দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ফলন্ত ধানের ভেতর চাল গায়েব! মোটা টাকা খরচে চাষের পর মাথায় হাত কৃষকদের

ফলন্ত ধানের ভেতর চাল গায়েব! মোটা টাকা খরচে চাষের পর মাথায় হাত কৃষকদের

এক একটি জমির নব্বই শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। ধানের গাছ ভাল, ধানের শিষ ভাল ছিল। কিন্তু ধানের মধ্যে কোন চাল জন্ম নেয়নি।

  • Share this:

#বর্ধমান: ধান আছে, অথচ তার ভেতরে চাল নেই। হাজার হাজার টাকা দেনা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান চাষ করেছিলেন কৃষকরা। আবহাওয়াও ছিল অনুকূলেই৷ ভাল ফলনের হাত ধরে কিছুটা মুনাফার মুখ দেখা যাবে এমনটাই আশা করেছিলেন তারা৷ ভাল শিষ এলেও তার ভেতরে চল না হওয়ায় মাথায় হাত পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের কৃষকদের।

পূর্ব বর্ধমান জেলাকে রাজ্যের শস্য ভান্ডার বলা হয়। গোটা দেশের ব্যাপক ধান উৎপাদক জেলা গুলির মধ্যে অন্যতম এই জেলা। করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ বাসিন্দা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। মন দিয়ে যত্ন নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন অনেকেই। প্রথম থেকে আবহাওয়া ভাল হওয়ার জন্য ধানগাছ ভালই হয়েছিল। চাষিরা আশা করেছিলেন এ বছর হয়তো ফলন ভাল হবে। কিন্তু গাছ পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ধান পাকতে শুরু করার পর দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ শিষে ধান নেই। ভেতরে চাল না থাকায় ধান আখরায় পরিণত হয়েছে।

এক একটি জমির নব্বই শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। ধানের গাছ ভাল, ধানের শিষ ভাল ছিল। কিন্তু ধানের মধ্যে কোন চাল জন্ম নেয়নি। এর ফলে মাথায় হাত ভাতার ব্লকের কৃষকদের।

ভাতারের অনেক বাসিন্দাই করোনা পরিস্থিতিতে ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। সেই সব পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে চাষে মন দিয়েছিলেন। মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋন নিয়ে চাষ করেছিলেন অনেকেই। খরচ মিটিয়ে সারা বছরের প্রয়োজনের চালটুকু মিলবে এমনটাই আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ধান না হওয়ায় এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তাদের অনেকেই। অভিজ্ঞ কৃষকরা বলছেন, বীজের গোলমালের জন্যই এই অবস্থা বলেই মনে করা হচ্ছে। চড়া দাম দিয়েই উচ্চ ফলনশীল জাতের এই বীজ কিনে চাষ করা হয়েছিল। সেই বীজ যারাই ফেলেছিলেন তাদেরই এবার পথে বসতে হয়েছে৷ বিষয়টি কৃষি দফতরের স্থানীয় আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। এজন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। কৃষি দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন কয়েকটি জায়গায় এবার এই রকম অভিযোগ এসেছে৷ সেইসব কৃষকরা কোন জাতের ধানের বীজ চাষ করেছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ভাতারের বাসিন্দা ভুবনেশ্বর গড়াই জানান, গুজরাটে কাজ করতাম। লকডাউনে বাড়ি চলে এসেছি। পারিবারিক জমিতে চাষ করেছিলাম। প্রায় দশ বিঘা জমির বেশিরভাগেরই ধান সাদা হয়ে গেছে।এই ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে ভেবে উঠতে পারছি না।

Published by: Pooja Basu
First published: November 9, 2020, 4:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर