বর্ধমানের নার্সিংহোম থেকে সদ্যজাত শিশু পাচার চক্রের জাল ছড়িয়ে নদীয়া, বীরভূমেও!

বর্ধমানের নার্সিংহোম থেকে সদ্যজাত শিশু পাচার চক্রের জাল ছড়িয়ে নদীয়া, বীরভূমেও!

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে সন্দেহের তালিকায় নদীয়ার এক হাতুড়ে ডাক্তারের নাম পাওয়া গিয়েছে। ওই ডাক্তার গর্ভবতী অবিবাহিত মহিলাদের ওই নার্সিংহোমে পাঠাত বলে অভিযোগ।

  • Share this:

SARADINDU GHOSH

#বর্ধমান: বর্ধমানের নার্সিংহোম থেকে সদ্যজাত শিশু পাচার চক্রের জাল ছড়িয়ে নদীয়া, বীরভূমেও! ধৃতদের জেরা করে সেই ধারনাই নিশ্চিত হচ্ছে পুলিশের। শিশুকন্যা পাচার কান্ডের তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই নার্সিংহোমের এক কর্মী ও কাটোয়ার পানুহাটের দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাটোয়া থানার তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা বর্ধমানের ভাঙাকুটি এলাকার জিটি রোড লাগোয়া লাইফ লাইন নার্সিংহোমে গিয়ে প্রতিটি কর্মী, আয়া ও নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এই না‍র্সিংহোম থেকেই মোটা টাকায় সদ্যজাত শিশুকন্যাকে পাচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে সন্দেহের তালিকায় নদীয়ার এক হাতুড়ে ডাক্তারের নাম পাওয়া গিয়েছে। ওই ডাক্তার গর্ভবতী অবিবাহিত মহিলাদের ওই নার্সিংহোমে পাঠাত বলে অভিযোগ। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত শৈলেন রায় নামে ধৃত কর্মী। এছাড়াও বীরভূম জেলা থেকেও দালাল মারফত রোগী আসত এই নার্সিংহোমে। কখনও অবিবাহিত মহিলার সন্তান, আবার কখনও মহিলাকে মৃত সন্তান দেখিয়ে সুস্থ সন্তান পাচার করা হত বলে মনে করা হচ্ছে।

এই নার্সিংহোম থেকে কতগুলি সদ্যজাত এভাবে কোথায় কোথায় পাচার করা হয়েছে তা সবার আগে জানতে চাইছে পুলিশ। এই ব্যাপারে নার্সিংহোমের মালিক তথা ডাক্তার মোল্লা কাশেম আলি সবই জানতেন বলে ধৃত ও আটক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

কাটোয়ায় শিশুকন্যা পাচারের ঘটনায় দম্পতিকে দেওয়া নথিতে ডাক্তার মোল্লা কাশেম আলির সই রয়েছে। মহিলাকে গর্ভবতী সাজিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি রেখে শিশুকন্যা দেওয়ার ঘটনা ওই ডাক্তারের নির্দেশেই হয়েছে বলে ধৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পলাতক ওই চিকিত্সকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে উধাও নার্সিংহোমের ম্যানেজারও। অভিযুক্ত ডাক্তার মোল্লা কাশেম আলি অন্য রাজ্যে গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

ওই চিকিত্সকের ডিগ্রি যথাযথ কিনা, নার্সিংহোমের লাইসেন্স সহ নথিপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আলাদাভাবে ঘটনার তদন্ত করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরও।​

First published: December 16, 2019, 2:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर