আধার কার্ড নিয়ে চূড়ান্ত হয়রান মানুষ! হাড় কাঁপানো শীতের রাতেও লাইনে রইলেন শুয়ে

আধার কার্ড নিয়ে চূড়ান্ত হয়রান মানুষ! হাড় কাঁপানো শীতের রাতেও লাইনে রইলেন শুয়ে
অবিলম্বে সমস্যা মেটানোর জন্য যথাযথ জায়গায় ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।

অবিলম্বে সমস্যা মেটানোর জন্য যথাযথ জায়গায় ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।

  • Share this:

    #বাঁকুড়া: আধার কার্ডের জন্য মানুষের চূড়ান্ত হয়রানি নিয়ে এবার তরজায় জড়াল বাঁকুড়ার শাসক বিরোধী দুই শিবির। গতকাল, বৃহস্পতিবার, গভীর রাতে আধার কার্ডের জন্য পড়ল লাইন৷ আধার কার্ড না থাকায় কোনও শিশু স্কুলে ভর্তি হতে পারছে না তো কেউ সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে নতুন আধার কার্ড তৈরীর জন্য এখন একমাত্র বাঁকুড়ার মুখ্য ডাকঘরের দরজা খোলা। সেখানেও দৈনিক আধার কার্ড তৈরীর সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র পঁচিশ জন। আগে এলে আগে কাজ এর ভিত্তিতে চলছে এই নতুন আধার কার্ড তৈরী বা সংশোধনের কাজ। অগত্যা আধার কার্ড করাতে কে আগে লাইন দিতে পারে তার জন্য চলছে প্রতিযোগিতা।

    আগের রাত থেকে লম্বা লাইন পড়ছে বাঁকুড়া মুখ্য ডাকঘরের সামনে। রাতের বেলা থেকে পড়ছে লাইন৷ ফলে লাইন বজায় রাখতে শুয়েও পড়ছেন অনেকে৷  শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় শুয়ে থাকছেন আট থেকে আশি সব বয়সের নারী পুরুষ। গতকাল, বৃহস্পতিবার, রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাঁকুড়া মুখ্য ডাকঘরের সামনে হাজির হয়ে লাইনে শুয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। মানুষের এই হয়রানির ঘটনার জন্য কেন্দ্রের অমানবিকতাকে দায়ী করে স্থানীয় বিজেপি সাংসদের বাড়িতে এবার লাইন দেওয়ার পরামর্শ দেন তৃণমূলের নেতা। তিনি বলেন অবিলম্বে বাঁকুড়ার মুখ্য ডাকঘরে দৈনিক আধার কার্ড তৈরীর কোটা পাঁচশো করা না হলে সোমবার থেকে তৃণমূলের যুব ও ছাত্র সংগঠন মুখ্য ডাকঘর ঘেরাও করে রাখবে। মন্ত্রীর এই হুমকির প্রেক্ষিতে বিজেপির দাবি আধার কার্ড তৈরী নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।  অবিলম্বে সমস্যা মেটানোর জন্য যথাযথ জায়গায় ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।

    কিন্তু তৃণমূল এই বিষয়টিকে নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে তাদের অভিযোগ। আধার কার্ড তৈরী নিয়ে রাজনৈতিক যে তাপ উত্তাপই তৈরী হোক না কেন শীতের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় রাতভর খোলা আকাশের নিচে লম্বা লাইনে শুয়ে যারা রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা আপাতত চাইছেন দৈনিক আধার কার্ড তৈরীর সংখ্যা বৃদ্ধি হোক, কারণ তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন সকলে।


    Mritunjoy Das

    Published by:Pooja Basu
    First published: