সদ্যোজাত চুরির পর এবার বেড থেকে উধাও রোগী, ফের কাঠগড়ায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ

সোমবার এলাকার লোকজন হাসপাতালে চড়াও হলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ পড়ে সিসিটিভি ফুটেজের।

সোমবার এলাকার লোকজন হাসপাতালে চড়াও হলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ পড়ে সিসিটিভি ফুটেজের।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: নিরাপত্তায় কড়াকড়িই সার, বেড থেকে উধাও হয়ে গেল রোগী!তিন দিন পরও সেই রোগীর হদিশ মেলেনি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পরই রোগী নিখোঁজের কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল পরিবার। রোগীর হদিশ দেওয়া তো দূরের কথা খোঁজ নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ নিখোঁজের আত্মীয়দের। দেখানো হয়নি সি সি টিভি ফুটেজও।

পূর্ব বর্ধমানের মেমারির কাঁটাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা নিতাই সোরেন। খিঁচুনি হওয়ায় ১৯ ফেব্রুয়ারি  বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। হাসপাতালের রাধারানি ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তাঁর সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। নিতাইবাবুর মেয়ে সঙ্গে ছিলেন। তিনি সিটি স্ক্যানের জন্য স্ট্রেচার আনতে গিয়েছিলেন। ফিরে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন তাঁর বাবা বেডে নেই। কোনও পরীক্ষা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভেবে তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারপরও তাঁকে বেডে ফিরতে না দেখে তিনি হাসপাতালের সুপারের অফিসে অভিযোগ জানাতে যান।

অভিযোগ, সুপার অফিস থেকে তাঁকে থানায় গিয়ে নিখোঁজের ডায়েরি করতে বলা হয়। রোগীর আত্মীয়রা পুলিশে অভিযোগ জানান। এরপরও রোগী খোঁজার কোনও তৎপরতা না দেখে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান রোগীর আত্মীয়রা। অভিযোগ, সেই ফুটেজ না দেখিয়ে খারাপ ব্যবহার করে তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার এলাকার লোকজন হাসপাতালে চড়াও হলে নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ পড়ে সিসিটিভি ফুটেজের। তবে এত নিরাপত্তার কড়াকড়ি সত্ত্বেও রোগী কিভাবে উধাও হয়ে গেল তার সদুত্তর দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কয়েক দিন আগেই এই হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত চুরির ঘটনায় রাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে যায়। তখনও হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তারপরও যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হয়নি এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

হাসপাতালে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনরা বলছেন, এমনিতে রাধারানি ওয়ার্ডে মাছি গলতে দেওয়া হয় না। কলাপসিবল গেট বন্ধ করে বসে থাকেন নিরাপত্তা রক্ষীরা। দু’শোর কাছাকাছি সিসিটিভি ক্যামেরায় সব সময় নজরদারি চলছে। তারপরও রোগী উধাও হয়ে যায় কি করে! রোগী যদি নিজের ইচ্ছেতেও ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে গিয়ে থাকেন তা নিরাপত্তা রক্ষীদের নজর এড়িয়ে গেল কিভাবে! সব মিলিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

Published by:Simli Raha
First published: