প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে 'মঙ্গল'-র জমি উপহার, আজ নাম পৌঁছনোর দিনে একরত্তি মেয়ের নাম রাখলেন 'মার্স'

প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে 'মঙ্গল'-র জমি উপহার, আজ নাম পৌঁছনোর দিনে একরত্তি মেয়ের নাম রাখলেন 'মার্স'
ছোট্ট মেয়ে 'মার্স'কে নিয়ে সস্ত্রীক শৌনক দাস।

১৮ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক পর থেকেই মঙ্গল গ্রহে পারসেভেরান্স (মঙ্গলযান)- এর নামার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং ৭ মিনিটের রোমহর্ষক সময়ের পরেই রাত্রি ২ তো ২৫ নাগাদ মঙ্গলের মাটি ছোঁয় যানটি।

  • Share this:

#শ্রীরামপুর: শ্রীরামপুরের বাসিন্দা শৌনক দাস। গুগল গাইড হিসেবে যাঁর পরিচয় রয়েছে। সেই শৌনকের নাম যুক্ত রয়েছে মার্স মিশনের সঙ্গে। মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষ বরাবরই কৌতূহলী। লাল গ্রহ নিয়ে মানুষের আগ্রহ ফের প্রকাশ হতে চলেছে। আজই, বৃহস্পতিবার আর্টেমিস প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হবে। রোভার পারসিভের‍্যান্স গত বছর ৩০ শে জুলাই আমেরিকার কেপ ক্যানারিভাল স্পেস স্টেশন থেকে মঙ্গলে পাড়ি দেওয়ার দীর্ঘ সাড়ে ৬ মাস পরে আজ লাল মাটির গ্রহে অবতরণ করবে।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় সময় মধ্যরাতের ঠিক পর থেকেই মঙ্গল গ্রহে পারসেভেরান্স (মঙ্গলযান)- এর নামার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং ৭ মিনিটের রোমহর্ষক সময়ের পরেই রাত্রি ২ তো ২৫ নাগাদ মঙ্গলের মাটি ছোঁয় যানটি। শৌনকের নাম-সহ একটা মাইক্রো চিপ ইতিমধ্যেই নাসা'র রকেটে চেপে গত বছর মঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছে। সারা পৃথিবী থেকে বাছাই করার পর মোট ১,০৯,৩২,২৯৫ জনের নাম মাইক্রোচিপে পাঠানো হয়, সেখানেই রয়েছে শ্রীরামপুরের এই বাঙালির নাম। এই মিশনে মোট ৩টি ল্যান্ডিং সাইট চিহ্নিত করা হয়েছে। জেজেরো ক্রেটার, এনই সারটিস এবং কলম্বিয়া হিলস। রোভার মিশনে উন্নত অ্যানালাইজারের মাধ্যমে নানা তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। কী কী পাওয়া গেল তা জানা যাবে ২০২২ সালের মধ্যে। ফলে গোটা বিশ্বের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

মার্সের বোর্ডিং পাস। মার্সের বোর্ডিং পাস।

উল্লেখ্য, শৌনক এমন একজন বাঙালি, যিনি স্ত্রীকে প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে মঙ্গল গ্রহে 'এক একর' জমি উপহার দিয়েছিলেন। গতবছর আমেরিকার এক বেসরকারি সংস্থা থেকে তিনি সেই জমি কেনেন। মঙ্গলের ঠিক কোথায় তাঁর জমি রয়েছে, অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ মেপে সেই জমির যাবতীয় তত্ত্ব তালাশ সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয়। এ ছাড়া 'লুনার লু চ্যালেঞ্জ' নাম এক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে  চন্দ্রযানের শৌচালয়ের এক সম্ভাব্য নকশাও পাঠান নাসাকে। বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত শৌনক বলেন, "আমার তো দারুণ লাগছে। আমার নাম যাবে মঙ্গলে। বাঙালি হিসেবে দারুণ গর্ব  হচ্ছে আমার। বহুদিন ধরে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে আজ সেটা পূর্ণ হতে চলেছে। তাই কিছুদিন আগেই আমাদের কন্যা জন্মগ্রহন করার পরে উত্তেজনার বশে আমরা ঠিক করি তাকে মার্স নামে ডাকব।"

লাল গ্রহে প্রাণের সন্ধান করবে পারসিভের‍্যান্স। কিছু পাথর ও মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানোর কথা তার। আগামী কয়েক ঘন্টা পর মঙ্গল গ্রহে কী হতে চলেছে তার দিকেই তাকিয়ে সমগ্র বিশ্ববাসী। ছোট্ট মার্সের বাসযোগ্য ভূমি কী হবে মঙ্গল? সেদিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শৌনক ও তাঁর ছোট্ট পরিবারও।

ABIR GHOSHAL

Published by:Shubhagata Dey
First published:

লেটেস্ট খবর