অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে চারশো বছর আগে লেখা চন্ডীমঙ্গলের পান্ডুলিপি

অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে চারশো বছর আগে লেখা চন্ডীমঙ্গলের পান্ডুলিপি

জমিদারের অনুপ্রেরণায় তিনি বিখ্যাত অভয়ামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এই কাব্য চন্ডীমঙ্গল বা কবিকঙ্কন চন্ডী নামে অধিক পরিচিত। ১৫৮৪ সাল থেকে ১৫৯৪ সালের মধ্যে তিনি এই কাব্য রচনা করেছিলেন।

  • Share this:

SARADINDU GHOSH #দামিন্যা: লাল শালুতে মোড়া ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। চারশো বছর আগে লেখা পান্ডুলিপি। মঙ্গলকাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চন্ডীমঙ্গলের পান্ডুলিপি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে।​

ষোড়শ শতকের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর জন্ম পূর্ব বর্ধমান জেলার দামিন্যা গ্রামে। আনুমানিক ১৫৪০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি ধর্ম পূজার্চ্চনায় নিয়োজিত ছিলেন। নিয়মিত বাড়ি লাগোয়া মন্দিরে দেবী সিংহবাহিনীর পুজো করতেন তিনি। সে সময় বাংলায় ডিহিদার মামুদ সরিফের শাসন চলছিল। সেই শাসকের চরম অত্যাচারের জেরে যুবক বয়সে তিনি গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অবশেষে মেদিনীপুরের জমিদার বাঁকুড়া রায়ের আশ্রয় লাভ করেন। জমিদার পুত্র রঘুনাথ রায়ের শিক্ষক নিযুক্ত হন তিনি। তাঁর জ্ঞান ও ভক্তি মুগ্ধ করেছিল জমিদারকে।

জমিদারের অনুপ্রেরণায় তিনি বিখ্যাত অভয়ামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এই কাব্য চন্ডীমঙ্গল বা কবিকঙ্কন চন্ডী নামে অধিক পরিচিত। ১৫৮৪ সাল থেকে ১৫৯৪ সালের মধ্যে তিনি এই কাব্য রচনা করেছিলেন। তাঁর কাব্য তত্কালীন কাব্যধারার প্রথা মেনে লেখা হলেও নিজস্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। কাহিনী বিন্যাস, চরিত্র গঠন ও সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের অসাধারণ বিবরণ তাঁর রচনাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।

তেরিজ পাতায় লেখা সেই কাব্যের মূল পান্ডুলিপি এখন রয়েছে দামিন্যা গ্রামে তাঁর বর্তমান বংশধরদের কাছে। চারশো বছরেরও আগে লেখা সেই পুঁথির সঠিকভাবে সংরক্ষন না হওয়ায় বর্তমানে তাতে পচন ধরেছে। বংশধররা চান অতীতের এই অমূল্য সম্পদের বি়জ্ঞানসম্মতভাবে সংরক্ষন হোক।

অনন্য কাব্যপ্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ কবিকঙ্কন উপাধি পেয়েছিলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। বর্ধমান রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। বর্ধমানের মহারাজা তাঁকে নিষ্কর কুড়ি বিঘে জমি দান করেন। সেই জমিতেই গড়ে উঠেছে কবিকঙ্কন সংগ্রহশালা। সেখানের গ্রন্থাগারে মঙ্গলকাব্যের বিভিন্ন বই রাখা হয়েছে। তৈরি হয়েছে কবিকঙ্কন মুক্তমঞ্চ। প্রতি বছর কবিকঙ্কন মেলা হয় তাঁর জন্মভিটেতে। কালের নিয়মে চিরতরে বিলীন হওয়ার আগে এই মহামূল্যবান পান্ডুলিপি সরকারি উদ্যোগে যথাযথ সংরক্ষণ হোক, চাইছেন ইতিহাসবিদরা।

First published: December 18, 2019, 4:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर