২৫ ডিসেম্বরের আগেই বড়দিন এল অনাথাশ্রমে, সঙ্গে এল উপহার-কম্বল-খাবারও

২৫ ডিসেম্বরের আগেই বড়দিন এল অনাথাশ্রমে, সঙ্গে এল উপহার-কম্বল-খাবারও
  • Share this:

SUJIT BHOWMIK

#মহিষাদল: কারোর মা আছে, বাবা নেই। কারোর আবার বাবা আছেন, মা নেই। অনেকের আবার মা বা কেউই নেই। এহেন খুদেদের প্রত্যেকের বাড়িতে কিন্তু অভাব আছে। এইসব অভাবী সংসারের একদল বালক আর কিশোররাই বসবাস করে পূর্ব মেদিনীপুরের এক্তারপুরের গান্ধি কুটির লাগোয়া অনাথ আশ্রম শিশু সদনে। যাদের সারা বছরই কাটে দুঃখ, কষ্ট আর দৈনতাকে সঙ্গী করে, সেইসব শিশুদেরই বড়দিনের উৎসবের আগাম আনন্দ দিতে আজ বৃহস্পতিবার উপহার হিসেবে একরাশ খুশি বয়ে এনেছিলেন হলদিয়ার এক সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। অনাথ আশ্রমের খুদেদের প্রত্যেকের গায়ে রঙিন পোশাক, মাথায় লাল টুপি পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে নানা উপহার সামগ্রীও তুলে দেন তাঁরা। সঙ্গে গান্ধি কুটিরের পাশে বসে সকলের ভরপেট খাওয়া দাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যা রীতিমতো খুশি করেছে এই অনাথ আশ্রমের আবাসিকদের।

দেশ তখনও পরাধীন, সেরকমই এক সময়ে মহিষাদলের এক্তারপুরে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে গোপনে মিটিং করার জন্য একাধিকবার এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধি। প্রথম এসেছিলেন ১৯৪৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, এই জায়গায় গড়ে ওঠে গান্ধি কুটির। পরবর্তী সময়ে যে কুটিরের পাশেই গড়ে উঠেছে শিশুসদন আশ্রম। যেখানে অসহায় শিশু কিশোররাই আবাসিক হিসেবে থাকে। কষ্টের মধ্যেই যাদের দিন গুজরান হয়, সেই খুদে আবাসিকদের কাছে বড়দিনের উৎসব সেভাবে ধরা দেয়না। এবার সেই বড়দিনের আনন্দই একটু আগেভাগেই ধরা দিল হলদিয়ার এক সেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যদের হাত ধরে। আর ডিসেম্বর মানেই পিকনিকের মজা। সঙ্গে বড়দিনের উপহার পেলে তো মজাটাই হয়ে যায় আলাদা। বৃহস্পতিবার এমনি মজায় মাতলো মহিষাদলের এক্তারপুরে গান্ধি কুটিরের শিশু সদনের আবাসিক পড়ুয়ারা। এদিন হলদিয়ার একটি সেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে এল আবাসিক পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে। সকাল থেকে গান, আবৃত্তি, কুইজের পাশাপশি মহিষাদল শিশু সদনের ৩০ জন আবাসিক পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হল খাতা, পেনসিল, রাবার, চকোলেট, সঙ্গে বড়দিনের টুপি। বড়দিনের কেক কাটার পাশাপাশি নানা পদের সুস্বাদু খাবার দিয়ে পিকনিকের মজা দেওয়া। প্রত্যেকের হাতে একটি করে কম্বলও তুলে দেওয়া হয়। গান, আবৃত্তি, কুইজের পর খাওয়াদার পর শিশু সদনের সামনের মাঠে ফুটবল খেলায় মজে যায় পড়ুয়ারা ৷ সঙ্গে যোগ দেন আগত সেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও। তাদের খেলার জন্য দু’টি ফুটবলও তুলে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের হাতে। বড়দিনের আগে পিকনিক ও নানা উপহার পেয়ে খুশি মহিষাদল শিশু সদনের আবাসিক পড়ুয়ারা। বড় দিনের আগে পড়ুয়াদের পাশে এভাবে থাকতে পেরে খুশি সেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

First published: 09:51:02 PM Dec 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर