corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ দিলেই ছাড়া পাবে সন্তান-সহ মা ! বিপাকে পরিবার

ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ দিলেই ছাড়া পাবে সন্তান-সহ মা ! বিপাকে পরিবার

আধার কার্ড নেই ৷ ভয়তে সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালাল মা। অবশেষে উদ্ধার মা ও শিশু।

  • Share this:

Shanku Santra

#কলকাতা: আধার কার্ড নেই ৷ ভয়তে সদ্যোজাত শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালাল মা। অবশেষে উদ্ধার মা ও শিশু। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হাবড়া হাসপাতালে। ঘটনার জেরে শোকজ একাধিক হাসপাতালের স্টাফ । ঘটনাটি ঘটে হাবড়া হাসপাতালে ।

হাসপাতাল সুপার শঙ্করলাল ঘোষ জানান গত ২৩ তারিখ এক গৃহবধু প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাবড়া হাসপাতালে আসে । সাথে সাথে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়। এবং রাতেই একটি পুত্র সন্তানের জন্মদেন মানসি সিং নামে ওই গৃহবধু । ২৫ তারিখ ওয়ার্ডের ভেতরে অন্যান্য রোগীদের ছুটি দেওয়ার সময় আধার কার্ড দেখা হচ্ছিল এবং পাশাপাশি এক কপি জেরক্স কপি জমা নেওয়া হচ্ছিল। এই দেখে ভয় পেয়ে যান মানসি।

নিজের ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড কিছুই নেই তাই ভয় পেয়ে যান ৷ যদি ছুটি না দেয় হাসপাতাল! কারন তাঁর আরও দুটি সন্তান রয়েছে বাড়িতে ।তাই নিজে নিজে শিশুকে কোলে নিয়ে পালিয়ে যায়। খেটে খাওয়া দিনমজুরের পরিবার, আধার কার্ড নিয়ে কোওনদিন চিন্তা ভাবনা করেননি। কারণ কাজের তাগিদে কখনও কলকাতা ,কখনও হাবরা ,কখনও বা রাজ্যের বাইরে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করে স্বামী স্ত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে এনআরসির চক্করে মানসী যে, ভীত ছিল সেটা ওর কথায় প্রকাশ পেয়েছে। সেই কারণেই কোনও কিছু না বলে লুকিয়ে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল এই সদ্য প্রসব মা। বক্তব্য অনুযায়ী বাপের বাড়ি- বিড়া ইছাপুর এলাকায় এবং শ্বশুর বাড়ি দত্তপুকুর এলাকায়। স্বামী এবং স্ত্রী দু’জনের কাজের সুবিধার জন্য হাবড়া জয়গাছি ৩১ নম্বর রেল গেটের কাছে ধানের চাতালে থাকতেন।

হাবড়া হাসপাতালে সুপার জানান শিশু চুরি এবং একাধিক অনৈতিক কাজ ঠেকানোর জন্য আধার কার্ড জমা রাখা শুরু হয়েছে। অন্য রোগীর কার্ড জমা নেওয়া দেখে ভয় পেয়ে যায় মানসি। তাই সে পালিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে। এই ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সিস্টার নার্স-সহ গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীদের শো-কজ করা হয়েছে বলে জানান। এক টোটো চালকের তৎপরতায় অবশেষে শিশু এবং তার মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান রোগী ভর্তি হওয়ার সময়, যে ঠিকানা দিয়েছিল তা ভুল । তবে কি কারনে ভুল ঠিকানা দিয়েছিল তদন্ত করে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এখনও পর্যন্ত মা ও সন্তান হাসপাতালের হেফাজতেই রয়েছে। তবে হাসপাতাল সুপারের বক্তব্য কোনওভাবে,পঞ্চায়েত কিংবা কাউন্সিলরের কাছ থেকে শংসাপত্র নিয়ে এলেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে। মানসীর আতঙ্ক যেহেতু ওর কাছে কোন আধার কার্ড নেই, তাহলে প্রশাসন যদি ওকে ধরে নিয়ে গিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখে ,তাহলে বাড়িতে থাকা দুটি ছোট্ট ছোট্ট ছেলেকে কে দেখবে? মানসীর মধ্যে কোনও অপরাধ বোধ কাজ করেনি বরং ভয় কাজ করেছে। এই ধারণা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: December 27, 2019, 8:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर