বসেছে ঝালমুড়ি ফুচকার দোকান ! মেলার রূপ নিয়েছে ভাতারের সুড়ঙ্গের আশপাশ

বসেছে ঝালমুড়ি ফুচকার দোকান ! মেলার রূপ নিয়েছে ভাতারের সুড়ঙ্গের আশপাশ

গুপ্তধন পাওয়া যাবে কী না, কেউ জানে না ৷

  • Share this:

#ভাতার, পূর্ব বর্ধমান: গুপ্তধন মিলবে কিনা পরের কথা। আপাতত মেলার রূপ নিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের মাহাতা গ্রাম। বেলা বাড়তেই শয়ে শয়ে পুরুষ মহিলা আসছেন পূর্ব বর্ধমানের কুনুর নদীর ধারে সুড়ঙ্গ দেখতে। শুক্রবার রাতে বাড়ি তৈরির ভিত খোঁড়ার খোঁজ মেলে সুড়ঙ্গের। তার পর থেকেই উৎসাহীদের ভিড় উপচে পড়ছে। বসেছে দোকানপাট। চা বিস্কুট, ফুচকা, ঝালমুড়ি, চপ মুড়ি, বাদাম ভাজার দোকান বসে গিয়েছে।  ভালোই চলছে বিকিকিনি।

আপাতত ভাতারের মাহাতা গ্রামের জিয়ারুল মল্লিকের জায়গায় পর্যটকদের ঢল নেমেছে বলাই যায়। জিয়ারুল মল্লিক বাড়ি তৈরির জন্য ভিত খুঁড়ছিলেন।তখনই বেরিয়ে পড়ে সুড়ঙ্গ। ইতিহাসের গবেষকরা বলছেন, এই সুড়ঙ্গ আসলে প্রাচীন ইতিহাসের ধ্বংসাবশেষ। ইটের আকার দেখে তাঁরা বলছেন, এই স্হাপত্য অন্তত তিনশো বছরের প্রাচীন। হয়তো কুনুর নদীর বন্যায় মাটির তলায় চাপা পড়ে যায় সেই স্থাপত্য। এতদিনে তার সন্ধান মিলেছে। আর তাতেই দেখা দিয়েছে পুরনো সুড়ঙ্গের আশপাশে গুপ্তধনের ঘর উদ্ধারের সম্ভাবনা।

নিজের চোখে গুপ্তধন দেখতে অতি উৎসাহীদের কেউ কেউ পুলিশের ঘেরাটোপ এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন এক্কেবারে সুড়ঙ্গের মুখে। কেউ কেউ আবার একটা মোহরের সন্ধান পাওয়ার লোভে সুড়ঙ্গেও ঢুকে পড়তে তৎপর। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাঁদের বুঝিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কর্মীরা বলছেন, লাল ফিতেতে এলাকা ঘেরা হলেও তাতে কাজ হচ্ছিল না। উৎসাহীদের ঠেকাতে তাই বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব টপকে সুড়ঙ্গের মুখে চলে যাচ্ছেন অনেকেই। এমনিতেই সব সময় শয়ে শয়ে পুরুষ মহিলা ভিড় করে রয়েছেন। যেকোনও সময় সুড়ঙ্গ ধসে বিপত্তি ঘটতে পারে।

এদিন দুপুরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি দলের আসার সম্ভাবনা। সেকথা চাউর হয়ে যেতেই সকাল থেকেই ভিড় করেছেন উৎসাহীরা। বিশেষজ্ঞরা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করলেই উঠে আসবে গুপ্তধন। সেই ছবি মোবাইল ক্যামেরা বন্দি করতে প্রস্তুত অনেকেই। প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, বিশেষজ্ঞরা আগে সবকিছু খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজন বুঝলে তবেই খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হবে। সেসব যে  অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তা বুঝতে চাইছেন না অনেকেই। সব মিলিয়ে সুড়ঙ্গ রহস্যকে ঘিরে এখন ভাতারের মাহাতা গ্রাম সরগরম তা বলাই যায়।

Saradindu Ghosh

First published: February 10, 2020, 11:13 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर