৯৬ শতাংশ গোঁজ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার, পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ‘গোঁজ-অস্বস্তি’ মিটল

File Photo

পঞ্চায়েত ভোটের আগে আপাতত গোঁজ অস্বস্তি উধাও। তৃণমূলের বেশির ভাগ অনুগতই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

  • Share this:

    #কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটের আগে আপাতত গোঁজ অস্বস্তি উধাও। তৃণমূলের বেশির ভাগ অনুগতই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শাসক শিবির এই ঘটনাকে দলীয় অনুশাসন বলেই দাবি করেছেন।

    পঞ্চায়েত ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তার মধ্যে তিন স্তরে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৪ শতাংশ আসনে জয় পেলেও গোঁজ প্রার্থীরা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল শিবিরের। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে গোঁজ প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বারবার রাজ্য থেকে বার্তাও যায়। যদিও বরফ তাতে গলেনি। ফলে, তৃণমূলের মসৃণ জয়ের রাস্তায় দলের অনুগতরাই কাঁটা মতো বিঁধছিল।

    গত ২৫ তারিখ পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানই বলছে,

    রাজ্যের মোট ৮২৫টি জেলা পরিষদ আসনে তৃণমূলের তরফে মনোনয়ন জমা পড়েছিল এক হাজার। এই অতিরিক্ত ১২৫ জনের ভূমিকা নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছিল তৃণমূল নেতাদের। একই ছবি ছিল পঞ্চায়েত সমিতিতেও। মোট ৯,২১৭ টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের তরফে মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১২,৫৯০টি। ফলে, ৩ হাজার ৩৭৩ জন প্রার্থী অতিরিক্ত হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৪৮,৬৫০টি আসনের মধ্যে শাসক দলের তরফে মনোনয়ন জমা পড়েছিল ৫৮,৯৭৮ জনের। অতিরিক্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১০,৩২৮।

    একেই নির্দল প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। তারমধ্যে গোঁজ হিসাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া প্রার্থীর সংখ্যাই আরও ১৩ হাজার। এঁদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা গ্রাম-বাংলায় ফায়দা তোলার পরিকল্পনাও করেছিল। তাই প্রকাশ্যে না বললেও তৃণমূলের অন্দরের এই চোরাস্রোতকে ভাল চোখে দেখছিল না রাজ্য নেতৃত্ব। অবশেষে তাঁদের হস্তক্ষেপে ৯৬ শতাংশ গোঁজ প্রার্থীই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেন।

    ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হিসাব বলছে,

    জেলা পরিষদে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন শাসক দলের ১৩৪ অনুগত। পঞ্চায়েত সমিতির অতিরিক্ত ৩৩৭৩ জনের মধ্যে ২৪০৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একই ছবি গ্রাম পঞ্চায়েতেও। সেখানে ৭০৩৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

    রাজ্য নেতাদের কথা নিচুতলা পর্যন্ত সফল করা গেছে এটা পঞ্চায়েত ভোটের আগে বড় সাফল্য বলে মনে করছে তৃণমূল। আবার তৃণমূলের এই পদক্ষেপে বিরোধীদের স্বপ্নে আঘাত হানবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    First published: