'ভারত মাতার জয় শুনলেও দিদি রেগে যান', ডবল ইঞ্জিন সরকারের ডাক দিয়ে হলদিয়ায় মোদি

'ভারত মাতার জয় শুনলেও দিদি রেগে যান', ডবল ইঞ্জিন সরকারের ডাক দিয়ে হলদিয়ায় মোদি
হলদিয়ার জনসভায় নরেন্দ্র মোদি।

উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখলেন ত্রিপুরাকে। তাঁর মতে ত্রিপুরায় কাজ হচ্ছে জেট গতিতে।

  • Share this:

    #হলদিয়া: সিপিএম অত্যাচার করেছে, মমতা দিয়েছেন নির্মমতা, বাংলায় চাই ডবল ইঞ্জিন সরকার। এভাবেই হলদিয়ার প্রথম রাজনৈতিক  জনসভার  সুর বাঁধলেন নরেন্দ্র মোদি। উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখলেন ত্রিপুরাকে। তাঁর মতে ত্রিপুরায় কাজ হচ্ছে জেট গতিতে। চাইলেন ডবল ইঞ্জিন সরকারে মানুষের নিরঙ্কুশ সমর্থন।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় প্রথম রাজনৈতিক জনসভা, পাশাপাশি সরকারি শিলান্যাস অনুষ্ঠান। বিজেপি বলছে দু লক্ষ লোক অন্তত হাজির জনসভায়। সভামঞ্চে উঠে মোদি সুরটা বাধার সময়ে অভিভাবকের সুরে কথা শুরু করলেন। তাঁর মুখে এল উত্তরাখণ্ডের ধসের কথা। বললেন উত্তরাখণ্ডের মানুষ বিপদে। ক্ষতির খবর পাচ্ছি। উত্তরাখণ্ডের জন্য আমি প্রার্থনা করছি, গোটা বাংলা প্রার্থনা করছে।

    এদিন ঠিক আগের মতোই বাংলায় বলা শুরু করেন মোদি। মেদিনীপুরের স্তুতি করে তিনি বলেন, মেদিনীপুরের এই পবিত্র মাটিতে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। শহিদ মা মাতঙ্গিনী, বিপ্লবী ক্ষুদিরামের রক্তে রক্তিম হয়েেছে এই ভূমি। এই মাটিতে তৈরি হয়েছিল তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। এই মাটির বীর সন্তান বিদ্যাসাগর মহাশয়। সতীশ সামন্তের মাটিতে এসে ধন্য মনে করছি।


    তৃণমূল বিরোধিতা করতে গিয়েই আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গ। ভিক্টোরিয়া প্রসঙ্গ না আনলেও এ দিন কথায় কথায় নরেন্দ্র মোদি সুর চড়িয়ে বলেন, আপনি দিদির থেকে আপনার অধিকার চান মমতা রেগে যান।ভারতমাতার জয় বললেও মমতা রেগে যান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মমতা রুষ্ট হয়েছিলেন জয় শ্রীরাম স্লোগানে।

    কৃষি আইনের বিরোধিতায় দেশজুড়ে চলতে থাকা নৈরাজ্যই যে মাথাব্যথা তা ধরা পড়ল মোদির কথাতেই। ক্রমেই মোদি বলে  চলেন, "দেশকে বদনাম করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। ভারতের ছবিটা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। ভারতে হামলা করারও ষড়যন্ত্র চলছে। যোগের মতো পবিত্র জিনিসকেও হামলা করার কথা হচ্ছে। দিদি এই নিয়ে কিছু বলেন না। আমি বলছি দেশ এই ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে।"

    মোদিক কটাক্ষ, "মা মাটি মানুষের কথা বলেন যারা, তাদের মনে ভারত মাতার জন্য গলা তোলার সাহস নেই। রাজনীতিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন ওরা। প্রশাসনের রাজনীতিকরণ হয়ে গিয়েছে।"

    মোদির কথায় এল মরিচঝাঁপি প্রসঙ্গও। তিনি বললেন, ওই ঘটনা এই দেশ কখনও ভুলবে না। নন্দীগ্রামে যারা গুলি চালাল, যারা গরিবের রক্ত নিয়েছিল, আপনি তাদের কেন নিচ্ছেন। মমতার সরকারকে বিঁধতে মোদি এদিনও  আমফান দুর্নীতিও টানলেন মোদি। বললেন, "বাংলার জন্য কেন্দ্র যে পয়সা পাঠিয়েছিল, সেই পয়সা কোথায় গিয়েছে সবাই জানে। আদালতও এর নিন্দা করেছে।"

    মোদির কথায়, "করোনার সময়েও করোনার টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়নি। মোদি বলছিলেন, করোনার কথাই ভাবুন, গোটা বিশ্ব এতে প্রভাবিত হয়েছে। কেন্দ্র সেই সময়েই পশ্চিমবঙ্গ-সহ সবার জন্য রেশনের ব্যবস্থা করেছিল। সেই রেশনও এখানকার সরকার পৌঁছে দিতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে করোনার সময়েও কেন্দ্রের পাঠানো পিএম সম্মাননিধির কোটি কোটি টাকা পায়নি।"

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই মোদি ইতিহাসের দ্বারস্থ হন। বলেন, গোলামির দিনগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দেশের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা রাজ্য ছিল। এখানে সব ধরনের পরিকাঠামো তখনও মজুত ছিল। এখানের কৃষিজীবিরা পরিশ্রমী, জমি উর্বর। আজও বাঙালি যে সম্মান পায়, তা সেই অততীতের জন্য। কিন্তু কেন আমরা সেইটা ধরে রাখতে পারলাম না‌? হলদিয়ই বা কেন বন্দর হিসেবে পিছিয়ে পড়ল অন্য রাজ্যের তুলনায়? মোদি বলছেন, এখানে আধুনিকতা চাই। বদল চাই। কিন্তু সরকার কত কারখানা খুলেছে? পশ্চিমবঙ্গ আটকে আছে রাজনীতির ফাঁসে। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট, তৃণমূল তিনটি দলই বাংলাকে পিছিয়ে দিয়েছে।

    পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে তৃণমূল এসেছিল। মোদি সেই সময়ের কথা উল্লেখ করেন এদিনের বক্তৃতায়। বলেন, সেই  ২০১১ সালে মমতাকে মানুষ ভরসা করেছিল। বাংলা মমতার আশায় বাঁচছিল। মমতা নয় বাঙালি পেয়েছে নির্মমতা। তৃণমূল সরকার সুদ সমেত সিপিএম। কৃষক সুবিধে পায়নি, কারখানায় তালা পড়েছে।

    একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাসে হলদিয়ায় এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রকল্প হোক বাজেট-সবেই যে তাঁর নজরে বাংলা, বুঝিয়ে মোদি বলছিলেন, রাণীচকের আধুনিক ফ্লাইওভার, ডক কমপ্লেক্স পড়শি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সুবিধে দেবে। ধোবি দুর্গাপুর গ্যাসলাইনের ফলে অনেকগুলি জেলায় পিএনজি এবং সিএনজি পৌঁছে দেওয়াও যাবে। গোটা পূর্বভারত আরও সহজে এলপিজি গ্যাস পাবে। এখানে আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণনই আমাদের লক্ষ্য। কলকাতায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার মেট্রো প্রজেক্ট চলছে। এবার তা আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ-পাঞ্জাব যুক্ত করার ফ্রেট করিডর হচ্ছে। খড়্গপুর-বিজওয়াড়া করিডরও হচ্ছে। গত বারের তুলনায় পঁচিশ শতাংশ বেশি খরচ করা হবে। চাবাগানের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

    Published by:Arka Deb
    First published: