামেই বাড়ি বাসন্তী বিশ্বাসের। এখন বয়স ৩৫ থেকে ৩৬ বছর। স্বামী বছর চারেক আগে জঙ্গলে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যায়। ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে, কোন ভাবে কোথাও জমিতে শ্রমিক খেটে কিংবা ভিক্ষে করে,চালিয়ে আসছিলেন সংসার। ছেলের ষোল বছর বয়স হতেই তাকে, আসামে শ্রমিকের কাজে পাঠান। এখন লকডাউন। রোজগার একেবারে নেই। ইনি কিছুতেই ছেলেকে আর জঙ্গলে পাঠাতে চান না। কিন্তু সংসার ,পেট চলবে কিভাবে?

গীতা সরদার স্বামী ঈশ্বর সুবল সরদার।আদিবাসী পরিবার।অভাবের তাড়নায় সুবল স্ত্রী এক ছেলে ও দুই কন্যাকে বাড়িতে রেখে সুধন্য খালি জঙ্গলে মাছ ,কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ দেন। তার পর ছেলে -মেয়েদের খুব কষ্ট করে পড়া লেখা শেখাতে গিয়েও পারেনি।১৬ বছরের ছেলে এখন লোকের জমিতে জন দেয়।অনেক চেষ্টা করেছেন,কেউ পাশে দাঁড়াননি।তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত স্তর থেকে সাহায্য করে।  ওই গ্রামে যতজন মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে প্রত্যেকেই বাঘের থাবার আঘাতে কানে শুনতে পান না।এমনও মানুষকে পাওয়া গেছে যিনি বাঘের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করে বেঁচেছেন।তবে পেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে তারা খুব ক্লান্ত।এতটাই হতাশ এবং আশাহত হয়েছেন বারে বারে,তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ, 'আর বলে কি হবে! ওরা কি কিছু দেবে? '  এই প্রশ্নের মুখে বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় কি !

SHANKU SANTRA 

Published by:Piya Banerjee
First published: