বর্ধমানের কার্জনগেটে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে মিটিং সমাবেশ !

বর্ধমানের কার্জনগেটে চিরতরে বন্ধ হচ্ছে মিটিং সমাবেশ !

যানজট ও সাধারন মানুষের হয়রানি থেকে মুক্তি দিতেই এমন ভাবনা প্রশাসনের

  • Share this:

#বর্ধমান: বর্ধমানের কার্জনগেট চত্ত্বরে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ বন্ধ করতে উদ্যোগী প্রশাসন। যানজট ও সাধারন মানুষের হয়রানি থেকে মুক্তি দিতেই এমন ভাবনা প্রশাসনের। যদিও প্রশাসনের এই উদ্যোগে সহমতে পৌঁছতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলি। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেব বলছে শাসক দল তৃণমূল। অন্যরা জনবহুল এলাকায় সভা করার সুযোগ ছাড়তে নারাজ। বর্ধমানে শহরের হৃৎপিন্ড কার্জন গেট চত্ত্বর। জমজমাট বাজার থেকে প্রশাসনিক অফিস সবই কার্জনগেটের নাগালের মধ্যে। এই গেটের গায়েই বর্ধমানের গড়িয়াহাট হিসেবে পরিচিত বি সি রোড, কিছু দূরেই রানিগঞ্জ বাজার। অপর দিকে জেলা শাসক, জেলা পুলিশ অফিস, জেলা পরিষদ ভবন থেকে আদালত সবই। বাসিন্দাদের যে কোনও প্রয়োজনে কার্জন গেট আসতেই হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে এই এলাকা। তাই রাজনৈতিক দলগুলি সভা সমাবেশ করার জন্য ব্যস্ততম এবং জনবহুল এই এলাকাকেই বেছে নেয়। সেই সব সভার জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জিটিরোড। যানজট ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে। নাকালের একশেষ হন পথ চলতি মানুষ। সেই দুর্ভোগ কমাতেই জেলা পুলিশ প্রশাসন কার্জনগেট চত্ত্বরকে সভা সমাবেশ মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষনা করতে উদ্যোগী হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, গত এক দশকে যান বাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বেড়েছে লোকসংখ্যাও। আগের মতো চাপ আর নিতে পারছে না এই এলাকা। কার্জনগেটে চত্বরেই গড়ে উঠেছে পার্কিং প্লেস। সভা হলে সেখানে ঢোকা বেরনোর পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সভার জেরে স্কুল পড়ুয়াদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। সব দিক বিবেচনা করেই এই পরিকল্পনা। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠকও করেছে প্রশাসন।

সিপিএমের বক্তব্য, স্বাধীনতার আগে থেকে কার্জনগেটে সভা হয়ে আসছে। মানুষের অসুবিধা না করেই সেই সভা হবে। প্রয়োজনে কার্জন গেট লাগোয়া নেতাজি মূর্তির কাছে সভার অনুমতি দেওয়া হোক। নির্জন এলাকায় সভা করতে নারাজ তারা। একই বক্তব্য কংগ্রেস, বিজেপির। জনবহুল এলাকা হাতছাড়া করতে তারা নারাজ। বিজেপি নেতারা বলছেন, মানুষের পাশে থেকে মানুষের সঙ্গেই আমরা আন্দোলন করি। তাই তাদের বাদ দিয়ে আন্দোলন সম্ভব নয়।কার্জনগেটে সভার ইতিহাস টেনেও প্রশাসনের সঙ্গে থাকছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, আগে সভা সমাবেশ প্রচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল। এখন উন্নত প্রযুক্তির জেরে অনেক উপায় বেরিয়েছে। সোসাল মিডিয়া রয়েছে। তাছাড়া কার্জনগেট ছাড়াও অনেক জনবহুল এলাকা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা গেল তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।

Saradindu Ghosh
First published: February 28, 2020, 4:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर