লক ডাউন শিকেয়! গা ঘেঁষাঘেঁষি করে হাতি দেখতেই ব্যস্ত থাকলেন সকলে

হাতির হাত থেকে বাঁচতে জোট বেঁধেছেন সকলে। কিন্তু তাতে করোনার সংক্রমণে গ্রামকে গ্রাম যে উজাড় হয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারে হুঁশ নেই কারোরই।

হাতির হাত থেকে বাঁচতে জোট বেঁধেছেন সকলে। কিন্তু তাতে করোনার সংক্রমণে গ্রামকে গ্রাম যে উজাড় হয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারে হুঁশ নেই কারোরই।

  • Share this:

#বর্ধমান: হাতি দেখার উৎসাহে লক ডাউন ভুললেন গ্রামবাসীরা। গোল্লায় গেল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আবেদন। শয়ে শয়ে কিশোর যুবক ছুটলেন হাতির পিছু পিছু। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা শিকেয় তুলে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটালেন ঘা ঘেঁষাঘেঁষি করে। মুখে মাস্ক লাগিয়ে ভিড় সামলানোর চেষ্টা চালালেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু পুলিশকে থোড়াই কেয়ার বাসিন্দাদের।

হাতির হাত থেকে বাঁচতে জোট বেঁধেছেন সকলে। কিন্তু তাতে করোনার সংক্রমণে গ্রামকে গ্রাম যে উজাড় হয়ে যেতে পারে সে ব্যাপারে হুঁশ নেই কারোরই।

দেশ জুড়ে লক ডাউন চলছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। এই সময় বাড়ির বাইরে পা দেওয়ার অর্থ মারণ ভাইরাসকে যেচে ঘরে নিয়ে আসা। ঠিক সেই  আতঙ্কের পরিস্থিতিতে হাতির হানা পূর্ব বর্ধমানে। শনিবার সকাল থেকেই জেলার খণ্ডঘোষের খেজুরহাটি, ওঁয়াড়ি, কৈশর ও আলিপুর গ্রামের ধানের জমিতে দুটি হাতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিঘের পর বিঘে বোরো ধানের জমির চরম ক্ষতি হয়েছে। গৃহে বন্দি থাকার ফতোয়া ভুলে উৎসুক গ্রামের মানুষজন শয়ে শয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। লক ডাউন মানা তো দূরের কথা কাতারে কাতারে মানুষজন মেলা দেখার মত অল্প জায়গায় ভিড় জমিয়েছেন। ফলে চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের। পুলিশ চেষ্টা করেও উৎশৃঙ্খল জনতাকে বাগে আনতে পারছে না।

সবজি বাজার মুদিখানা দোকানের ভিড় দেখে উদ্বেগ বাড়ছিল প্রশাসনের। রাস্তায় নেমে ইটের টুকরো দিয়ে গোল এঁকে সবাইকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দূরত্ব বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতে কাজ হয়েছে অনেকেই। জেলা শহরে হাটে বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন অনেকেই। কিন্তু সেসবের কোনও তোয়াক্কাই করল না খন্ডঘোষের গ্রামগুলি। পিল পিল করে ঘর ছেড়ে বেরুলেন বাসিন্দারা। হাতির পিছু ধাওয়া করলেন হই হই করে। না থাকলো তাদের মুখে মাস্ক। না থাকলো তাদের হাতে স্যানিটাইজার। কোনও রকম সতর্কতার কিছু মাত্র তাগিদ দেখালো না কেউই। এত সব সাবধানতা উপেক্ষা করে সবাই এক সঙ্গে রাস্তায় কেন? যুবকরা বললেন, হাতির হামলায় কাউকে মরতে দেব না। কিন্তু সেই হাতির হানা ঠেকাতে গিয়ে যে গোটা এলাকার মানুষের করোনায় মৃত্যুকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে সে ব্যাপারে নীরব তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ হোম কোয়ারান্টিনে আছেন। সংখ্যাটা বিশাল। এরা সবাই করোনা আক্রান্ত দেশ বা রাজ্য থেকে এসেছেন। খন্ডঘোষেও বিপুল সংখ্যায় আছেন তারা। অনেকেই মহারাষ্ট্র গুজরাতে সোনা পাথর সেটিংয়ের কাজ করতেন। সেখান থেকে ফিরেছেন তাঁরা। কঠোরভাবে হোম কোয়ারান্টিন পালিত না হলে বহু মানুষের সংক্রমণ শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই পরিস্থিতিতে এত মানুষের এভাবে বেড়িয়ে পড়ার ঘটনায় প্রমাদ গুনছেন অনেকেই।

Saradindu Ghosh

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: