উমারাই এই পুজোয় ব্রাত্য, নাড়াজোল রাজবাড়ির প্রাচীন পুজো

পুজো হয় উমার। কিন্তু বাস্তবের উমারাই এই পুজোয় ব্রাত্য। মণ্ডপে মণ্ডপে যখন মহিলারা পুষ্পাঞ্জলি দিতে ভিড় করেন, দাসপুরের নাড়াজোল রাজবাড়ির মহিলাদের তখন মন খারাপ।

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 10, 2019 03:42 PM IST
উমারাই এই পুজোয় ব্রাত্য, নাড়াজোল রাজবাড়ির প্রাচীন পুজো
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 10, 2019 03:42 PM IST

#মেদিনীপুর: পুজো হয় উমার। কিন্তু বাস্তবের উমারাই এই পুজোয় ব্রাত্য। মণ্ডপে মণ্ডপে যখন মহিলারা পুষ্পাঞ্জলি দিতে ভিড় করেন, দাসপুরের নাড়াজোল রাজবাড়ির মহিলাদের তখন মন খারাপ। ৬০৬ বছরের প্রাচীন পুজোর নিয়ম ভাঙার সাহস দেখাননি কেউ।

দুর্গাপুজো এলেই প্রাচীন রাজবাড়িগুলোর অন্দরে বিশ্বাস আর জনশ্রুতিগুলো ঘোরাফেরা করে । রঙিন শার্সিতে বারবার মুখ দেখে আড়ম্বর। সময়ের অভ্যাসে জাঁকজমক কখনও টাল খায়। তবে নিয়মের চোখরাঙানি থামে না। নিয়ম আর উপাচারের কড়া শাসনে মাতৃ আরাধনা পূর্ণ হয়। যেমন, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের নাড়াজোল রাজবাড়ি। দুর্গামন্দিরের আনাচ কানাচে আগমনীর সুর। আগমনীর সুরেও কোথাও মন খারাপ বাড়ির মহিলাদের। পুজোয় যে তাঁরাই অংশ নিতে পারেন না।

কথিত আছে, ৮২০ বঙ্গাব্দে তৎকালীন রাজার নায়েব উদয়নারায়ণ ঘোষ পুজো শুরু করেন। তাঁর আদি বাড়ি ছিল বর্ধমানে। নাড়াজোলের জঙ্গলে শিকারে এসে অষ্টধাতুর মূর্তি পেয়ে পুজো শুরু করেন। পরে খান উপাধি পান রাজবংশের সদস্যরা। দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠা করেন রাজবাড়ির তেরোতম রাজা চুনিলাল খান। রাজ পরিবারের এই অষ্টধাতুর মূর্তি আজও আছে। সঙ্গে লক্ষ্মী-স্বরস্বতী, গণেশ-কার্তিক নেই। এও শোনা যায়, দুষ্কৃতীরা তিনবার চুরির চেষ্টা করেছিল এই মূর্তি। কিন্তু, মূ্র্তি জঙ্গলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।এখনও সপ্তমীর দিন ঘট আনতে যাওয়ার সময় রাজবাড়ির দুই সদস্য রক্ষীর ভূিমকায় থাকেন। সপ্তমী- দশমী হোমের আগুন নেভে না। বিশেষত্ব রাজবাড়ির সন্ধিপুজোতেও।

নাড়াজোল রাজ পরিবারের নাম জড়িয়ে দেশস্বাধীনের ইতিহাসেও। সতেরোতম রাজপুরুষ নরেন্দ্রলাল খান ছিলেন দেশপ্রেমিক। জওহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু অনেকেই আসতেন। এমনকী আলিপুর বোমা মামলায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আঠেরো দিন জেলে ছিলেন নরেন্দ্রলাল খান। এখন রাজ বাড়ির পুজোয় খরচ কমেছে অনেকটা। পুজোর ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে প্রাচীন রাজবাড়ি।

First published: 03:41:24 PM Sep 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर