দুর্গাপুজোয় পটেশ্বরীর হাত ধরেই প্রাণ ফেরে ভেঙে পড়া সাত-মহলায়

প্রথম দিন থেকেই পটে আরাধনা। আজও একই ট্র্যাডিশন। পট বদল না হলেও বারো বছর অন্তর পটের অঙ্গরাগ হয়।

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 03, 2019 05:19 PM IST
দুর্গাপুজোয় পটেশ্বরীর হাত ধরেই প্রাণ ফেরে ভেঙে পড়া সাত-মহলায়
photo: Poteshwari
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 03, 2019 05:19 PM IST

#পূর্ব বর্ধমান: পটে আঁকা দুর্গা। নাম তাই পটেশ্বরী। তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান রাজবাড়ির লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে পটে আঁকা দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ শুরু করেন পুজো। প্রথম দিন থেকেই পটে আরাধনা। আজও একই ট্র্যাডিশন। পট বদল না হলেও বারো বছর অন্তর পটের অঙ্গরাগ হয়।

শরীর-জোড়া অজস্র বলিরেখা। আগাছায় মোড়া, ইটের পাঁজরে শ্যাওলার বসত। সংস্কারের অভাবে ঝরে পড়ছে চুন, সুড়কি।  ইতি-উতি ভেঙে পড়া খিলান, ধুসর শ্বেতপাথরের মেঝেতে না-বলা রাজকাহিনী।

বর্ধমানের ৩০০ বছরেরও পুরনো রাজ হাভেলি দিনের বেলাতেও গা ছমছমে। ভিতরে অস্তিত্ব টিকিয়ে লক্ষ্মী-নারায়ণ জিউ মন্দির। কাঁচ ভাঙা ঝাড়লণ্ঠনের আবছা আলোয় ফিরে দেখা সোনালি ইতিহাস।

মা চন্ডিকাই কুলদেবী। তাই অন্য কোন প্রতিমায় পুজো হবে না। রাজপুরোহিতের বিধান মেনে নেন বর্ধমান রাজা মহাতাবচাঁদ। তাহলে কি দুর্গা পুজো হবে না?  রাজপুরোহিত বিধানের দ্বিতীয় অংশে জানান, মহারাজ চাইলে প্রতিমার বদলে পটে আঁকা দুর্গার পুজোর আয়োজন করতে পারেন।

দাঁইহাট থেকে আসেন শিল্পী।  আঁকা হয় পট। সেই পটেই দুর্গাপুজো শুরু বর্ধমান রাজবাড়িতে। পটেশ্বরীর চালচিত্রে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনী। একই পটে একটানা বারো বছর পুজো পান পটেশ্বরী। বারো বছর অন্তর হয় অঙ্গরাগ।

Loading...

এলাকায় আর কোনও পুজো হতো না। প্রজারা ভিড় করতেন রাজবড়িতেই। খিচুড়ি ভোগ খেয়ে, বিকেলে মেলা আর রাতে যাত্রা-পালাগান শুনে ভোরে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা।

আজ রাজাও নেই।  জাঁকজমকও অতীত। তবু জীর্ণ মন্দিরে আজও রীতি-নিষ্ঠা অটুট। প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু। চলে নবমী পর্যন্ত। নবমীতে কুমারীপুজো। পুজোর দিনে সস্ত্রীক আসেন রাজকুমার প্রতাপচাঁদ মহতাব। মন্দির চত্ত্বরে বসে নবরাত্রির আসর। পটেশ্বরীর হাত ধরে প্রাণ ফেরে ভেঙে পড়া সাত-মহলায়।

First published: 03:52:00 PM Sep 03, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर