অসুস্থ স্ত্রীর দেখভালে ক্লান্ত, কীটনাশক দিলেন বৃ্দ্ধ, খেলেন নিজেও

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jun 27, 2019 08:24 PM IST
অসুস্থ স্ত্রীর দেখভালে ক্লান্ত, কীটনাশক দিলেন বৃ্দ্ধ, খেলেন নিজেও
photo: Representational Image
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jun 27, 2019 08:24 PM IST

#হাদিপুর: শয্যাশায়ী স্ত্রীর দেখভালে ক্লান্ত বৃদ্ধ। স্ত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে, নিজেও আত্মঘাতীর চেষ্টা করলেন। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা হাদিপুর চুবড়িঝাড়া গ্রামে। এদিন বিকালে মায়া পাল (৬৫)বৃদ্ধা মারা যান। স্বামী সুনীল পাল (৭৫)এখনও বারাসত জেলা হাসপাতালে মৃত্যূর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধার বড় ছেলে নিজের বাড়ি ছেড়ে বেশ কিছুটা দূরে অন্যত্র বাড়ি করে থাকেন ও ছোট ছেলে কর্মসুত্রে গুজরাটের বাসিন্দা। বৃদ্ধ বাবা মা একাই থাকতেন বাগান ঘেরা মাটির বাড়িতে।

এলাকাবাসীর দাবি, বৃদ্ধর স্ত্রী মায়া পাল বহুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী। স্বামী বৃদ্ধ বয়সে স্থানীয় কারখানায় কাঠ কাটার কাজ করে দুজনের অন্ন জোগার করতেন। প্রতিদিন রান্না সেরে স্ত্রীকে স্নান, খাওয়ানোর কাজ নিজের হাতে সেরে তবে কাজে যেতেন।

বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন, মাটির ঘরে মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছেন বৃদ্ধ দম্পতি। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া বারাসত জেলা হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় মায়া পালের। মৃত মায়া পালের দাদা সুধীর পাল জানান, বোন দীর্ঘদিন নার্ভের সমস্যায় ভুগছিলেন। বিছানায় পড়ে ছিলেন৷ জামাইবাবুই দেখাশোনা করতেন। নিজে এই বয়সে কাঠ কাটার কাজ করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে দুজনের পেট চলত। দুই ভাগ্নেকে বহুবার অনুরোধ করার পরেও বৃদ্ধ বয়সে বাবা মাকে নিয়ে যেতে চাননি বলেও জানান সুধীর৷

প্রতিবেশীরা অন্যদিকে জানায়, বৃদ্ধ সুনীল লটারীতে বেশ কয়েক হাজার টাকা পান। সেই টাকা দাবি করেছিল ছেলেরা। তা না দেওয়ায় কেউ খোঁজ খবর রাখত না। বৃদ্ধ বৃদ্ধা একাই থাকতেন।যদিও বৃদ্ধের মেজ মেয়ে আরতি পাল বলেন, বাবা মাকে বড় ছেলের বাড়িতে থাকার জন্য বহুবার বললেও বাবা তার পুরানো বাড়ি ছেড়ে যেতে চাননি। তার দাবি , বাবা হয়তো কোনও দুঃখ পেয়েছিলেন যা বলতে পারেনি। অবশেষে নিজেই নিজেদের শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

First published: 08:24:24 PM Jun 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर