corona virus btn
corona virus btn
Loading

নেই বিদ্যুৎ, তাই নেই রেশনও ! প্রবল সমস্যায় নামখানার বাসিন্দারা

নেই বিদ্যুৎ, তাই নেই রেশনও ! প্রবল সমস্যায় নামখানার বাসিন্দারা

আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে গিয়েছে। কোনও ভাবেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি এখনও।

  • Share this:

#কলকাতা: বিদ্যুৎ নেই সমস্যায় পড়েছেন এবার রেশন গ্রাহকরা। সমস্যায় পড়েছেন রেশন ডিলাররাও। এখন বিভিন্ন রেশন দোকানে জিনিসপত্র ওজন করা হয় ইলেকট্রনিক দাঁড়িপাল্লায়। ফলে কোনও জিনিস ওজন করা যাচ্ছে না। রেশন পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে গিয়েছে। কোনও ভাবেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি এখনও।

এই পরিস্থিতিতে ভরসা একমাত্র জেনারেটর, কিন্তু রেশন দোকানে জেনারেটর চালানোর মতো অবস্থা নেই একেবারেই। ফলে হাতে ব্যাগ নিয়ে রেশন দোকানের সামনে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রাহকরা। কিন্তু হাত তুলে দিচ্ছেন ডিলাররা। নামখানা এলাকার একাধিক রেশন দোকানের অবস্থা এখন এরকমই। নামখানার বাসিন্দা সন্ধ্যা মাইতি। বাড়িতে একাই থাকেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছে ঘরের চাল। দেওয়াল হেলে পড়েছে। শুধু প্রয়োজনীয় নথি নিয়েই পালিয়ে এসেছিলেন কাছের স্কুল বাড়িতে। সেখানেই তিনদিন ধরে আশ্রয় নিয়েছেলিনে তিনি। আকাশ পরিষ্কার থাকায় নিজের ঘরে ফেরত এসেছেন। পেট চালাবেন বলে এসেছিলেন রেশন দোকানে। কিন্তু সেখান থেকে হতাশ হয়েই ফিরতে হল তাকে।

সন্ধ্যাদেবী জানিয়েছেন, "সরকারি ত্রাণ এখনও হাতে পাইনি। ভিড়ের কারণে রেশন দোকানে আগে আসতে পারিনি। ঝড় মিটতে খাবার নিতে এলাম বটে। কিন্তু সেই খাবার পেলাম না।" একই অভিযোগ রুপা সমাদ্দারের। নামখানার এই বাসিন্দার বাড়ি বুলবুলেও উড়ে গিয়েছিল। এবার উড়ে গেল আমফানে। এসেছিলেন রেশন দোকানে ডাল আর আটা নিতে। সেই ওজনের সমস্যা। তাই খাদ্য সামগ্রী না নিয়েই ফেরত যেতে হল তাকেও। এদিন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অংশ থেকে এই অভিযোগ এসেছে। যেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় রেশন দিতে পারা যায়নি গ্রাহকদের। রেশন ডিলার যারা আছেন তারা অবশ্য বলেছেন তারা এই ব্যপারে অপারগ। এক রেশন ডিলার গোপা মিদ্দ্যা জানাচ্ছেন, "কোন গ্রাহক কত পরিমাণ কি কি খাবার পাবেন তা ওজন করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ওজন আলাদা হলে বা কম বেশি হলে আমাদের সমস্যা বাড়বে।

সমস্যার অভিযোগ মানতে রাজি নয় খাদ্য দফতর। এদিন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, " হাসনাবাদ থেকে নামখানা পর্যন্ত একাধিক জায়গায় এই সমস্যা হয়েছে। রেশন দিতে অনেক ডিলার চাইছেন না সেটাও শুনেছি।  যারা ইলেকট্রনিক দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করেন তারা এই সময় সাধারণ দাঁড়িপাল্লা না হয় ব্যবহার করুক। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমি দফতরকে বিষয়ে দেখতে বলেছি।" মন্ত্রী জানালেও নিজেদের সিদ্ধান্তে এখনও অনড় রেশন ডিলাররা।ফলে আমফান মিটলেও তার জেরে ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

আবীর ঘোষাল

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: May 25, 2020, 5:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर