দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভোটবাজারে পাখির চোখ নেতাই|| স্মৃতিরক্ষা কমিটি চায় অরাজনৈতিক শহিদ স্মরণ

ভোটবাজারে পাখির চোখ নেতাই|| স্মৃতিরক্ষা কমিটি চায় অরাজনৈতিক শহিদ স্মরণ
নেতাইয়ের সেই শহিদবেদী।

গ্রামবাসীদের তৈরি নেতাই স্মৃতি রক্ষা কমিটি জানিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়। শহিদ স্মরণ তাঁরা করবেন নিজেদের মতো করেই।

  • Share this:

#নেতাই: ভোটবাজারে ফের নজরে নেতাই। শহিদ স্মরণে নেতাই আন্দোলনের ১০ বছরের অনুষ্ঠান ঘিরে জমজমাট বঙ্গ রাজনীতি। নেতাই নিয়ে জমি ছাড়তে রাজি নয় শাসক দল তৃণমুল কংগ্রেস। অন্য দিকে দলীয় কর্মসূচি নয়, অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নেতাই নিয়ে প্রতি বারের মতো এবারও শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান করবেন অধুনা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে গ্রামবাসীদের তৈরি নেতাই স্মৃতি রক্ষা কমিটি জানিয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়। শহিদ স্মরণ তাঁরা করবেন নিজেদের মতো করেই।

নন্দীগ্রাম, নেতাইয়ে শহিদ স্মরণে যে সব তৃণমুল কংগ্রেস নেতা হাজির থাকবেন তাঁদের আগেভাগেই অতিথি বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৭ তারিখ নন্দীগ্রাম ও নেতাইয়ে শহীদ স্মরণে হাজির থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে এই দুই জায়গায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের। ফলে রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠেছে।

শুভেন্দু অধিকারী দিন কয়েক আগেই কটাক্ষের সুরে বলেছেন, "শহিদ বেদীগুলো আমার বানানো। আমি প্রতি বছর শ্রদ্ধা জানাতে যাই। কোনওবার তো আসত না। শুনে ভালো লাগল এবার আসছে। আমি আমার ছেলেদের বলেছি, বেদী জল দিয়ে পরিষ্কার করে, ধুয়ে রাখতে। সেখানে না হয় ওরা শ্রদ্ধা জানাক। অতিথিদের যাতে অসুবিধা না হয় তা দেখতে বলেছি।"

নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে নেতাই নিয়েও। ২০১১ সালে ৭ জানুয়ারি জঙ্গলমহলের নেতাই গ্রামে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। সিপিএম নেতা রথীন দন্ডপাতের বাড়ি থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাতে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। বাম আমলের শেষ দিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়। তৃণমুল ক্ষমতায় আসার পরে প্রতি বছর ওই দিনটি নেতাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠান আয়োজন করে৷ দলের তরফ থেকে এই অনুষ্ঠানে হাজির থাকতেন প্রতি বছর শুভেন্দু অধিকারী। কখনও কখনও তৃণমুল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়, দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাজির থেকেছেন। এবার সেই অনুষ্ঠান নিয়েও শুরু রাজনৈতিক লড়াই।

রবীন দণ্ডপাতের বাড়ি। এখান থেকেই চলেছিল গুলি। রবীন দণ্ডপাতের বাড়ি। এখান থেকেই চলেছিল গুলি।

৭ জানুয়ারি সেখানে সভা করবেন সদ্য তৃণমুল ত্যাগী, অধুনা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমুলের তরফ থেকে হাজির থাকবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া মদন মিত্র হাজির থাকবেন। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তিনি সারাবছর যোগাযোগ রাখেন নেতাইয়ের মানুষের সাথে। বিপদে তিনি পাশে ছিলেন। অন্যদিকে তৃণমুলের ব্যাখ্যা লড়াই চালিয়েছে দল। সেই বার্তা দেওয়া হবে সেদিনের শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান থেকে। নন্দীগ্রামের পরে নেতাই নিয়ে একই দিনে তৃণমুল বনাম বিজেপির হাই ভোল্টেজ সভা ঘিরে সরগরম অবিভক্ত মেদিনীপুর।একই রাজনৈতিক লড়াই শুরু নন্দীগ্রাম ঘিরেও। আগামী ৭ জানুয়ারি সভা করবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই দিন ভোর বেলা নন্দীগ্রামে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা সভা করবে বিজেপিও। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, "আগামী ৮ তারিখ শক্তি দেখাব। লাখো মানুষের ভিড় হবে ওখানে।"

বিজেপির নন্দীগ্রামের সভায় দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাশ বিজয়বর্গী উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আগেভাগেই নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, "আমাদের সভায় আপনারা সবাই আসবেন। যদি কেউ আপনাদের আটকায় তাহলে আমাকে ফোন করবেন। আমি পৌছে যাব।" বিজেপি লাখো মানুষের সমাবেশের কথা বললেও, টিপ্পনি শুনিয়েছেন নন্দীগ্রামের তৃণমুল নেতা আবু সুফিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, "নন্দীগ্রামের কোনও মানুষ ওই দিন যাবে না। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে লোক নিয়ে আসবে ওরা।" ফলে নেতাই ও নন্দীগ্রাম নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই।এরই মধ্যে জঙ্গলমহলে আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ আগামীকাল হুড়কা জ্যামের ডাক দিয়েছে। ফলে ৭ জানুয়ারি রাজনৈতিক লড়াইয়ে জমজমাট জঙ্গলমহল।

Published by: Arka Deb
First published: January 6, 2021, 12:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर