corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে ফুটপাথবাসী থেকে ভবঘুরেদের মাছ ভাত খাওয়াচ্ছেন হাওড়ার এই মাছ বিক্রেতা !

লকডাউনে ফুটপাথবাসী থেকে ভবঘুরেদের মাছ ভাত খাওয়াচ্ছেন হাওড়ার এই মাছ বিক্রেতা !

গৌতম বাবু পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী । চ্যাটার্জীহাট বাজারে প্রতিদিন রাস্তায় বসে মাছ বিক্রি করেন তিনি।

  • Share this:

#হাওড়া: লকডাউনে সবাই যেন সামান্য খাবারটুকু খেতে পায়। অভুক্ত থাকতে যেন না হয় মানুষকে। সবাই যেন থাকে মাছে ভাতে। এই ভাবনা থেকেই মেয়েকে সঙ্গী করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন হাওড়ার এক মাছ ব্যবসায়ী। রিক্সা-ভ্যানে ভাত ডাল তরকারি সঙ্গে মাছ। অভুক্ত মানুষের মুখে ভাত মাছ তুলে দিতেই হাওড়ার বাঙাল পাড়ার বাসিন্দা গৌতম দে বেরিয়ে পড়েছেন। তাঁর কান্ড দেখে সকলে অবাক। গৌতম বাবু পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী । চ্যাটার্জীহাট বাজারে প্রতিদিন রাস্তায় বসে মাছ বিক্রি করেন । মাছ বাজারে বুড়োদা বলেই পরিচিত । এলাকায় বুড়োদা বললেই এক কথায় সবাই চেনেন তাঁকে। প্রতিদিনের মাছ বিক্রি থেকে আয়ের একশো টাকা করে জমিয়ে রাখে সে, আর সেই টাকায় প্রতিদিন এলাকার ভবঘুরেদের খাদ্য সামগ্রী তুলে দিতেন।

এখন তিনি প্রতিটি বিশেষ লকডাউনের দিন ভবঘুরেদের মাছ ভাত খাওয়াতে বেরিয়ে পড়ছেন রাস্তায় । বুড়ো বাবুর দাবি, আগে শুকনো খাওয়ার দিতাম কিন্তু লকডাউনের আগের দিন মানুষকে দেখছি অনেক অনেক বেশি বেশি মাছ কিনছেন, সবাই চাইছে লকডাউনে ঘরে বসে মাছে ভাতে থাকতে। সবাই যদি লকডাউনে মাছে ভাতে থাকতে পারে তাহলে আমাদের শহরের রডোডেনড্রনরা কেন খালি পেটে থাকবে, তারাও মাছে ভাতে থাকুক। মন বলা মাত্রাই শুরু তোড়জোড়। সঙ্গী মেয়েকে নিয়ে বাড়িতেই রান্না করে চাটার্জিহাট বাজার থেকে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রতিটি ফুটপাথবাসি থেকে ভবঘুরেরকে পাত পেরে খাওয়ালেন মেয়ে আর বাবা। মেয়ের দাবি বাবা মাছ বিক্রি করে সংসার চালায়, তার মধ্যে পড়াশোনা , হাজার কষ্ট হলেও অসহায় মানুষদের জন্য প্রতিদিন একশো টাকা করে জমিয়ে রাখে। জীবপ্রেম বাবার থেকেই শিখেছি, লোকজন সেভাবে পাওয়া যাবে না বাবার পাশে থাকার তাই বাবার ইচ্ছা ছিল আমি অন্তত তার সঙ্গে থাকি। শুধু আমি না মাও সঙ্গ দেয়। ভোর থেকে রান্না করা সবকিছুতেই মায়ের হাতের ছোয়া, আর এই সব মানুষদের জন্য যা রান্না হয় তা আমরাও খাই। মা বাড়িতে খেলেও আমরা খিদে পেলে রাস্তায় কাজ করতে করতে সবার সাথে বসেই নিজেদের পেট ভরিয়ে নেই। বুড়ো বাবুই বলেন, নিজের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম পরিবারের কাছে তারা সঙ্গে দিলেন বলেই এতগুলো মানুষের এই দুর্দিনে পেট ভরাতে পারছি ।

DEBASHISH CHAKRABORTY

Published by: Piya Banerjee
First published: July 29, 2020, 10:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर