সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, প্রথা ভেঙে সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করলেন দম্পতি

সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, প্রথা ভেঙে সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করলেন দম্পতি
যাঁরা রক্ত দিয়েছেন তাঁরাও ফেরেননি খালি হাতে, ছোট্ট অভ্রদীপের হাত থেকে নিয়ে যান একটি করে গাছের চারা |

যাঁরা রক্ত দিয়েছেন তাঁরাও ফেরেননি খালি হাতে, ছোট্ট অভ্রদীপের হাত থেকে নিয়ে যান একটি করে গাছের চারা |

  • Share this:

Debasish Chakraborty

#উলুবেড়িয়া: সন্তানের অন্নপ্রাশন মানেই প্রথম ভাতের সঙ্গে সন্তানকে পেন, খাতা বা কত কিই না সন্তানের সামনে রেখে দেওয়া, সন্তান যেটাতেই হাত দেবে বড় হয়েই নাকি তাই হবে সেই সন্তান | এতদিন এটাই চলে এসেছে বাংলার ঘরে ঘরে | এতদিন কোনও পিতা মাতাই চাইনি সন্তান বড় হয়ে সমাজ সেবামূলক কাজ করুক | আর এই সংস্কারের আগল ভাঙলেন উলুবেড়িয়ার গদাইপুরের দম্পতি | নিজেদের সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানকে মানবিক মানুষ বানানোর প্রতিজ্ঞাও নিলেন ।

গদাইপুরের অর্পণ ও সুপ্রীতির একমাত্র সন্তান অভ্রদীপের অন্নপ্রাশন ছিল  বুধবার। দম্পতি ঠিক করেন রক্তদান শিবির করবেন ছেলের অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে। নিমন্ত্রিতদের কাছেও আবেদন ছিল সন্তানকে উপহার নয়, সম্ভব হলে পরিবারের একজন রক্তদান করবেন | উলুবেড়িয়ার প্রত্যন্ত এক গ্রামের দম্পতির সিদ্ধান্তে সামিল হন পরিবারের নিমন্ত্রিতরা।


এর আগে প্রিয়জনের স্মৃতিতে, বিবাহবার্ষিকী স্মরণ করে রাখতে, জন্মদিনে রক্তদান শিবির দেখেছেন‌ রাজ্যবাসী। কিন্তু, সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান অভিনব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক নজির হয়ে রইল | কী করে সম্ভব হল এমন উদ্যোগ গ্রহণ? অর্পণ সামন্ত জানান, আমার সন্তানের অন্নপ্রাশন নিয়ে ভাবছিলাম। লকডাউনের সময় থেকেই রক্তের তীব্র সংকট। সুপ্রীতির  দাদা শুভদীপ সাহু অর্থাৎ ছোট্ট অভ্রদীপের মামা, যাঁর দায়িত্ব ছিল অভ্রদীপকে জীবনের প্রথম অন্ন মুখে তুলে দেওয়ার, সেই মানুষটিই  প্রস্তাব দেন রক্তদান শিবির করে অভ্রদীপের অন্নপ্রাশনকে এক আঙ্গিকে সমাজের কাছে তুলে ধরার |  সারাজীবনের জন্য যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সম্মত হই।

শুভদীপ সাহু নিজের ভাগ্নার অন্নপ্রাশন উপলক্ষে রক্তদানের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার ভাগ্নের অন্নপ্রাশন রক্তদানের মত পূন্য একটি কাজে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এর চাইতে বড় প্রাপ্তি কিছু হতে পারে না। সচেতনতার বোধ তৈরি হোক অঙ্কুরেই। এটাই আমাদের পরিবার চায়। এ দিন ৩৪ জন রক্তদান করেন। রক্তদাতাদের ও অভ্রদীপের পরিবারের সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে রক্তদানের ব্যবস্থাপনায় থাকায় ব্লাড ডোনার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন শতাব্দী বেরা জানালেন, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার নজির তৈরি করলেন ছোট্ট অভ্রদীপের পরিবার।

প্রচলিত কুসংস্কারের আগল ভেঙে উলুবেড়িয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের দম্পতি যে ভাবে নিজের সন্তানের অন্নপ্রাশনকে সামাজিক আন্দোলনের অংশ করলেন তা দৃষ্টান্ত।  একই ভাবে গোটা পরিবারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান রক্ত সংগ্রহকারী চিকিৎসকেরা | আর যাঁরা রক্ত দিয়েছেন তাঁরাও ফেরেননি খালি হাতে, ছোট্ট অভ্রদীপের হাত থেকে নিয়ে যান একটি করে গাছের চারা |

Published by:Simli Raha
First published: