corona virus btn
corona virus btn
Loading

মোবাইলে গেম খেলতেই ব্যস্ত নার্সরা ! হাসপাতালের গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

মোবাইলে গেম খেলতেই ব্যস্ত নার্সরা ! হাসপাতালের গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

৫১ বছর বয়সী কাজল কুমার পান গত শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, বর্ধমানেই রেল লাইন বেরোনোর সময় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। মাথায় এবং পায়ে সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে তাঁর।

  • Share this:

Abhijit Chanda

#বর্ধমান: বর্ধমানের পুলিনপুরের বাসিন্দা কাজল কুমার পান। ৫১ বছর বয়সী কাজলবাবু গত শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, বর্ধমানেই রেল লাইন বেরোনোর সময় ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। মাথায় এবং পায়ে সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে তাঁর। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান।সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কাজলবাবুকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়।

সেদিন রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে সদ্য তৈরি হওয়া ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হয় কাজল কুমারকে। সেখানে অস্ত্রোপচার করে তাঁর পা বাদ দেওয়া হয়। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেধে যাওয়ার জন্য তার আরও একটি অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সম্পূর্ণ জ্ঞান ছিল কাজল কুমার পানের। প্রথম কয়েকদিন চিকিৎসা ঠিকমতো হলেও, বুধবার থেকেই একপ্রকার বিনা চিকিৎসাতেই ফেলে রাখা হয়েছিল কাজলবাবুকে। ২৫  ডিসেম্বর ছুটির দিন হওয়ার ফলে সিনিয়র চিকিৎসকরা কেউই কাজলবাবুকে দেখেননি।শুধুমাত্র জুনিয়ার ডাক্তাররাই কাজল বাবুর চিকিৎসা করতেন। সেদিন থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বারবার করে নার্সদের বললেও কোনরকম দেখভাল করা হতো না। মুমূর্ষু কাজলবাবুকে একপ্রকার বিনা চিকিৎসাতেই ফেলে রাখা হয়। শনিবার রাত নটা নাগাদ কাজল কুমার পান-এর মৃত্যু হয়। আর এরপরই উত্তেজিত হয়ে ওঠে তাঁর পরিবারের লোকজন এবং চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রা। তারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সামনে।

মৃত কাজল বাবুর কন্যা বৈদেহী পানের অভিযোগ, ‘‘গত বুধবার, বড়দিনের সময় থেকেই একপ্রকার বিনা চিকিৎসাতেই বাবাকে ফেলে রাখা হয়েছিল।এমনকি তাঁর হাতে যে চ্যানেল করে ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল, সেই চ্যানেল খুলে গিয়েছিল ফলে কোনও ওষুধ বাবার শরীরে যাচ্ছিল না। দ্রুত অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। বারবার করে আমরা কর্তব্যরত নার্সদের বললেও তারা কোন কান দেননি‌। বরং কর্তব্যরত নার্সরা মোবাইলে গান শোনা বা গেম খেলাতে ব্যস্ত ছিল। এমনকি, রাত ৯টা-য় বাবার মৃত্যু হলেও আমাদের জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। বাবাকে শেষ দেখা না দেখতে দিয়ে গোপনেই বাবার দেহ মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’’

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃত কাজলবাবুর শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল, যে সমস্ত রকম চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এমনকি, নার্সদেরও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। তবে অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও কাজলবাবুর পরিবার যে অভিযোগ করেছে,তার সঙ্গে একমত অন্য অনেক রোগীর পরিবারই। দিনের পর দিন ধরে মুমূর্ষু রোগীদের একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয় বলে তাদের অভিযোগ।বারবার বলা সত্ত্বেও কেউ কর্ণপাত করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিণতি হয় মৃত্যু। আর অভিযোগ করলেই বা কি! আদৌ কি সুরাহা হয়? সেই প্রশ্নটাও তুলছেন রোগীর আত্মীয়রা।

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: December 29, 2019, 8:05 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर